লক্ষ্য আগামী নির্বাচন
টার্গেট কিলিং ঠেকাতে মাঠে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী
টার্গেট মন্ত্রী, এমপি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা  ক্যাডারদের সঙ্গে যোগাযোগের বিশেষ অ্যাপস
আবুল খায়ের০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী নাশকতার অংশ হিসেবে বিএনপি-জামায়াতের একটি অংশ টার্গেট কিলিংয়ের পরিকল্পনা করেছে বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে। জানা গেছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে টার্গেট কিলিং বাস্তবায়নের জন্য জঙ্গি সংগঠনগুলো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে রাজনৈতিক ওই অংশের। যোগাযোগ রাখার জন্য বিশেষ অ্যাপস ব্যবহার করছে তারা। বিষয়টি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে ধরা পড়ায় তাদের ঠেকাতে মাঠে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

সূত্র জানায়, তাদের টার্গেটে রয়েছেন প্রভাবশালী মন্ত্রী, আমলা, আওয়ামী লীগ ঘরানার শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। এ ছাড়া বিদ্যুত্ স্টেশন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়ও তারা নাশকতা চালাতে পারে। পুলিশ সদস্যদের মনোবল ভেঙে দিতে সিনিয়র পুলিশ অফিসারদের তালিকা করে টার্গেট কিলিংয়ের পরিকল্পনাও করছে তারা। তাই এ ধরনের টার্গেট কিলিং ঠেকাতে প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সারাদেশে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাাশি অভিযান পরিচালনা করছে তারা। এ বিশেষ অভিযান গত আগস্ট মাস থেকে শুরু হয়েছে। গত দুই মাসে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পরিকল্পনাকারীসহ অর্ধশত জঙ্গি ও শিবির ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা টার্গেট কিলিংয়ের বিস্তারিত তথ্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রকাশ করে দিয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, টার্গেট কিলিং পরিচালনা করতে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনগুলো সহায়তা করছে। আর বিশেষ অ্যাপসের (প্রটেকটিভ  টেক্স, টেলিগ্রাম, ভাইবার ও হোয়াটসআপ) মাধ্যমে তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে পরিকল্পনাকারীরা। ঢাকা মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন শিবির নেতাকে বিস্ফোরকসহ গ্রেফতারের পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। সূত্র মতে, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে অক্টোবর থেকেই মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে শিবিরের প্রশিক্ষিত ক্যাডার বাহিনী। এ ক্যাডার বাহিনীর সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে টার্গেট কিলিং বাস্তবায়নকারী জঙ্গিদের সঙ্গে।

জানা গেছে, নাশকতা ও হামলার পরিকল্পনা নিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছেন। গতকাল চট্টগ্রামের মিরেরসরাই জঙ্গি আস্তানায় র্যাবের অভিযানে দুজন নিহত হয়েছে। জঙ্গিদের ওই আস্তানা থেকে চট্টগ্রামের আদালত ভবন উড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এটি পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী টার্গেট হামলাগুলোর একটি বলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে এমন নাশকতার পরিকল্পনা নস্যাত্ করার সক্ষমতা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর রয়েছে বলে শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। টার্গেট কিলিং ঠেকাতে পুলিশ সদর দফতর থেকে সব ইউনিট প্রধান, ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও জেলার এসপিদের এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, ২০১৩-১৪ সালের চেয়েও ভয়াবহ নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করছে একটি মহল। একই সঙ্গে বর্তমান মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশে তারা টার্গেট কিলিংয়ের পরিকল্পনা করেছে। গ্রেফতারকৃত জঙ্গিরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এসব তথ্য দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী জামায়াত-শিবির এবং শান্তি কমিটির যেসব সন্তান-স্বজনরা রয়েছে, তারা এবার মরণ কামড় দিতে প্রস্তুত। ষড়যন্ত্র সফল করতে তাদেরও একত্রিত করতে কাজ করছে জামায়াত-বিএনপির এক শ্রেণির নেতা। দেশ-বিদেশ থেকে টাকা দিয়ে জঙ্গিদের নিজেদের দলে ভেড়ানোর কাজ করছে জামায়াত। আর অত্যন্ত গোপনে এ কাজটি রাজধানী থেকে শুরু করে একেবারে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত করা হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের পরিবারও এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বিশেষ করে জামায়াত থেকে যারা বিএনপিতে গেছে তারাই বেশি তত্পর। ষড়যন্ত্র সফল করতে সব অপশক্তি ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে বলেও গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের জঙ্গি কার্যক্রম মনিটরিং কাজে নিয়োজিত এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে জঙ্গি ও একটি মহল টার্গেট কিলিং ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার যে পরিকল্পনা নিয়েছে তা পুলিশের মনিটরিংয়ে ধরা পড়েছে। এ ধরনের নাশকতা ও টার্গেট কিলিং প্রতিরোধে পুলিশের পক্ষ থেকে সবধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। মাদকের অভিযানের পাশাপাশি এই বিষয়ে আমরা অভিযান চালিয়ে আসছি। নির্বাচন পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযানে একজন পরিকল্পনাকারীসহ ২০ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে তিনি জানান।

র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, টার্গেট কিলিং বা নাশকতা— যে ধরনের পরিকল্পনাই করুক না কেন র্যাবের নেটওয়ার্ক উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই র্যাব সেখানে হাজির হচ্ছে। সব ধরনের নাশকতা মোকাবিলায় র্যাবের প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত র্যাব এ ধরনের নাশকতা কার্যক্রম প্রতিরোধে অভিযানসহ মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাবে। প্রসঙ্গত, গত দুই মাসে র্যাব টার্গেট কিলিং ও নাশকতা পরিকল্পনায় জড়িত অভিযোগে ৩১ জনকে গ্রেফতার করেছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন