ঢাবির ভিসি প্যানেল অবৈধ ঘোষণা
যথাযথ প্রক্রিয়ায় ৬ মাসের মধ্যে সিনেট পুনর্গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের
ইত্তেফাক রিপোর্ট১১ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচন না করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিনেট মনোনীত তিন জনের নাম সংবলিত ভিসি প্যানেল অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। এ ছাড়া যথাযথ প্রক্রিয়ায় ৬ মাসের মধ্যে সিনেট পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই রায় দেন।

ভিসি প্যানেল মনোনয়নের জন্য সিনেট সদস্যদের সভা আহ্বান করে গত ১৬ জুলাই চিঠি ইস্যু করে ঢাবির রেজিস্ট্রার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩ এর আর্টিক্যাল ২১(২) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে উপাচার্য ওই বিশেষ সভা আহ্বান করেন। সভায় ১১(১) ধারা অনুযায়ী ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগের জন্য তিনজনের একটি প্যানেল মনোনয়ন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু রেজিস্টার্ড    গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচন না করেই বিশেষ সিনেট সভা আহ্বান করায় ভিসি প্যানেল মনোনয়ন আইনসিদ্ধ নয় এমন দাবি করে হাইকোর্টে রিট করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুস সামাদসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ জন শিক্ষক এবং রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধিসহ ১৫ জন।

রিটে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ- ১৯৭৩ এর আর্টিকেল ২০ ধারা অনুযায়ী সিনেট সদস্য ১০৫ জন। এই ১০৫ জনের মধ্যে ২৫ জন নির্বাচিত রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি রয়েছেন। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সর্বশেষ রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে নির্বাচিত ২৫ জন প্রতিনিধির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। তাই রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটদের নির্বাচন না করেই ঢাবি ভিসির সিনেটের বিশেষ সভা আহ্বান বেআইনি।

ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ জুলাই হাইকোর্ট ঢাবির ভিসি প্যানেল মনোনয়নের জন্য ডাকা সিনেটের বিশেষ সভা স্থগিত করে দেয়। একইসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩ এর ২০(১) ধারা অনুযায়ী সিনেট গঠন না করে ডাকা ওই সভা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর পরদিনই আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেয়। হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ স্থগিত হওয়ার পরে গত ২৯ জুলাই সিনেটের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় তখনকার ভিসি আআমস আরেফিন সিদ্দিক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দিন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও নীল দলের আহ্বায়ক আবদুল আজিজকে নিয়ে তিন সদস্যের ভিসি প্যানেল অনুমোদন করে ?সিনেট।

তবে গত ৩ আগস্ট প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই মনোনীত ভিসি প্যানেলের কার্যকারিতা স্থগিত করে দেয়। পাশাপাশি রুল নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর বিচারপতি জিনাত আরার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে রুলের উপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গতকাল উপরোক্ত রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে সিনেটের বিশেষ সভা আহ্বান করে ইস্যুকৃত চিঠি এবং অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আদালতে ঢাবির পক্ষে আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী ও রিটকারী পক্ষে ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান শুনানি করেন।

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিকের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় গত ৪ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানকে ‘সাময়িকভাবে’ উপাচার্যের দায়িত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৫৮
মাগরিব৫:৪০
এশা৬:৫১
সূর্যোদয় - ৫:৫৪সূর্যাস্ত - ০৫:৩৫
পড়ুন