বিদ্যমান আইনেই সীমানা পুনঃনির্ধারণ করবে ইসি
সর্বশেষ তথ্য জানতে জেলা প্রশাসকদের চিঠি
ইত্তেফাক রিপোর্ট২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং

বিদ্যমান আইনেই সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ কার্যক্রম শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর অংশ হিসাবে জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকায় সীমানার পুনঃনির্ধারণের জন্য প্রশাসনিক এলাকার সৃজন, বিয়োজন ও সংকোচন সংক্রান্ত তথ্য পাঠানোর জন্য জেলা প্রশাসক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত সোমবার নির্বাচন কমিনের যুগ্ম সচিব মোঃ আবুল কাশেম স্বাক্ষরিত চিঠিটি ৬৪ জেলায় পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে জাতীয় সংসদের ৩০০ সংসদীয় আসনে সীমানা নিধারণের জন্য সর্বশেষ ৩ জুলাই ২০১৩ সালে প্রকাশিত নির্বাচনী এলাকার সীমানা নিধারণের গেজেটের পর যে সমস্ত প্রশাসনিক এলাকা সৃজন, বিয়োজন ও সংকোচন করা হয়েছে তার তথ্যদি প্রয়োজন। অতএব প্রামাণিক দলিলসহ জরুরি ভিত্তিতে পাঠানোর নির্দেশ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যমান নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ অধ্যাদেশ, ১৯৭৬’ আইনে সীমানা পুনঃনির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করে সংসদ নির্বাচনে করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ইসি  নতুন যে আইন তৈরি করতে যাচ্ছে সেটা সময় সাপেক্ষ বলে আগামী সংসদ নির্বাচনে তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

ইসির সঙ্গে সংলাপে বিএনপি নতুন আইন করে ২০০১ সালে সংসদীয় আসনের যে সীমানা ছিল সেটি ফিরিয়ে আনতে দাবি জানিয়েছিল। কারণ ২০০৮ সালে অধিকাংশ আসন পরিবর্তন করে ইসি। বিএনপির অভিযোগ, ২০০৮ সালে তাদের আসনগুলোকে ভেঙ্গে দলকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইসির সঙ্গে সংলাপে আওয়ামী লীগ চেয়েছে বর্তমান আইন দিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচন। অর্থাত্  ছিটমহলগুলোকে যুক্ত করে ২০১৩ সালের  সীমানা  দিয়ে নির্বাচন করতে।

সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন। এর ৬ মাস পূর্বে অর্থাত্ ২০১৮ সালের মে মাসের মধ্যে সীমানা পুনঃনির্ধারণের কাজ শেষ করতে হবে। আবার প্রস্তাবিত আইনে ভোটার সংখ্যাকে প্রাধান্য দেয়ায় আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারির আগে সীমানা পুনঃনির্ধারণের বিষয়ে কাজ শুরু করার সুযোগ নেই। কেননা প্রতি বছর ৩১ জানুয়ারি ভোটার তালিকার হালনাগাদ চূড়ান্ত করা হয়। আইনটি পাস হলে ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে সীমানা পরিবর্তন করার সুযোগ পাবে বর্তমান কমিশন। কিন্তু ওই সময়ে আবার ৫ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন রয়েছে। আবার প্রস্তাবিত আইনে সর্বশেষ আদমশুমারীর প্রতিবেদন আমলে নেয়ার কথা বলা আছে।

ইসির তথ্য মতে, এর আগে ২০০১ সালেও ১৯৯৫ সালের সীমানার গেজেট বহাল রাখা হয়েছিল। ১৯৮৪, ১৯৯১ সালের পর  ২০০৮ সালে সংসদীয় আসনে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়। ১৩৩টি সংসদীয় আসনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছিল। জনসংখ্যাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে গ্রামের আসন কেটে ঢাকায় বৃদ্ধি করা হয়। তবে ২০০৮ সীমানার অসঙ্গতি কিছুটা দূর করে বিগত কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ কমিশন। ২০১৩ সালে ৫৩টি আসনে পরিবর্তন এনে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৪
যোহর১১:৫৬
আসর৩:৪০
মাগরিব৫:১৯
এশা৬:৩৭
সূর্যোদয় - ৬:৩৫সূর্যাস্ত - ০৫:১৪
পড়ুন