খায়রুল হকের বক্তব্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে :বার সভাপতি
১১ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সংবাদ সম্মেলনে দুই পক্ষের হট্টগোল

ইত্তেফাক রিপোর্ট

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেছেন, বিচারপতি খায়রুল হক ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। তিনি বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ে খায়রুল হক দুই মেয়াদে ওই সরকার পদ্ধতি রাখার পক্ষে মত দিয়ে সংক্ষিপ্ত আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ রায়ে তা বদলে দেওয়া হয়। যার ফলে ওই রায়ের মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। ভোটের অধিকার হারিয়েছে দেশের মানুষ।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে বিচারপতি খায়রুল হকের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে সমিতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বার সভাপতি। এদিকে আইনজীবী সমিতির ডাকা এই সংবাদ সম্মেলনে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। সম্মেলনে সমিতির কার্যকরী কমিটির বিএনপি ও সরকার সমর্থক নেতারা এক মঞ্চে বসলেও এতে উপস্থিত দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হৈচৈ ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। ওই হট্টগোলের মধ্যেই বক্তব্য রাখেন বার সভাপতি জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, বিচারপতি খায়রুল হক ষোড়শ সংশোধনীর রায়কে পূর্ব ধারণাপ্রসূত বলেছেন। কোনো প্রধান বিচারপতি কি এ কথা বলতে পারেন? খায়রুল হক মুন সিনেমা হলের জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত মামলার রায় দিতে গিয়ে সংবিধানের ৫ম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তাহলে আমাদেরও বলতে হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসহ তিনি অতীতে যেসব রায় দিয়েছিলেন তা-ও ছিল পূর্ব  ধারণাপ্রসূত। দুটি রায়কেই বিতর্কিত করেছেন খায়রুল হক। এ সময় সরকার সমর্থক আইনজীবীরা হৈচৈ করেন। পাল্টা জবাব দেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরাও। দুই পক্ষের হৈচৈ এক সময় হট্টগোলে পরিণত হয়।

হট্টগোলকারীদের উদ্দেশে বার সভাপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে দৃঢ় ভূমিকা পালন করে যাবে। আমরা আইনজীবী বিচার বিভাগের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি রক্ষার ক্ষেত্রে এক ও অভিন্ন। যদি রাজনীতি করতেই হয় তাহলে পল্টনে গিয়ে, সুপ্রিম কোর্টে নয়। এ সময় বার সম্পাদক ব্যারিস্টার এম মাহবুবউদ্দিন খোকন, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ওজিউল্লাহসহ সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বার সভাপতির বক্তব্যের পরই সমিতির ব্যানার খুলে নেয়া হয়।

পরে বারের সরকার সমর্থক বলে পরিচিত নির্বাচিত সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ওজিউল্লাহ বলেন, বার সভাপতি ও সম্পাদক বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের জন্যই তারা এই বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য বারের বক্তব্য নয়। তিনি বলেন, বিচারপতি খায়রুল হক দীর্ঘদিন বিচারপতি ছিলেন। নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে তার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শম রেজাউল করিম প্রমুখ আইনজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ আগষ্ট, ২০২০ ইং
ফজর৪:১১
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৩৮
এশা৭:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৩২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৩
পড়ুন