শান্তিতে নোবেল পেলেন নাদিয়া মুরাদ ও ডা. মুকওয়েগে
সংঘাতে ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে আন্দোলন
ইত্তেফাক ডেস্ক০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
শান্তিতে নোবেল পেলেন নাদিয়া মুরাদ ও ডা. মুকওয়েগে
চলতি বছর যারা নোবেল শান্তি পুরষ্কার পেয়েছেন তাদের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ধর্ষণকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের ইস্যুটি আবার সামনে চলে এসেছে। শান্তি পুরষ্কার বিজয়ী নাদিয়া মুরাদ এবং ডেনিস মুকওয়েগে দু’জনেই সংঘাতের সময় ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছেন। খবর বিবিসি’র

মুরাদ একজন ইরাকি ইয়াজিদি নারী যাকে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিরা ধর্ষণ ও নির্যাতন করেছিল। পরে তিনি ইয়াজিদিদের মুক্তির প্রতীকে পরিণত হন। ডা. মুকওয়েগে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের একজন গাইনোকলজিস্ট। তিনি এবং তার সহকর্মীরা মিলে হাজার হাজার ধর্ষিতা নারীর চিকিত্সা করেছেন। চলতি বছর ৩৩১ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং তাদের মধ্য থেকে নোবেল কমিটি এই দু’জনকেই পুরষ্কারের জন্য বেছে নেয়।

নাদিয়া মুরাদ এবং ডেনিস মুকওয়েগেকে পুরষ্কার বিজয়ী ঘোষণা করে নোবেল কমিটির প্রধান বেরিট রিস -অ্যান্ডারসেন বলেন, ধর্ষণকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে তাদের প্রচেষ্টার জন্য দু’জনকে এই পুরষ্কার দেওয়া হয়েছে। নোবেল শান্তি পুরষ্কার ধর্ষণকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের একটা গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে মনে করেন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ আহমেদ জিয়াউদ্দিন। তিনি বলেন, পুরষ্কারের মাধ্যমে এই অপরাধ শুধু স্বীকৃতিই পাবে না, এর মাধ্যমে এই ইস্যুটিতে বিশ্বের নজর পড়বে এবং ধর্ষণের শিকার নারীদের বেদনা সবাই উপলব্ধি করতে পারবে। এই বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ এবং সমপ্রতি মিয়ানমারের মতো দেশে যারা আন্দোলন করছেন তারাও অনুপ্রাণিত হবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং দুই লাখেরও বেশি নারীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ আছে। এসব ধর্ষণের জন্য যারা দায়ী তাদের বিচারের দাবি নিয়ে আন্দোলন চলছে দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে কী বিশ্বে সংঘাতের সময় ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহাররোধে কোনো আইন তৈরি সম্ভব হবে? ড.জিয়াউদ্দিন মনে করছেন, সেটা হলেও যে কালই হবে, এমন সম্ভাবনা নেই। তবে নোবেল পুরষ্কারের মধ্য দিয়ে এ সংক্রান্ত আন্দোলন বেগবান হবে এবং বিশ্বের বিবেক নড়েচড়ে বসবে।

যৌনদাসী হিসেবে নাদিয়াকে বিক্রি করা হয়

ইরাকে যুদ্ধ চলার সময় নাদিয়া মুরাদকে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিরা তিন মাস আটকে রাখে এবং যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করে। এ সময় তার ওপর অকথ্য অত্যাচার করা হয় এবং দাসী হিসেবে বেশ কয়েকবার তাকে বিক্রি করা হয়। ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে আইএসের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নাদিয়া মুরাদ ইয়াজিদি জনগণের মুক্তির আন্দোলনে সামিল হন। তিনি মানব পাচারের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখতে শুরু করেন। এবং ধর্ষণকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করলে কঠোর শাস্তির দাবি জানাতে থাকেন।

নাদিয়া মুরাদ ২০১৬ সালে ভাকলাভ হাভেল মানবাধিকার পুরষ্কারও অর্জন করেন। পরের বছর তিনি মানব পাচারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূত পদে মনোনীত হন। রেপ সার্জন ডেনিস মুকওয়েগে ৩০ হাজার ধর্ষিতার সেবা করেছেন ডেনিস মুকওয়েগে কয়েক দশক ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের ধর্ষিতা নারীদের সেবা দিয়ে আসছেন। তিনি এবং তার সহকর্মীরা এ পর্যন্ত ৩০ হাজার ধর্ষিতা নারীর চিকিত্সা করেছেন। ধর্ষণের সময় একজন নারীর দেহে যেসব ক্ষত তৈরি হয় তার চিকিত্সার জন্য ডা. মুকওয়েগেকে একজন

বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন