কঠোর আন্দোলনের সিদ্ধান্ত বিএনপির
বিভাগীয় শহরে জনসভার কর্মসূচি, ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের যুক্ত করতে আলোচনা প্যানেল
আনোয়ার আলদীন০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
আসন্ন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বাতিল, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনসহ ৭ দফা দাবিতে বিএনপির দুই দিনের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর দলটি নতুন কর্মসূচি প্রণয়ন করছে। তারা ধীরে ধীরে দাবি আদায়ের চূড়ান্ত আন্দোলনে যেতে চান। দলের নেতারা বলছেন, কঠোর আন্দোলন ছাড়া তাদের সামনে বিকল্প কোনো পথ নেই। মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের আন্দোলনের দিক-নির্দেশনা প্রদান ও দাবির প্রতি জনমত সৃষ্টির জন্য প্রতিটি বিভাগীয় শহরে জনসভা হবে। মূলত এর মাধ্যমে সারা দেশে আন্দোলনের যাত্রা শুরু করতে চান নেতারা। যা ক্রমান্বয়ে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ কিংবা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে  কঠোর কর্মসূচিতে রূপ নিতে পারে।

কর্মসূচিতে ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদেরও যুক্ত করতে চান বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা। ইতিমধ্যে নির্বাচনী সমঝোতা এবং কর্মসূচি নিয়ে বিএনপির সঙ্গে যুক্তফ্রন্টের আলোচনার জন্য একটা প্যানেল চূড়ান্ত হয়েছে। প্যানেলে বিএনপির পক্ষে আছেন, মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। যুক্তফ্রন্টের পক্ষে আছেন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডি সভাপতি আ স ম রব, বিকল্প ধারা মহাসচিব মেজর (অব.) মান্নান। ঐক্য প্রক্রিয়ার কে থাকবেন তা ঠিক হবে ড. কামাল হোসেন আজ দেশে ফেরার পর। প্যানেলের নেতারা জোটবদ্ধ আন্দোলন ও কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন। তারা এ বিষয়ে শিগগিরই একটি ঘোষণাপত্র তৈরি করতে পারেন।

দলীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে ৭ দফা দাবিতে কঠোর আন্দোলনের পথনকশা নিয়ে আলোচনা হয়। ১০ অক্টোবরের পর পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় শহরে ও গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোয় জনসভা করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে জনসভার তারিখ চূড়ান্ত করেনি দলটি। দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য ইত্তেফাককে বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের দিন ১০ অক্টোবর ধার্য আছে। আলোচিত এই মামলায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অন্যতম আসামি। এই মামলায় নেতিবাচক রায়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। নতুন কর্মসূচি দেওয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।

এদিকে সরকারের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ার বিষয়েও নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন নেতারা। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে দ্রুত একটা সিদ্ধান্তে আসার অভিমত এসেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে আরো অনেকে আসবেন। আমাদের সাথে তাদের দাবির পার্থক্য নেই। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, তফসিলের আগে সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বাতিল, নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন আওয়ামী লীগের ১৪ দল ছাড়া সব দলেরই দাবি। এই দাবি আদায়ে আন্দোলন হবে-কঠোর আন্দোলন। আন্দোলন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। ধাপে ধাপে কঠোর আন্দোলনের দিকে যাবো আমরা। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই এই সরকারের অপসারণ ঘটানো হবে।

সংস্কারপন্থিদের দলে নেওয়া হচ্ছে:এদিকে বিএনপিতে সংস্কারপন্থি বলে যারা পরিচিত তাদের অনেকে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলে ফিরতে চাচ্ছেন। অনেকে দলের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে যোগাযোগ করছেন। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঐক্যের স্বার্থে বিএনপি এখন তাদের ক্ষেত্রে ছাড় দিবে। যারা ভুল স্বীকার করে আসতে চান, তাদের জন্য বিএনপির দরজা খোলা। এক্ষেত্রে এখন আর বিরোধিতা করা হবে না।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন