এ মাসেই মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাবে উ. কোরিয়া!
১১ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
আগুনের শক্তি কতটা দেখিয়ে দেব :ট্রাম্প

ইত্তেফাক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি স্বত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়ামের কাছাকাছি এলাকায় তারা চারটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ’র খবরে বলা হয়েছে, কিম জং-উন যদি এই পরিকল্পনা পাশ করলে হুয়াসং-১২ রকেট জাপানের ওপর দিয়ে গুয়াম থেকে ৩০ কিলোমিটার (১৭ মাইল) দূরে সাগরে গিয়ে পড়বে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আবার পারমাণবিক হামলার হুমকি দিলে উত্তর কোরিয়াকে সমুচিত জবাব দেয়া হবে। এমনভাবে তাদের মোকাবেলা করা হবে যা বিশ্ব এর আগে কখনো দেখেনি। এরপরই উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গুয়ামে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে পিয়ংইয়ং যদি কোনো যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় তাহলে দেশটির ওপর ‘সর্বশক্তি প্রয়োগ করা হবে’। উত্তর কোরিয়ার হুমকিমূলক যেকোনো পদক্ষেপ হবে তাদের নিজেদের ‘শাসনক্ষমতা শেষ হতে দেখা’। দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক বাহিনী বলেছে, দ্রত সময়ের মধ্যে পাল্টা জবাব দিতে তারা প্রস্তুত। আর চীন সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহবান জানিয়ে বলেছে, এখনকার পরিস্থিতি খুবই জটিল ও স্পর্শকাতর। অন্যদিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নতুন নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) উত্তর কোরিয়ার নয় ব্যক্তি ও দেশটির ফরেন ট্রেড ব্যাংকসহ চারটি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জব্দ করেছে। খবর:বিবিসি ও সিএনএন’র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকিকে পাত্তা না দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে গুয়ামের কাছে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হবে। উত্তর কোরিয়ার রকেট কমান্ডের প্রধান এমন একজন জেনারেল এমন ঘোষণা দেন। গুয়াম যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি বড় ঘাঁটি। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর ঘর বলা হয় গুয়ামকে। সেখানে রয়েছে ৭ হাজার মার্কিন সেনা। আর সেখানে রয়েছে এক লাখ ৬০ হাজার মানুষের বসতি। উত্তর কোরিয়ার দাবি এখন সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। শুধু নেতা কিম জং উনের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষায় তারা। তবে সত্যিই উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ভূখন্ডের কাছাকাছি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঝুঁকি নেবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। যদি বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার এমন হুঁশিয়ারিকে ‘বাগাড়ম্বরপূর্ণ’ মনে করছেন অনেকে। কারণ সেখানকার অনেক মানুষ মনে করেন যদি সত্যিই এমন ধরনের হামলা করে উত্তর কোরিয়া তাহলে সেটি হবে আত্মঘাতী একটি কাজ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। কারণ কোনো পক্ষই এখন যুদ্ধ চাইছে না। কারণ কোরিয়া উপদ্বীপে একটি যুদ্ধ কারো জন্যই কোনো সুবিধা বয়ে আনবে না। উত্তর কোরিয়ায় ক্ষমতাসীনদের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে ক্ষমতায় টিকে থাকা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি যুদ্ধ বেধে গেলে ক্ষমতার আসন নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনও এমন কোন ঝুঁকিতে যেতে চায় না, যার ফলে আমেরিকান ভূখণ্ডে কোন পারমাণবিক হামলা হতে পারে। এখনো কূটনীতিকরা আশা করছেন, রাশিয়া আর চীনের সহায়তায় উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার টেবিলে আনা যাবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ আগষ্ট, ২০২০ ইং
ফজর৪:১১
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৩৮
এশা৭:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৩২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৩
পড়ুন