সুরঞ্জিতের আসনে হাল ধরছেন কে
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
কেন্দ্রে জোর লবিং

হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী, সিলেট অফিস

আগামী ৩০ মার্চ সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) শূন্য আসনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বহুল আলোচিত এই আসনের উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার তারিখ ২ মার্চ, যাচাই-বাছাই ৫-৬ মার্চ, প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৩ মার্চ।  গত সোমবার এই ঘোষণার পর থেকে এলাকায় নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। অনেকেই প্রার্থিতার জন্য নড়ে-চড়ে বসেছেন।  সূত্র জানায়, কেন্দ্র থেকে খুব শিঘ্রই দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা হবে। এদিকে কেন্দ্র জোর লবিং শুরু হয়ে গেছে।

এই আসনটিতে বরাবর হেভিওয়েট দুপ্রার্থী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও বিএনপির নাসির উদ্দিন চৌধুরীর মধ্যে লড়াই জমতো। কিন্তু এবার সুরঞ্জিত না থাকায় সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা নাসির চৌধুরী কি এবার ফাঁকা মাঠেই গোল করবেন? এমন প্রশ্ন অনেকের।  তবে বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি না সেই সংশয় থেকে এখনই বলা যাচ্ছে না নাসির কি করবেন। অনেকেই আবার বলছেন নাসির চৌধুরী দলীয় ফোরামের বাইরে থেকে স্বতন্ত্র  প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবেন। তবে নাসির চৌধুরী গত মঙ্গলবার রাতে ইত্তেফাককে বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত, আমার সিদ্ধান্ত। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে আমি নির্বাচনে যেতে পারি না।’   

গত ৫ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য বিশিষ্ট পার্লামেন্টেরিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মারা গেলে ৭০ সাল থেকে গড়া তার এই দুর্গটি শূন্য হয়ে পড়ে। কেবল ৯৬ সালে বিএনপি প্রার্থী নাসির উদ্দিন চৌধুরী সুরঞ্জিতকে হারান। অবশ্য তখন সুরঞ্জিত হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে উপ-নির্বাচন করে জয় নিয়ে বেরিয়ে আসেন। ৭৩ সালে আরো একবার প্রয়াত নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ সুরঞ্জিতকে পরাজিত করেছিলেন। ৮৯ সালের নির্বাচনের পর নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ে গোলাম জিলানী চৌধুরী জয় লাভ করেন। কিন্তু সুরঞ্জিত এ সময় সংসদের পুরো মেয়াদই ভোগ করেন। জিলানীর ভাগ্যে আর সংসদে যাওয়া হয়নি, এরশাদের সামরিক শাসন জারির কারণে। 

৭ বারের এমপি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। বলতে গেলে সুনামগঞ্জ-২ আসনটি যেন তারই ছিল।

এদিকে তার মৃত্যুর পর পরই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে সুরঞ্জিতের আসনে কে আসছেন তার উত্তরসূরী হয়ে। শুরুতেই তার পরিবারে সদস্যদের মধ্যে একমাত্র ছেলে সৌমেন সেনগুপ্ত ও সুরঞ্জিতের স্ত্রী ড. জয়া সেনগুপ্তের নাম উঠে আসে। তবে সুরঞ্জিতের পরিবারে কেউই এ বিষয়ে কোনো  আগ্রহ দেখাননি। এরপর ধীরে ধীরে আরো অনেকের নাম চলে আসে। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ছেলে সৌমেন সেনগুপ্ত গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন, তার বাবার অবর্তমানে তাদের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বা তার মা দিরাই-শাল্লায় নির্বাচন করবেন কি না তার সিদ্ধান্ত নিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন  জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি মতিউর রহমান। তিনি গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, আমি এই আসনের জন্য দলের কাছে মানোনয়ন চাইবো। কারণ এখানে আমার দাবি বেশি। সুনামগঞ্জ-২ আসনের মাটি ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আমার গভীর। এর আগেও সংসদ নির্বাচনে এই আসনের জন্য আমি তিনবার মানোনীত হয়েছি। দলের স্বার্থে সেক্রিফাইজ করেছি।

আলোচিত এই আসনের জন্য অন্য যেসব নেতার নাম উঠে এসছে তারা হচ্ছেন: জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সমপাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, দিরাইয়ের হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুনামগঞ্জ মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সমপাদক শহীদ তালেব উদ্দিনের ভাই সিলেট মহানগর  আওয়ামী লীগের দপ্তর সমপাদক অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. শামছুল ইসলাম, দিরাই পৌরসভার সাবেক মেয়র দিরাই পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান বুলবুল, যুক্তরাজ্য আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের নির্বাহী সদস্য দিরাই উপজেলার বাউশি গ্রামের বাসিন্দা ব্যারিস্টার অনুকুল তালুকদার ডাল্টন ও উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা যুক্তরাজ্য শ্রমিক লীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামছুল হক চৌধুরী।

সূত্র জানায়, দিরাই-শাল্লার উপ-নির্বাচনে প্রার্থীর বিষয়ে  উপজেলা আওয়ামী লীগ সভা করে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে জেলা নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন পাঠানোর কথা ইতোমধ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের জানানো হয়।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:১০
যোহর১২:১৩
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৪
সূর্যোদয় - ৬:২৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
পড়ুন