আপত্কালীন ঋণসহায়তা চাচ্ছে সরকারি ব্যাংক
৬ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে সোনালী ব্যাংক
জামাল উদ্দীন১১ মার্চ, ২০১৮ ইং
মূলধন সংকটে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে মূলধন জোগানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক মান বা ব্যাসেল—৩ মানে উন্নীত করতে ব্যাংকগুলোকে মূলধন জোগাতেই হচ্ছে। এই ঋণ সহায়তা না পেলে কোন কোন ব্যাংকের এলসি খোলাও সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এজন্যে ব্যাংকগুলো ২০ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে। শুধু সোনালী ব্যাংকই ঋণ সহায়তা হিসাবে চেয়েছে ছয় হাজার কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও বলেছেন, ‘আমাদের সময়ে কোন ব্যাংকের পতন হতে দিতে পারি না। আমাদের সময়ে এধরনের পরিস্থিতি হতে দেব না। যে ভাবেই হোক আমরা ব্যাংক রক্ষা করবো।’

সূত্রমতে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো বর্তমানে প্রায় সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকার মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। এ ঘাটতি থেকে উত্তরণের জন্য সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করে। তাতে কর্মপরিকল্পনা তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। ঐ বৈঠকে সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো ২০ হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন সুবিধা দাবি করে। মূলত আপত্কালীন সংকট মেটাতেই এই ঋণ সুবিধা চেয়েছে তারা।

সোনালী ব্যাংক ছয় হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তা চেয়ে গত ৪ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে। বিশেষ গ্যারান্টি নামে এই ঋণ সহায়তা পেলে ব্যাংক  বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে। সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্যাসেল—৩ এর শর্ত পূরণ করতে হলে যে তহবিল প্রয়োজন সে টার্গেট থেকে আমরা কিছুটা পিছিয়ে আছি। সে কারণেই আমরা বিশেষ গ্যারান্টি চেয়েছি। গ্যারান্টি না দিলেও আমরা সরকারি ব্যাংক হিসাবে গ্যারান্টেড।’

সূত্রমতে, ব্যাসেল-৩ ব্যাংকিং গাইডলাইনের সাথে সঙ্গতি রেখে সর্বনিম্ন মূলধন বজায় রাখতে না পারলে বিদেশি ব্যাংক এলসি (ঋণপত্র) নিতে নিরুত্সাহ দেখাবে। তাতে দেশেরও ইমেজ ক্ষুণ্ন হবে। এটি একটি জাতীয় ইস্যু। তাই আপত্কালীন সময়ের জন্য ন্যূনতম মূলধন নিশ্চিত করতে বিশেষ সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এটি ব্যাংকের ‘জীবন রক্ষায়’ এবং দেশের ‘সম্মান রক্ষায়’।

সরকার অন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকেও অর্থ সহায়তা দেবে। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে দেওয়া হয়েছে। মূলধন ঘাটতি পূরণে ২০০৫-০৬ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে সরকার ১০ হাজার ২৭২ কোটি টাকার পুনঃমূলধনীকরণ সুবিধা দিয়েছে। এবারেও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, জরুরি ভিত্তিতে এই ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে। যাতে করে বিদ্যমান সংকট উত্তরণ ছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতের ফারমার্স ব্যাংকে অর্থায়ন করতে সক্ষম হয়। ফারমার্স ব্যাংক ঠিক করতে সরকার ইতোমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের শেয়ার কেনার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে। ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ’র (আইসিবি) মাধ্যমে ঐ চার ব্যাংক বেসরকারি ফারমার্স ব্যাংকের ৬০ শতাংশ শেয়ার কেনে নেবে। যা বাবদ ফারমার্স ব্যাংক ১১শ কোটি টাকা পাবে। এ বিষয়ে গত মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এক যৌথ সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি পূরণের জন্য ইতোমধ্যে ৫শ কোটি টাকার বন্ড ইস্যুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন