ইসি ভবনে প্রবেশে অভূতপূর্ব কড়াকড়ি
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
সাইদুর রহমান

আগারগাঁওস্থ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নতুন ভবনে সর্বসাধারণের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। নির্বাচন ভবনের প্রতিটি ফ্লোর কাঁচ দিয়ে ঘিরে ফেলা হচ্ছে। প্রতি ফ্লোরে থাকছে ফিঙ্গার প্রিন্টের ব্যবস্থা। আগামীতে অনুমতি ছাড়া কেউ নির্বাচন ভবনে প্রবেশ করতে পারবেন না। আগামী ১লা মার্চ থেকে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইসির সংশ্লিষ্টরা। এদিকে দ্রুত ইসির নতুন ভবনে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ স্থানান্তর করা হচ্ছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনে অবস্থিত বর্তমান অফিস ছেড়ে আগামী মাসে নতুন নির্বাচন ভবন ও ইটিআই ভবনে স্থানান্তর হবে এনআইডি।

নির্বাচন ভবনের নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, ইসির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার অংশ হিসাবে প্রতি ফ্লোরে ফিঙ্গার প্রিন্ট থাকবে। ভিজিটরদের জন্য আলাদা কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো ভিজিটর নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাত্ ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। অনুমতি নিয়ে যে কেউ ভবনে প্রবেশ করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ১১ তলাবিশিষ্ট ‘নির্বাচন ভবনের’ প্রতিটি ফ্লোরে থাকছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই বিশেষ নিরাপত্তার কারণে সর্বসাধারণ দূরের কথা ইসির নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নির্বাচন ভবনের সব ফ্লোরে প্রবেশের অনুমতি পাবেন না। প্রতিটি ফ্লোরে আলাদা আলাদা ফিঙ্গার প্রিন্টের ব্যবস্থা থাকবে। সংশ্লিষ্ট ফ্লোরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছাড়া অন্য ফ্লোরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রবেশ করতে পারবেন না। প্রতিটি ফ্লোর কাঁচ দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। প্রতিটি ফ্লোরের দু’পাশে প্রবেশের জন্য দু’টি দরজা থাকছে। এই দরজায় বসানো হচ্ছে ফিঙ্গার প্রিন্টের মেশিন। ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় প্রবেশে বেশি কড়াকড়ি থাকবে। কারণ চতুর্থ ফ্লোরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব এবং পঞ্চম তলায় চার নির্বাচন কমিশনারের দপ্তর। নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে গোপনীয়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের ইতিহাসের এতো ‘কঠোর নিরাপত্তা’ আগে ছিল না।

বঙ্গভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ করে সচিবালয়ে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডধারী সাংবাদিকরা সহজে প্রবেশ করতে পারেন। সচিবালয়ের যে কোনো কক্ষে অনুমতি সাপেক্ষে প্রবেশের সুযোগ পান। কিন্তু ‘নির্বাচন ভবনে’ সাংবাদিকদের অবাধ বিচরণ আগামীতে আর থাকছে না। এমনকি বর্তমান নির্বাচন কমিশনাররা গণমাধ্যমে কথা বলতে নারাজ। গণমাধ্যম কর্মীরা কয়েক দফা নির্বাচন কমিশনারদের সাক্ষাত্ চেয়ে না পেয়ে ফিরে গেছেন। ইসির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত নতুন কমিশনের ভাবনা-সপ্তাহে একদিন গণমাধ্যমে কথা বলবেন ইসির ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিরা। এজন্য ইসিতে যে মিডিয়া সেন্টার করা হয়েছে সেটি মূল ভবনের গেটে (নিচতলায়)। ওই মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকরা অবস্থান করতে পারবেন। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে চাইলে পূর্বে অনুমতি লাগবে। সংশ্লিষ্ট ফ্লোরে কর্মরতদের অনুমতি সাপেক্ষে ওই ফ্লোরে প্রবেশ করতে পারবেন মাত্র। কোনো ফ্লোরে অতিরিক্ত ভিড় জমাতে দেবেন না ইসির নিরাপত্তাকর্মীরা।

ইসির সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আরো বলেন, মূল ভবনের ন্কশা অনুযায়ী নিরাপত্তা রক্ষা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত বা বাড়তি কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাজিরা নিশ্চিত করার জন্য ফিঙ্গার প্রিন্টের ব্যবস্থা থাকছে। সাংবাদিকদের প্রবেশের বিষয়ে বলেন, এ বিষয়ে আমরা ভাবছি। আশাকরি, সাংবাদিকদের প্রবেশে তেমন সমস্যা হবে না।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ কেএম নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে পাঁচ সদস্য নির্বাচন কমিশন গঠন করেন। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন, মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বহুতল ভবনটির উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি দীর্ঘ ৪৩ বছর পরিকল্পনা কমিশনের ৫ ও ৬ নম্বর ব্লক ছেড়ে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের জন্য নির্মিত ‘নির্বাচন ভবনে’ স্থানান্তর হয় বিদায়ী রকিব কমিশন। আর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ভবনে কার্যক্রম শুরু করেন নবনিযুক্ত ইসি।

জুলাই ২০১১ থেকে জুন ২০১৭ মেয়াদে বাস্তবায়নে কন্ট্রাকশন অব ইলেকশন রিসোর্সেস সেন্টার (ইআরসি) প্রকল্পের আওতায় নির্বাচন কমিশনের ভবন নির্মাণে ব্যয় হয় ২১৩ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় দুটি বেইজমেন্ট ও ১২তলা বিশিষ্ট ১.২২ লক্ষ বর্গফুট আয়তনের ইটিআই ভবন এবং দুটি বেইজমেন্ট ও ১১তলা বিশিষ্ট ২.৫৮ লক্ষ বর্গফুট আয়তনের নির্বাচন ভবন নির্মাণ করা হয়।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:১০
যোহর১২:১৩
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৪
সূর্যোদয় - ৬:২৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
পড়ুন