রাশিয়া থেকে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ভারত
মার্কিন হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে পুতিনের সঙ্গে মোদীর চুক্তি স্বাক্ষর
ইত্তেফাক ডেস্ক০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
রাশিয়া থেকে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ভারত
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি সত্ত্বেও রাশিয়ার কাছ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ ট্রাইমফ কেনার চুক্তি করেছে ভারত। গতকাল শুক্রবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে ৫০০ কোটি ডলারের এই চুক্তি সই হয়। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারতের হাতে আসতে শুরু করবে। যদিও এই চুক্তির কারণে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া, ইরান এবং রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যেসব দেশ বাণিজ্য করবে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। ২০১৪ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক এ ক্ষেপণাস্ত্র কিনেছিল চীন। সম্প্রতি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেশটির কাছে হস্তান্তর শুরু করেছে রাশিয়া। এ কারণে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে চীন। তবে গতকাল চুক্তির পর ভারতের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নরম মনোভাবের আভাস মিলছে। তারা বলেছে, কোনো ধরনের পূর্ব মূল্যায়ন ছাড়াই নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তে আসতে পারে না যুক্তরাষ্ট্র। এক্ষেত্রে লেন-দেন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। খবর:এনটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার।

রাশিয়ার এস-৪০০ ট্রায়ামফ বিশ্বের সর্বাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।  ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে এখন বিশ্বের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক মারণাস্ত্র হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় ৬০০ কিলোমিটার দূরের টার্গেট চিহ্নিত করা যাবে। একইসঙ্গে ৩৬টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পাশাপাশি একই সময়ে ৭২টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া যাবে। এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ভারতের বিমানবাহিনী সক্ষমতা অনেক গুণে বাড়িয়ে দেবে বলে জানান দেশটির বিমান বাহিনীর প্রধান বি এস ধানোয়া। তিনি বলেন, এটি আকাশ পথে স্টিলথ যুদ্ধবিমান থেকে হামলাসহ যেকোনো হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম। ২০০৭ সাল থেকে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহূত হচ্ছে।

ভারতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চুক্তি বেশকিছু কারণে ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, চীন ও পাকিস্তানের মোকাবিলায় এই ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হাতে থাকা জরুরি। দ্বিতীয়ত, ভারত বেশকিছু সময় ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকে থাকায় কাছাকাছি এসেছে রাশিয়া-চীন-পাকিস্তান। ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়ানোয় সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে নৌবাহিনী সমঝোতা চুক্তি করেছে ইসলামাবাদ। এখন সেই সমীকরণ ভেঙে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বহু পুরনো সম্পর্ককে আরও মজবুত করা প্রয়োজন। আঞ্চলিক রাজনীতির এমন মারপ্যাঁচে ভারত দুই কূলই রক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাত্ রাশিয়ার সঙ্গে পুরনো বন্ধুত্ব টিকিয়ে রেখে চীনকে রুখতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন। সেই সূত্র মেনেই পুতিনকে স্বাগত জানানো হয়েছে ভারতে।

এদিকে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির পর ভারত আশা করছে, মার্কিন প্রশাসন এ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞার জালে ফেলবে না দিল্লিকে। কারণ চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাব ঠেকাতে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ভারত। ইতোমধ্যে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয়ের প্রয়োজনীয়তা যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করেছে তারা। গতকাল চুক্তি সইয়ের পর ভারতের ব্যাপারে নরম মনোভাবের ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্দেশ্য হলো তাদের ক্ষতিকর আচরণের জন্য শাস্তি। কিন্তু এর লক্ষ্য এই নয় যে, যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র বা অংশীদারদের সামরিক সক্ষমতার ক্ষতিতে তা আরোপ করবে। এক্ষেত্রে লেনদেনের ওপর ভিত্তি করেই ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতে মার্কিন দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাঙ্কশন অ্যাক্ট (সিএএটিএসএ) এর ছাড় দেওয়ার ২৩১ ধারা লেন-দেনের ওপর ভিত্তি করে বিবেচনা করা হবে। কোনো ধরনের মূল্যায়ন ছাড়াই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নিতে পারে না যুক্তরাষ্ট্র।   

এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াও প্রতিরক্ষা, পরমাণু বিদ্যুত্, মহাকাশ, রেলসহ বিভিন্ন খাতে মোট ২০টি চুক্তি হয়েছে। গতকাল বৈঠকে দুই নেতা ইরানের তেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতেও কথা বলেছেন। চুক্তির পাশাপাশি ভারতের ছয়টি পরমাণু বিদ্যুত্ প্রকল্পের উন্নয়নে কাজ করতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া।

দুই নেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এক যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে নরেন্দ্র মোদী বলেন, রাশিয়া দীর্ঘকাল ধরে ভারতের পাশে রয়েছে এবং ভারতের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে আমাদের সম্পর্কও জোরালো থেকে আরো জোরালো হয়েছে। অন্যদিকে ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও মাদক চোরাচালান রোধে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারে আমরা একমত হয়েছি। ভারত সফরে পুতিন উপ-প্রধানমন্ত্রী ইইরি বরিসভ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এবং বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী ডেনিস মান্তুরভের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন