দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার পর শরিকদের আসন বণ্টন
আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় প্রধানমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিনিধি১২ নভেম্বর, ২০১৮ ইং
দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার পর শরিকদের আসন বণ্টন

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করাই সরকারের লক্ষ্য। জনগণ যাদের ভোট দেবে বিজয়ী তারাই হবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ঐক্যফ্রন্টসহ সব দলকে তিনি ধন্যবাদ ও স্বাগত জানান। গতকাল রবিবার বিকাল সাড়ে  তিনটায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাযালয়ে দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভার সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরের দিন শুক্রবার থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের আবেদনপত্র দেওয়া শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, চেষ্টা করবো উপযুক্ত প্রার্থীকে নমিনেশন দিতে। সবসময় নিজেদের ৩০০ আসনে প্রার্থী ঠিক করলেও জোটের প্রার্থীদের জন্য পরে আসন ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানান তিনি। মনোনয়ন ফরম বিক্রির মধ্যেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভা হয়। তবে এই সভায় প্রার্থীর মনোনয়ন নির্ধারিত না বলে সকালেই এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। দলীয় প্রার্থী ঠিক করতে পরে আরো সভা হবে বলে জানান তিনি।

১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে সংলাপের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সংসদীয় বোর্ডের সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংলাপে ২৩৪ জন নেতা ও ৭০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেন। নির্বাচনটা কিভাবে করবো এবং নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে হয় সে আলোচনা হয়েছে। অনেকে অনেক দাবি-দাওয়া করেছিল। বেশকিছু আমরা মেনে নিয়েছি। নির্বাচনটা যেন সকলের জন্য অংশগ্রহণমূলক হতে পারে, সবাই যেন নির্বাচন করার সুযোগ পায় সেদিকে আমরা দৃষ্টি রাখবো, সে কথা আমরা দিয়েছিলাম। এখন সকলে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাকে আরো শক্তিশালী করবে। আর জনগণ যাকে চাইবে তাকে ভোট সেটাই আমরা করবো।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সবসময় এটাই চাই যে, আমরা যে উন্নয়নটা করেছি তার ধারা যেন অব্যাহত থাকে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই গতিটা যেন কোনমতেই থেমে না যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে আমরা উন্নত-সমৃদ্ধ করতে হবে। এভাবে যেন গড়ে তুলতে পারি সেদিকে দৃষ্টি রেখেই আমরা আলাপ-আলোচনা করি।

শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের সদস্য ওবায়দুল কাদের, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও রশিদুল আলম। অসুস্থতার জন্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও ড. আলাউদ্দীন সভায় উপস্থিত হতে পারেননি। এছাড়া কাজী জাফরুল্লাহ বিদেশে রয়েছেন। আর বোর্ডের আরেক সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মারা গেছেন।

আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায় আসতে না পারলে অনেক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে না

এদিকে সকালে গণভবনে যুবলীগের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গণতন্ত্র জোরদার এবং অব্যাহত উন্নয়নের স্বার্থে তাঁর সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুষ্ঠান নিশ্চিত করা। শেখ হাসিনা বলেন, এটাই বাস্তবতা যে নির্বাচনে অংশ না নিলে একটি রাজনৈতিক দলের শক্তি হারায়। আমরা আশা করি অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও নির্বাচনে অংশ নেবে এবং এর মাধ্যমে গণতন্ত্র অধিকতর শক্তিশালী ও দেশের আরো উন্নয়ন হবে। নির্বাচন দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার অনেক মেগা প্রকল্প নিয়েছে এবং দারিদ্র্য বিমোচনের অঙ্গীকার করেছে। যদি আমরা ক্ষমতায় আসতে না পারি তাহলে কেউ এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুব সমাজকে একটা বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। এখন যুব সমাজের জন্য যে কাজগুলো করে দিয়ে গেলাম সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তাদের জীবনটা যেন সম্মানজনক হয়, উন্নত হয়।

এর আগে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নেতৃবৃন্দ ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ বক্তব্য রাখেন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১২ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন