মার্চ বাঙালির অহঙ্কারের মাস, গর্বের মাস
১১ মার্চ, ২০১৮ ইং
মার্চ বাঙালির অহঙ্কারের মাস, গর্বের মাস

পীযূষ বন্দোপাধ্যায়

 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রিয় ঋতু বর্ষা এটা আমরা জানি কিন্তু মার্চ মাস প্রতিটি বাঙালির প্রিয় মাস, অহঙ্কারের মাস, গর্বের মাস এবং বাঙালির ইতিহাসের স্বর্ণরঙের আঁকা মাস হয়ে গেছে। ৭১-এর মার্চের প্রথম দিন থেকেই বাঙালি তার সুপ্ত আকাঙ্ক্ষার ফল পাওয়ার স্বপ্ন দেখেছে এবং সেটা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অবিসংবাদিত নেতৃত্বের কারণে। তিনি তখনকার হিসাব মতো সাড়ে সাত কোটি বাঙালিকে অদৃশ্য সুতায় একটি মালায় গেঁথেছিলেন। ৭১-এর মার্চ বাঙালির ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। শ্রদ্ধাভাবন পণ্ডিত প্রয়াত সরদার ফজলুল করিম এভাবেই বলেছিলেন যে, মার্চেই এ জাতির নেতৃত্ব শেখ মুজিবের হাতেই ন্যস্ত হয়েছিল এবং একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, শেখ মুজিবই বাঙালি জাতির প্রধানতম নেতা।

এবারের ৭ই মার্চ পালন উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যে জনসমাগম হয়েছিল তা ’৭১-এর মার্চেরই প্রতিচ্ছবি। আমার মতো যারা সৌভাগ্যবান ৭১-এর ৭ই মার্চ তত্কালীন রেসকোর্সে উপস্থিত থাকার       সুযোগ পেয়েছিলেন তারা এবারের ৭ই মার্চের জনসভা দেখে অনেকটাই একমত হবেন। একাত্তরের ৭ই মার্চের মহানায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এবারের ৭ই মার্চের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নায়ক ছিলেন তারই সুযোগ্য কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনা। মার্চ বাঙালির জীবনে শুধুমাত্র ৭১-এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের জন্যেই তাত্পর্যপূর্ণ নয়, এই মার্চেই জন্মেছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। জীবিত অবস্থায় তিনি তার জন্মদিন পালন করতেন না নিপীড়িত বাঙালির মুখের দিকে চেয়ে; কিন্তু আজ এখন তার প্রিয় বাঙালি জাতি সতঃস্ফূর্তভাবে মহান নেতার জন্মদিন পালন করে। এবারের মার্চ একটি বিশেষ মাত্রায় পালিত হচ্ছে কারণ ৭১-এর ৭ই মার্চের কালজয়ী ভাষণ আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি ও সম্মান পেয়েছে। তাই এবারে আমরা দেখছি রাজধানী থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ৭ই মার্চ পালিত হয়েছে মহাসমারোহে। ৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে গবেষণা হচ্ছে এবং সেই গবেষণায় বেরিয়ে আসছে ঐতিহাসিক বক্তৃতার নানামুখী ইতিবাচক ব্যাখ্যা। যা আমাদের নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসের সত্যিকার শিক্ষায় শিক্ষিত করবে। তবুও ভাবতে খারাপ লাগে ৭১-এর মতো ষড়যন্ত্রকারী শত্রুরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিনাসে এখনও তত্পর। নইলে এই মার্চ মাসেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষাবলম্বনকারী মুক্তমনার শিক্ষকের উপরে আঘাত কেন আসে? কিন্তু আমার দৃঢ় প্রত্যয় আছে বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে এক চুলও কোনোদিন বিচ্যুত হবে না। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল মুক্তিরযুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি এবং সেই কাজটি নতুন প্রজন্ম সম্পূর্ণ করবে। জয় বাংলা।

[লেখক: নাট্যব্যক্তিত্ব]

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন