অজ্ঞতার কারণে বিএনপি দেশকে পিছিয়ে দিয়েছিল :প্রধানমন্ত্রী
দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন উদ্বোধন
বিশেষ প্রতিনিধি১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
অজ্ঞতার কারণে বিএনপি দেশকে পিছিয়ে দিয়েছিল :প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আন্তরিকতায় দেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে। শুধুমাত্র অজ্ঞতার কারণে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দেশকে পিছিয়ে দিয়েছিল বিএনপি। নইলে বহু আগেই ডিজিটাল দেশগুলোর কাতারে থাকত বাংলাদেশ। গতকাল রবিবার গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্বল্প খরচে উন্নতমানের নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের কার্যক্রম উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৪ সালে সাংবিধানিক সরকারের ধারাবাহিকতা ছাড়া দেশকে বর্তমান উন্নয়নের পথে নিয়ে আসা সম্ভব হতো না।

দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনটি পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটায় স্থাপন করা হয়েছে। এই ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ের (আইআইজি) মাধ্যমে ১৫শ’ গিগাবাইট পার সেকেন্ড ডাটা আদার প্রদান সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী কুয়াকাটায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাবমেরিন ক্যাবল (এসএমডব্লিউ-৫)     এবং এর ল্যান্ডিং স্টেশন উদ্বোধন করেন। দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশকে ডিজিটালাইজড করার যে পদক্ষেপ শুরু করেছিলেন এর মাধ্যমে তার একটি ধাপ পূর্ণ হলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনা খরচে বাংলাদেশ আইআইজির সঙ্গে যুক্ত হতে ১৯৯১ ও ১৯৯৪ দু’বার সুযোগ পেয়েছিল। তবে বিএনপি সরকার দেশের ‘তথ্য ফাঁস’ হয়ে যাবে এই অজুহাতে এই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। তখন খালেদা জিয়া বলে দিয়েছিল এটা সংযোগ দেওয়া যাবে না। কারণ দেশের সকল তথ্য পাচার হয়ে যাবে। তখনকার বিএনপির সকল মন্ত্রী এমপিদের মতামত এ রকম ছিল। একটি অদক্ষ সরকারের অধীনে দেশ কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এটি তার সেরা নিদর্শন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল উন্নত ও দ্রুততর ইন্টারনেট সংযোগ পেতে জনগণের জন্য সহায়ক হবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী পটুয়াখালী জেলায় এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন অনেকগুলো প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- কলাপাড়া সদর থেকে টিয়াখালী ঘাট বাজার ১৭৫ মিটার দীর্ঘ সেতু, রাঙাবালী উপজেলা কমপ্লেক্স এবং কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবনের সম্প্রসারণ। এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, চিফ হুইপ এ এস এম ফিরোজ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম এবং ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গণভবনে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা মাহবুবুর রহমান এমপি এবং শাহজাহান মিয়া, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান এবং সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগী অনেক মানুষ পটুয়াখালী থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন।

১০ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম উদ্বোধন

প্রধানমন্ত্র শেখ হাসিনা ভারতের ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে অতিরিক্ত ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সরবরাহে দুটি বিদ্যুত্ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। এই বিদ্যুত্ দেশের ১০টি উপজেলা এবং কিছু প্রকল্পে শতভাগ বিদ্যুত্ সরবরাহ নিশ্চিত করবে। যেসব উপজেলা শতভাগ বিদ্যুত্ সরবরাহের আওতায় এসেছে সেগুলো হচ্ছে- বাঘেরহাটের মোল্লাহাট এবং ফকিরহাট, দিনাজপুরের হাকিমপুর, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ এবং সিলেট সদর, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড এবং নরসিংদী সদর। অনুষ্ঠানে বিদ্যুত্ ব্যবহারে জনগণকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার সারাদেশে বিদ্যুতের অপচয়রোধে প্রিপেইড মিটার অন্তর্ভুক্ত করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুতের উত্পাদন খরচ অনেক বেশি, এর জন্য সরকারকে শতকরা ২২ ভাগ ভর্তুকি প্রদান করতে হয়। সরকারকে প্রতি বছর এইজন্য একটি বড়ো অংকের টাকা গচ্চা দিতে হলেও জনগণের জীবনমানের উন্নয়নের জন্যই বিদ্যুতের প্রয়োজন। কেন আমি জনগণের সম্পদ নষ্ট করব প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি প্রয়োজন শেষে নিজ হাতেই নিজ ঘরের ফ্যান এবং লাইটের সুইচ বন্ধ করেন। অফিস-আদালতে বিদ্যুত্ অপচয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে অনেক বড় বড় কর্মকর্তাই রয়েছেন যারা কখনো নিজ হাতে ঘরের ফ্যান ও লাইটের সুইচটি বন্ধ করেন না। তারা ভাবেন এজন্য তো লোক রয়েছে, এতে করেই বিদ্যুতের অপচয় হয়। তাঁর সরকার সারাদেশে বিদ্যুতের অপচয়রোধে প্রিপেইড মিটার চালু করছে যাতে করে বিদ্যুত্ বিল নিয়ে কারসাজি বন্ধ হয়। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সরকারি সম্পদের অপচয়রোধে সবাইকে সচেষ্ট হবার আহবান জানিয়ে বলেন, আগে একটি ধারণাই ছিল ‘সরকার কা মাল দরিয়া মে ঢাল’। এর থেকে সকলকে বেরিয়ে আসতে হবে। সরকারের সম্পদকে নিজের সম্পদ বলে ভাবতে হবে।

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, ভারতের ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশের কুমিল্লায় অতিরিক্ত ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন। গত বছরের ২৩ মার্চ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিতীয় গ্রীড আন্তঃসংযোগ এবং ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, ভিডিও কনফারেন্সের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আশুগঞ্জ ৪৫০ মে.ও. নর্থ কম্বাইন্ড সাইকল, সিম্পল সাইকল প্লান্ট (উত্তর) এবং ১০৮ মে.ও. ক্ষমতাসম্পন্ন কেরানিগঞ্জ ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। এছাড়া তিনি অনুষ্ঠানে ভারতের ত্রিপুরা থেকে রেডিয়াল মোডে অতিরিক্ত ৬০ মে.ও. বিদ্যুত্ সরবরাহ কার্যক্রমও উদ্বোধন করেন।

দিনাজপুর অফিস জানায়, দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর ফলে আলোকিত হলো হাকিমপুর উপজেলার ২৮ হাজার ৯৫৩টি পরিবার।

১৪ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে ২৩ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী জানান, উন্নয়নের বার্তা নিয়ে রাজশাহী যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর রাজশাহী সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ২৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এর মধ্যে ছয়টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ১৭টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহী সফরকালে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত হরিয়ান চিনিকল মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দিবেন। ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর রাজশাহীতে এক জনসভায় হাইটেক পার্ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মাপাড়ে ৩১ দশমিক ৬৩ একর জমির ওপর তোলা হবে ২৮১ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এই হাইটেক পার্ক। যার নাম দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক। এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী কাল উখিয়া যাচ্ছেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অত্যাচারে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিন দেখতে আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ায় যাচ্ছেন। গতকাল রবিবার গণভবনে এক অনুষ্ঠান শেষে সরকার ও দলের উচ্চ পর্যায়ের কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলার সময় তিনি এই কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ওই দিন উখিয়ার কুতুপালংয়ে গিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৪:২৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন