রোহিঙ্গা যুবকরা কোথায়!
বিশেষ প্রতিনিধি১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নৃশংস নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে পালাতে বাধ্য হচ্ছে রোহিঙ্গা মুসলমান। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা। যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। অন্যবারের তুলনায় এবার রোহিঙ্গা পুরুষদের আশ্রয় নেওয়ার সংখ্যা কম। যুবকদের অনুপ্রবেশের হার আরো কম। অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব যুবকরা মিয়ানমারের সেনাদের হামলার পাল্টা জবাব দিতেই থেকে গেছে।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ চেকপোস্ট ও সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালায় নির্যাতিত রোহিঙ্গারা। এসব ক্ষুব্ধ রোহিঙ্গাদের বেশির ভাগই যুবক। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আর নির্যাতনের বিরুদ্ধে স্বোচ্চার হয়েছে তারা।

বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, রাখাইনে সেনাদের পরিচালিত ক্লিয়ারিং অপারেশনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে রোহিঙ্গা যুবকরা       তাদের স্ত্রী, সন্তান ও পরিবার পরিজনকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়ে সশস্ত্র বিদ্রোহে যোগ দিচ্ছে। উখিয়ার কুতুপালংয়ে আশ্রয় নেয়া রহিমা আক্তারি, রাশিদা বেগমসহ অন্তত ১০ জন নারীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, কারো স্বামী, কারো সন্তান, কারো ভাই যুদ্ধে গেছে। তারা এখন আর জীবন হারানোর ভয় করছে না। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে নিজেদের বাঁচাতে ও আরাকানকে স্বাধীন করতে তারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। সময় হলেই সংগ্রাম করবে। দুইদিন আগে বুচিদং থেকে এসে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছেন রহিমা আক্তারি। তিনি ৩ সন্তানের মা। সাথে তার শাশুড়িকেও নিয়ে এসেছেন। তবে স্বামী আব্দুর রহমান আসেননি। রহিমা বলেন, তার স্বামী তাদের অন্যান্য গ্রামবাসীর সাথে অর্ধেক পথ এগিয়ে দিয়েছেন। বিদায় দেওয়ার সময় বলেছেন, তিনি যুদ্ধে যাচ্ছেন। যদি বেঁচে থাকেন তাহলে দেখা হবে। আর মরে গেলে যেন তাকে মাফ করে দেয়। রহিমার মতো এ রকম বেশ কিছু নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের স্বামীরা স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধের ডাক দেয়া ‘আরসা’, বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘আলেকিন’ এ যোগ দিয়েছেন। তাদের যেহেতু মৃত্যু নিশ্চিত, সেহেতু তারা যুদ্ধ করে, প্রতিরোধ করে মরতে চান। 

তবে অনুপ্রবেশকারীদের কেউ কেউ বলছেন, প্রতিরোধ যুদ্ধ করতে চাইলেও তাদের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, সেনাবাহিনী অনেক শক্তিশালী। বিপরীতে আরসা কিংবা আলেকিনের কাছে অস্ত্র কম। ফলে তাদের পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। তাদের ওপর সেনাবাহিনী অভিযান না চালানো পর্যন্ত তারা যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছেন না।

এদিকে সেখানকার সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) সাময়িক অস্ত্র বিরতির ঘোষণা দিয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে আরসা’র বিবৃতি উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, রাখাইনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে অস্ত্র বিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত এই ব্যাপারে মিয়ানমার সেনাবাহিনী কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। গত ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে জাতিসংঘসহ অন্তত ২০টি মানবিক সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সেখানে জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে পারছে না।

গত মাসের শেষ দিকে আরসার মুখপাত্র আয়াতুল্লাহ জানিয়েছিলেন, তাদের সশস্ত্র বিদ্রোহ জিহাদ নয়। তারা জাতিগত মুক্তিকামী। মিয়ানমারের মধ্যেই রেহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করাই তাদের উদ্দেশ্য। গত ২৫ আগস্টের হামলা ছিল আত্মরক্ষামূলক এবং রোহিঙ্গাদের অধিকার ফিরে পাওয়া পর্যন্ত এ হামলা চলবে। যদিও ইতিমধ্যে সংগঠনটি একতরফা অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করেছে। তবে এই সংগঠনটির বাইরে আলেকিন, এএসওসহ বেশ কয়েকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সেখানে আগে থেকে জঙ্গি কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে দাবি করে আসছে মিয়ানমার সরকার।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৪:২৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন