চট্টগ্রামে ফিশিং বোটে লাইসেন্স নিয়ে দুর্নীতি
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
অনিবন্ধিত ২৫ হাজার বোট সাগরে

মুহাম্মদ নিজামউদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস

সাগরে ফিশিং বোটে লাইসেন্স প্রদানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। নৌ-বাণিজ্য দপ্তরের রেজিস্ট্রেশনবিহীন ফিশিং বোটে সাগরে মাছ ধরার জন্য লাইসেন্স দিচ্ছে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থা। সামুদ্রিক মত্স্য দপ্তর ও নৌ-বাণিজ্য দপ্তরের মধ্যে কাজের সমন্বয় না থাকায় লাইসেন্স নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ। সাগরে মাছ ধরার জন্য সামুদ্রিক মত্স্য দপ্তর থেকে লাইসেন্স নিলেও নৌবাণিজ্য দপ্তরের রেজিস্ট্রেশন নেই এ ধরনের প্রায় ২৫ হাজার অবৈধ ফিশিং বোট সাগরে চলাচল করছে। অবৈধ বোটগুলোর বিরুদ্ধে সরকারি একাধিক তদারকি সংস্থা থাকলেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে সমুদ্রে যত্রতত্র মাছ আহরণ, ইয়াবা ও মানব পাচারের মতো অপরাধে অবৈধ বোটের সংশ্লিষ্টতার ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ও জরাজীর্ণ বোট থেকে তেল নিঃসরণ হয়ে সাগরের পানি দূষণ করছে।

সাগরে মাছ আহরণে কাঠের তৈরি ও স্টিলের তৈরি ফিশিং বোট নিয়োজিত রয়েছে। এসব বোট সাগরে চলাচলের জন্য প্রথমে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তরে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। পরে সাগরে মাছ আহরণের জন্য আবার সামুদ্রিক মত্স্য দপ্তর থেকে লাইসেন্স নিতে হয়। বোটের রেজিস্ট্রেশন না থাকলে মাছ আহরণের লাইসেন্স দেয়া যায় না। সরকারি এই দুই সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতায় ফিশিং বোটের ব্যবহার নিয়ে চরম বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। যত্রতত্র মাছ আহরণে সাগরে মাছের মজুদ কমে যাচ্ছে। কোস্টগার্ডের বিভিন্ন অভিযানে অপরাধমূলক কাজে অবৈধ ফিশিং বোটের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হচ্ছে।

সাগরে কত সংখ্যক ফিশিং বোট চলাচল করছে তার কোনো পরিসংখ্যান সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে নেই। সংস্থা দু’টির মধ্যে তথ্যের বিরাট পার্থক্য রয়েছে। নৌ-বাণিজ্য, দপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয় সূত্র জানায়, তাদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন নিয়েছে এ ধরনের ফিশিং বোটের মধ্যে কাঠের বোট রয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার আর স্টিলের তৈরি ট্রলার রয়েছে ২০৫টি। সামুদ্রিক মত্স্য দপ্তর থেকে সাগরে মাছ ধরার জন্য লাইসেন্স নিয়েছে এ ধরনের কাঠের তৈরি যান্ত্রিক নৌযান রয়েছে ৩৪ হাজার ৮৫৯টি ও স্টিলের তৈরি ট্রলার রয়েছে প্রায় ২৪৭টি। এছাড়া কাঠের তৈরি অযান্ত্রিক প্রায় ৩২ হাজার ৮১২টি নৌযান উপকূলীয় এলাকায় কাছাকাছি মাছ আহরণে নিয়োজিত রয়েছে বলে মত্স্য দপ্তর সূত্র জানায়। সাগরে রেজিস্ট্রেশনবিহীন অবৈধ ফিশিং বোট সম্পর্কে জানতে চাইলে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম কার্যালয়ের প্রিন্সিপাল অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন না নিয়ে কাদের সহযোগিতায় সাগরে বোট চলাচল করছে তা খুঁজে বের করা দরকার। রেজিস্ট্রেশনের জন্য কেউ আসলে আমরা দিয়ে দিচ্ছি। এসব রেজিস্ট্রেশনবিহীন ফিশিং বোটের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য আমরা জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি।’

কোস্টগার্ড সাগরে চলাচলরত বিভিন্ন নৌযানের তদারকি করে থাকে। দিনে-রাতে কোস্টগার্ডের টহল অভিযানে ফিশিং বোটে মাছধরার আড়ালে ইয়াবা, অন্যান্য মাদকদ্রব্য পাচার ও চুরি-ডাকাতিতে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলছে। চাইলে কোস্টগার্ডের লেঃ ডিকসন ইত্তেফাককে বলেন, ‘অবৈধ বোট অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার হচ্ছে। রেজিস্ট্রেশনবিহীন ও লাইসেন্স নবায়ন করেনি এ ধরনের অনেক বোট রয়েছে। সাম্পানগুলো রেজিস্ট্রেশন ছাড়া চলাচল করছে। এগুলো উপকূলীয় এলাকার কাছাকাছি চলাচল করে। সকল নৌযানকে লাইসেন্সের আওতায় আনা গেলে সাগরে অপরাধ হ্রাস পাবে।’

নৌ-বাণিজ্য দপ্তর ও সামুদ্রিক মত্স্য দপ্তরের কার্যক্রমে ব্যাপক ত্রুটি রয়েছে। এসব সংস্থার জনবলের সংকটের কথা বলা হলেও কর্মরতদের পরোক্ষ সহযোগিতায় সাগরে অবৈধ নৌযান চলাচল বেড়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ নৌযানকে ফিটনেস সার্টিফিকেট দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। আবার লাইসেন্স নবায়ন না করে বছরের পর বছর সাগরে চলাচল করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এছাড়া রেজিস্ট্রেশনবিহীন নৌযানকে মত্স্য দপ্তর কিভাবে মাছ ধরার লাইসেন্স দিচ্ছে তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এসব বিষয় তদারকি করার জন্য সামুদ্রিক মত্স্য দপ্তর, চট্টগ্রাম কার্যালয়ে পর্যাপ্ত জনবল রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় বিভিন্নস্থানে কাঠের ফিশিং বোট তৈরি করে সাগরে মাছ ধরার কাজে নামানো হচ্ছে। চলাচলরত সকল নৌযানকে লাইসেন্সের আওতায় আনা গেলে সরকারের রাজস্ব আয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। ফিশিং বোট নিয়ে এলাকাভিত্তিক একাধিক বোট মালিক সমিতি রয়েছে। সামুদ্রিক মত্স্য আহরণকারী বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক বাবুল সরকার ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, ‘আমাদের সমিতির ৪০০ সদস্যের মালিকানায় ৭০০ থেকে ৮০০ ফিশিং বোট রয়েছে। সবগুলো রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত। অপরাধমূলক কাজের সাথে সমিতির আওতাভুক্ত বোটের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নেই।

কাঠের তৈরি বোট সাধারণত ১০ থেকে ১২ বছরের বেশি টেকসই হয় না। কিন্তু দেখা গেছে, হাজারো মেয়াদোত্তীর্ণ ও জরাজীর্ণ ফিশিং বোট সাগরে চলাচল করছে। এসব বোটের ফিটেনস সার্টিফিকেট নবায়ন করা হয়নি। একটি ফিশিং বোট সাগরে মাছ আহরণের জন্য আসা-যাওয়া করতে প্রায় এক হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। ত্রুটিপূর্ণ নৌযান থেকে সাগরে জ্বালানি তেল নিঃসরণ পানিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:১০
যোহর১২:১৩
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৪
সূর্যোদয় - ৬:২৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
পড়ুন