দেশীয় প্রতিষ্ঠানে তৈরি করা হবে স্মার্টকার্ড
১১ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠানকে ‘না’ বলে দিল ইসি

সাইদুর রহমান

উন্নতমানের স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র এখন থেকে দেশে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আপাতত বন্ধ থাকলেও আগামীতে দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) সহায়তায় স্মার্টকার্ড উত্পাদন করা হবে। এক্ষেত্রে বিএমটিএফকে সহযোগিতা করবে ‘টাইগার আইটি’ নামের একটি দেশীয় সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান। ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে সব ভোটারের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দিতে চায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। এতদিন স্মার্টকার্ড সরবরাহকারী ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান ‘ওবের্থার টেকনোলজিসে’র (ওটি) সঙ্গে সম্প্রতি সম্পর্কের ইতি টেনেছে নির্বাচন কমিশন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত ছয়মাস সময় বাড়ানোর আবেদন এবং ওই আবেদন বিবেচনার জন্য ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর চিঠিও আমলে নেয়নি কমিশন। 

এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কার্ড সরবরাহ করতে পারেনি ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠানটি। ছয়মাস সময় বাড়ানোর আবেদন করলেও কমিশন না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামীতে কমিশন নিজেরাই দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় স্মার্টকার্ড উত্পাদন করবে।

নির্বাচন কমিশনসূত্র জানায়, ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর ইনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস’ প্রকল্পের আওতায় ওবের্থার টেকনোলজিসের (ওটি) নামের ওই ফরাসী প্রতিষ্ঠান স্মার্টকার্ড সরবরাহ করার কাজ পেয়েছিল। ২০১৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ফ্রান্সের ওটির সঙ্গে ১০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (৮১৬ কোটি টাকার) চুক্তি করে ইসি। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে ৯ কোটি ভোটারের জন্য স্মার্টকার্ড উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে ব্যর্থ হওয়ার পর ওই চুক্তির মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু জুন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা পর্যায়ে মাত্র এক কোটি ৯৮ লাখ (১২ দশমিক ২০ শতাংশ) কার্ড পৌঁছাতে পেরেছে। জুন পর্যন্ত তারা ঢাকায় ব্ল্যাঙ্ক কার্ড পাঠিয়েছে ছয় কোটি ৬৩ লাখ ছয় হাজারটি। এর মধ্যে পারসোনালাইজেশন হয়েছে মাত্র এক কোটি ২৪ লাখ। এখনো ব্ল্যাঙ্ক কার্ড আসেনি দুই কোটি ৩৬ লাখ চার হাজার। এ পর্যন্ত ৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিল নিয়েছে কোম্পানিটি। আরো কমবেশি ৩০ মিলিয়ন ডলার পাওনা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন কার্ড সরবরাহে ব্যর্থতার জন্য ফরাসী প্রতিষ্ঠান ওটিকে দায়ী করেছে। এই অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ায় আপাতত ব্ল্যাঙ্ক কার্ড সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে ফরাসী প্রতিষ্ঠানটি চায় চুক্তি অন্তত চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হোক। এ জন্য তারা সরকারের উচ্চপর্যায়েও যোগাযোগ করছে। তবে নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্মার্টকার্ড দেওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির মাধ্যমে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে একাধিক নমুনা কার্ডও ইসিকে সরবরাহ করেছে।

গত ৩ জুলাই ইসি সচিবকে দেওয়া এক চিঠিতে প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ চুক্তি বাড়ানো বা শেষ করার বিষয়ে জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।

সর্বোচ্চ চেষ্টা ফ্রান্সের: জানা গেছে, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত সোফি অবার গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। সেদিন ফরাসী রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফ্রান্সের নতুন প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড ফিলিপের একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ফিলিপের লেখা ওই চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ওটি’র চুক্তির বিষয়টি নিয়ে শেখ হাসিনার মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছিল।

চিঠির সঙ্গে দেওয়া একটি নোটে বলা হয়, ব্যর্থতার জন্য মূলত দায়ী তাদের সাব কন্ট্রাক্ট পাওয়া প্রতিষ্ঠান টাইগার আইটি। তারা পারসোনালাইজেশনের কাজটি যথাযথভাবে করেনি এবং ওটিকে ইসির তথ্যভাণ্ডারে ঢোকার অনুমতিও দেয়নি। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আরো কিছু অভিযোগও তোলা হয়। ইসিতেও এক লিখিত অভিযোগে ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ১৮ মাসের মধ্যে ফ্রান্সের ওটি’র সব ব্ল্যাঙ্ক কার্ড প্রদানের কথা থাকলেও স্থানীয় সাব-কন্ট্রাক্টর প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। ওই প্রতিষ্ঠানের করা আবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের ‘ডিকেটর ইউরোপ’ ও বাংলাদেশের ‘টাইগার আইটি’ নামক প্রতিষ্ঠানের মতবিরোধের কারণে এটি সম্ভব হয়নি। কারণ ‘ডিকেটর ইউরোপ’ স্মার্ট এনআইডি ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের দায়িত্বে আর ‘টাইগার আইটি’ ভোটারের তথ্য পারসোনালাইজেশনের দায়িত্বে ছিল। অন্যদিকে ‘টাইগার আইটি’ও নির্বাচন কমিশনে এক লিখিত চিঠিতে ফ্রান্সের কোম্পানির বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ উপস্থাপন করেছে।

প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় ২০১১ সালের জুলাইয়ে ৯ কোটি ভোটারকে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১১ সালের জুলাইয়ে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। পাঁচবছর ব্যাপী প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৬ সালের জুনে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র স্মার্টকার্ড প্রদান ও বিতরণ প্রকল্পের মেয়াদ ১৮ মাস বাড়িয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে মূল প্রকল্প আইডিইএ’র মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ওই সময়ের পর এ প্রকল্পের মেয়াদ আর বাড়বে না বলে ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ আগষ্ট, ২০২০ ইং
ফজর৪:১১
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৩৮
এশা৭:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৩২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৩
পড়ুন