গুলি-হত্যা সবই মাদক আখড়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে
নোয়াখালীতে দুই যুবক হত্যা, রাজধানীতে গুলিবিদ্ধ তিন
১১ মার্চ, ২০১৮ ইং
n ইত্তেফাক রিপোর্ট

মাদকের অবৈধ ব্যবসায়ীরা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। এতদিন রাখ-ঢাক করে চললেও এখন প্রকাশ্যে গোলাগুলিতে লিপ্ত হচ্ছে তারা। সর্বশেষ গতকাল শনিবার ভোররাতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে ও গুলি করে দুই যুবককে হত্যা করেছে। আগের দিন শুক্রবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর রামপুরা এলাকায় দুই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর গোলাগুলির মধ্যে পড়ে দুই শিশুসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। দুটি ঘটনাই অনুসন্ধান করে জানা গেছে, এলাকায় মাদকের আখড়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, রামপুরায় দুই পক্ষের সংঘাতে গুলিবিদ্ধরা হলেন সোহেল (১২), মালেক (৭) ও সাব্বির হোসেন রাব্বি (২৬)। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সাব্বিরের উরুতে এবং দুই শিশুর পায়ে গুলি লেগেছে বলে মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এস আই বাচ্চু মিয়া জানিয়েছেন। এ ঘটনায় শিশু মালেকের বাবা বাদী হয়ে রমনা থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মাঈনুল ইসলাম।

ওসি বলেন, ‘কে বা কারা গুলি করেছে সে বিষয়ে এলাকার কেউ কিছু বলতে পারছে না। সবাই শুধু বলছে, তারা গুলির শব্দ শুনেছে এবং কয়েকজনকে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখেছে। কিন্তু কে কাকে লক্ষ্য করে ?গুলি করেছে, সে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া যায়নি। আমরা তদন্ত করে দেখছি।’ গুলিবিদ্ধ সোহেল স্থানীয় একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় কাজ করে। কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে সে গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ শিশু মালেকের বাবা রিকশাচালক চান মিয়া হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, তার ছেলে বেড়ানোর জন্য কয়েকদিন আগে গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় আসে। বাসার সামনে খেলার সময় সে গুলিবিদ্ধ হয়। কারা গুলি করেছে তা তিনি জানেন না। আর গুলিবিদ্ধ সাব্বির পানি ব্যবসায়ী। তিনি হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, গুলির শব্দ শুনে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সময় গুলি লাগে তার। কারা তাকে গুলি করেছে তা তিনি বুঝছেন না।

পুলিশ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রামপুরার বাগিচারটেক এলাকায় মাদকের ৬-৭টি আখড়া রয়েছে। এতদিন এসব আখড়া থেকে চাঁদা তুলত পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশের সহযোগীরা। পলাশ বর্তমানে কারাগারে। বর্তমানে বিদেশে থাকা রাব্বী পলাশের হয়ে কাজ করত। কিছুদিন আগে সে আলাদা হয়ে যায় এবং আলাদাভাবে চাঁদা তুলতে শুরু করে। এতে ক্ষুব্ধ হয় কারাবন্দি পলাশ। এদিকে অভিযোগ রয়েছে, রাব্বিকে আশ্রয় দিচ্ছিলেন স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা। তিনি আগে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এই নেতার মদদপুষ্ট অরেক সন্ত্রাসী সুজন তার লোকজনকে রাব্বীর বাহিনীতে দিয়ে দেন। সুজনও বর্তমানে কারাগারে। ফলে রাব্বীর সঙ্গে পেরে উঠছিল না পলাশের বাহিনী। শুক্রবার সন্ধ্যায় অনেকটা অতর্কিতভাবেই পলাশের লোকজন রাব্বীর লোকজনের ওপর গুলি করে। রাব্বী বাহিনীর লোকজন পালিয়ে গেলেও নিরীহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহন হন। 

বেগমগঞ্জে দুই যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা :আমাদের চৌমুহনী (নোয়াখালীর) সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় দুই যুবককে কুপিয়ে ও গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে আরেকদল যুবক। গতকাল শনিবার ভোরে মধ্য একলাশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহতরা হলেন উত্তর একলাশপুর গ্রামের সোলাইমানের ছেলে মোহাম্মদ আলী (২৬) ও আবদুল কাদেরের ছেলে রবিন (২৫)। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ইলিয়াছ শরীফ স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বলেন, ভোরে মোহাম্মদ আলী ও রবিন মোটর সাইকেলে যাচ্ছিলেন। ওই সময় একলাশপুর বাজারের পূর্বদিকে ভিআইপি সড়কের পাশে একদল দুর্বৃত্ত অস্ত্রহাতে তাদের ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে তারা রবিনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার পর স্থানীয় চৌকিদার বাড়ির পুকুরের লাশ ফেলে দেয়। এরপর তারা মোহাম্মদ আলীকে ধাওয়া করে করে তার ফুফুর ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করে। সকালে মরদেহ দু’টি উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত মো. আলীর বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় অস্ত্র, ডাকাতির প্রস্তুতি, মাদক ও দ্রুত বিচার আইনে পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে জানান এসপি। তবে কারা কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। একলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, খুন হওয়ার কথা আমি শুনেছি। তারা সন্ত্রাসী কি-না বা কী কারণে খুন হয়েছে তা আমি জানি না।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ হোসেন মোল্লা জানান, আলীর বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, খুনসহ ৯ টি মামলা রয়েছে। আর নিহত রবিন তার সহযোগী। তাদের কোন ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে এটা ঘটতে পারে। এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

এলাকাবাসী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেগমগঞ্জে সম্প্রতি মাদক ব্যবসা বেড়ে গেছে। এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এতদিন ছিল মোহাম্মদ আলীর হাতে। অন্য একটি গ্রুপ এই মাদক আখড়াগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এসব আখড়া থেকে প্রতিদিনই লাখ লাখ টাকা ‘তোলা’ (চাঁদা) উঠছে। এই কারণেই আলীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। হত্যার ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নাজমুল রনি (১৯), নাদিম (২১) ও রয়েলকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওসি ফিরোজ হোসেন মোল্লা বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ খোঁজা হচ্ছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন