হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়াতে চান অর্থমন্ত্রী
১১ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
সরকারি প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা বাড়ানোর পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়াতে চান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, আমি চাই দুই সিটি করপোরেশনে হোল্ডিং ট্যাক্স পুনঃনির্ধারণ করা হোক। এ বিষয়ে দুই মেয়রের সঙ্গে কথা হয়েছে। বর্তমানে দুই সিটি করপোরেশনের এই ট্যাক্স অনেক কম। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে আর্থিক নীতির স্বচ্ছতা বিষয়ক এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।  গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউট (পিআরআই) ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের উপ-প্রধান জোয়েল রিফম্যান ছাড়াও অর্থনীতিবিদ ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা এতে বক্তব্য রাখেন। সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআই নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর।

নিজের উদাহরণ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, বনানীতে ১৪ কাঠার তার নিজের একটি বাড়ি রয়েছে। সেখানে বছরে হোল্ডিং কর আসে ১১ হাজার টাকা। বিভিন্ন রেয়াত বাদ দিয়ে তাকে পরিশোধ করতে হয় ছয় হাজার টাকা। এটি বর্তমান সময়ের বিবেচনায় অনেক কম। সর্বশেষ ১৬ বছর আগে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ হয়েছিল। তিনি বলেন, বাজেটে অর্থের যোগানের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার এখনো শিশু।

আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়ে পিআরআইকে একটি গবেষণাকর্ম চালিয়ে তা প্রতিবেদন আকারে দেওয়ারও প্রস্তাব দেন মন্ত্রী। তবে তিনি বলেন, ওই প্রতিবেদনের আলোকে আগামী ২০২০ সালের আগে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে না।

জোয়েল রিফম্যান বলেন, মধ্যম আয়ের দেশে যেতে হবে; কিন্তু বাংলাদেশ যাতে মধ্যম আয়ের ‘ট্র্যাপে’ না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখাও জরুরি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থনীতিবিদরা সরকারের বাজেট ও আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনার তাগিদ দেন। তারা বলেন, এটি কেবল জনগণের তথ্যের জন্যই নয়, বরং সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করার জন্যও এটি প্রয়োজন। এ জন্য অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন।

মূল প্রবন্ধে ড. আহসান এইচ মনসুর সরকারি আয়-ব্যয়ের তথ্যের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরেন। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয়েও আরো স্বচ্ছতার প্রয়োজনের কথা বলেন তিনি।

অর্থনীদিবিদ ড. মামুন রশিদ বলেন, সরকারের বড় বড় প্রতিষ্ঠান বিশেষত বিজেএমসি (জুট মিলস কর্পোরেশন), বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন) বা পেট্রোবাংলার মতো প্রতিষ্ঠানের সঠিক নিরীক্ষা করা ও তা প্রকাশ করা দরকার।

বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরি বলেন, আর্থিক নীতির স্বচ্ছতার বিষয়টি অনেক বিস্তৃত। সরকারের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে এ প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়।

পিআরআইর চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তাসের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাবেক সচিব সোহেল চৌধুরী, জাকির আহমেদ খান, ড. মোহাম্মদ তারেক, মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ, পিআরআইর ভাইস চেয়ারম্যান ড. সাদিক আহমেদ প্রমুখ।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ আগষ্ট, ২০২০ ইং
ফজর৪:১১
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৩৮
এশা৭:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৩২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৩
পড়ুন