চট্টগ্রাম ওয়াসায় মিটার ছাড়াই নতুন সংযোগ
ভুয়া বিলে গ্রাহক হয়রানি

চট্টগ্রাম ওয়াসায় মিটার পাচ্ছে না গ্রাহকরা। ওয়াসার স্টোরেও মিটার নেই। ফলে মিটার ছাড়াই নতুন সংযোগ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অনুমাননির্ভর বিল নিয়ে বেড়েছে গ্রাহক হয়রানি। মিটারের রিডিংয়ের সাথে বিলের কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছে না গ্রাহকরা। এতে প্রতিদিন শত শত গ্রাহক ভুয়া বিলের অভিযোগ নিয়ে ওয়াসা ভবনে ভিড় জমাচ্ছে। ওয়াসা সূত্র জানায়, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ২০ হাজার মিটার পৌঁছবে। ইতালি থেকে এ সব মিটার আনা হচ্ছে।

বাকলিয়া বউবাজার থেকে আসা এক গ্রাহক জানান, তার টিন  সেডের পাঁচ কক্ষ বিশিষ্ট একটি বসতঘর রয়েছে। গত অক্টোবর মাসে তাকে সাড়ে ৪ হাজার টাকার বিল দেয়া হয়েছে। অথচ তার আগের মাস সেপ্টেম্বরে বিল দিয়েছে ৮৫০ টাকা। নিয়মিত পানি পাওয়া যায় না বলেও তার অভিযোগ। জালালাবাদ থেকে আসা গ্রাহক নুরুল ইসলাম জানান, সংযোগ থাকলেও ওয়াসার পানি মিলে না। কিন্তু ওয়াসা থেকে বিল দেওয়া হচ্ছে প্রতিমাসে ৫শ থেকে ৮শ টাকা হারে।

অনুমাননির্ভর বিল নিয়ে অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না গ্রাহকরা। অভিযোগকারীদের বলা হচ্ছে, লিখিতভাবে জানাতে। পরে তদন্ত করে বিল সঠিক কিনা দেখা হবে। ওয়াসা সূত্র জানায়, বর্তমানে ৬৫ হাজার পানির সংযোগ রয়েছে। নতুন সংযোগ প্রদান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিমাসে অন্তত ৪শ থেকে ৫শ নতুন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বিপুল পরিমাণ গ্রাহকের মিটার থেকে রিডিং সংগ্রহ করে বিল করতে প্রচুর মিটার পরিদর্শকের প্রয়োজন। বর্তমানে মিটার পরিদর্শক রয়েছে ৪০ জন। এতে গ্রাহক পর্যায়ে মিটার থেকে রিডিং সংগ্রহ করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। জানা যায়, এখনো অনেক এলাকায় অসংখ্য গ্রাহক পানি না পেয়ে বিল দিচ্ছে। সপ্তাহে একদিনও পানি পাচ্ছে না এ ধরনের এলাকা রয়েছে। তবে যেসব গ্রাহক সংযোগ থাকলেও পানি পাচ্ছে না তাদের মাসে ২শ টাকা হারে বিল পরিশোধ করতে হবে। সম্প্রতি ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ওয়াসা সূত্র জানায়, নগরীর বাকলিয়া, জালালাবাদ, কাট্টলী, হালিশহর, পতেঙ্গা, মাদারবাড়িসহ উঁচু এলাকাগুলোতে অনেক গ্রাহক এখনো নিয়মিত পানি পায় না। পানি না পেয়ে সংযোগ অব্যাহত রাখতে বিল পরিশোধ করছে এ ধরনের হাজারো গ্রাহক রয়েছে বলে ওয়াসা রাজস্ব বিভাগ জানায়। রাজস্ব শাখার এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ওয়াসায় লাভের গুড় পিঁপড়ায় খাচ্ছে। আয় বাড়ানোর জন্য নানা প্রক্রিয়া নেওয়া হলেও একশ্রেণির খেলাপি গ্রাহকের কাছে বিপুল পরিমাণ বিল পড়ে রয়েছে। প্রায় ৮ কোটি টাকার বকেয়া বিলের গ্রাহকের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর বাইরে আবার ২৩৬টি মিটার পরিত্যক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ সব গ্রাহকের কাছে কয়েক কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। ওয়াসায় রাজস্ব বিভাগ জানায়, পরিত্যক্ত মিটারের অবস্থা নিরূপণের জন্য কমিটি করা হয়েছে। তাদের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমানে বকেয়া বিলের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬২ কোটি টাকা। ওয়াসায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পদও শূন্য রয়েছে। ফলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা যাচ্ছে না।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৬ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০১
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩০
সূর্যোদয় - ৬:২০সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন