দ্বিজেনদা মনে আছে?
হাসান আজিজুল হক২৯ মে, ২০১৫ ইং
দ্বিজেনদা মনে আছে?
মনে পড়ে দ্বিজেনদা, কবে প্রথম আপনার, আপনাদের সিদ্ধেশ্বরীর বাসাতে আমি গিয়েছিলাম, কে আমাকে নিয়ে গিয়েছিল? আমার মনে হচ্ছে, নিয়ে গিয়েছিল হায়াত্ মামুদ। সঙ্গে জ্যোতিপ্রকাশ ছিল কি না মনে করতে পারি না। দরজাতেই আপনার অতি উচ্চকণ্ঠ, যেটা আপনার বৈশিষ্ট্য। খুব জোরে উচ্চস্বরে যেমন আপনি কথা বলেন, তেমনি উচ্চস্বরে হাসেন। আর সেই মুহূর্তে আপনার ভেতরের সরল, ঋজু, দৃঢ় মানুষটি সম্পূর্ণ প্রকাশ পেয়ে যায়।

বাসার দোতলার চৌকাঠটি পার হতেই আপনার কণ্ঠ। পরিচয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মনে হলো, কতদিনের সুহূদের সঙ্গে কথা বলছি। একবারও, একটুও আড়ষ্টতা আসেনি। মনে হয়নি, এইমাত্র আপনি, আপনার পরিবারের সঙ্গে আলাপ হচ্ছে। এমনি করেই টেনে নিয়েছিলেন আপনি। যেমন অনেককেই নেন, তেমনি আমাকেও। মানুষ নয়, আপনি বুকে টেনে নেন সমগ্র বিশ্বকে। চতুর্দিকে আপনার গভীর মায়া। গাছপালা, নদী, পুকুর, পাখি, সবুজ বনানী সবই আপনাকে চিরকাল মুগ্ধ করে এসেছে। বোটানির অধ্যাপক ছিলেন, পরে সেটাই আপনার একরকম নেশা হয়ে উঠেছিল।

মনে আছে? তখন আপনি কাজ করছিলেন বাংলাদেশে গাছ কত রকম আছে, কোথায় আছে, সেসব নিয়ে। গিয়েছিলেন একবার খুলনাতে, আমাদের তালতলার মসজিদ লেনের বাড়িতে। কোনো তোয়াক্কা নেই, সকাল বেলা উঠে আমার স্ত্রীর তৈরি করা সামান্য খাবার খেয়ে আমরা দুজনে চলে যেতাম রূপসা নদীর ওপারে, বিলের ধারে। কাদা, জল। আমি দূরে দাঁড়িয়ে দেখতাম। আপনি নেমে পড়তেন। কী সব সংগ্রহ করতেন সেটা আমি জানি না। এসব সংগ্রহ করতে করতে কত কথা! প্রকৃতি, আগেকার বাংলাদেশ নিয়ে কথা।

বাগেরহাটে যাবার পথে হঠাত্ মাঠের মাঝখানে খুব নির্জন একটা জায়গায় বিশাল একটা দিঘি দেখা গেল। তার বাঁধানো ঘাটটা তখনও অটুট। হঠাত্ এখানে এই নির্জন জায়গায় কারা তৈরি করে দিয়েছিল এই বাঁধাঘাট, কারা এখানে এসেছিল—কত কথা! আমিও বলতাম, আপনিও বলতেন। আপনার কথা শুনতে আমার ভালো লাগত। আপনার সেই উচ্চকণ্ঠে হাসি এবং কথা।

এখনও মনে পড়লে আমাকে আপনার কাছে পৌঁছে দেয়। একবার রিকশায় চড়ে নদীর দিকে যাচ্ছি। এরপর আমি যখন ভাড়া দিতে যাচ্ছি—তখন আপনার সেই একই কণ্ঠ : ডোন্ট ট্রাই টু স্পেন্ড মানি। কী জানি, ধমক দিয়ে অত ভালোবাসার সঙ্গে আমাকে কেউ কখনও কোনো কথা বলেছে কি না।

মনে পড়ে দেবী বৌদিকে। সবাই যেমন স্ত্রীকে একটু ভয় করে, আমিও করতাম, আপনিও করতেন। বৌদিকে না জানিয়ে সকালবেলা ব্রেকফাস্ট করে আমরা দুজন বেরিয়ে পড়তাম। দেবী বৌদি চিনতেন আপনাকে। জিজ্ঞাসা করতেন না, দুপুরে ফিরব কি ফিরব না।

মনে আছে নিশ্চয় আপনার, একবার আমরা ডেমরা চলে গেলাম। সেখানে একটা নৌকো নেওয়া হলো। তখন যন্ত্রচালিত ছোট ছোট নৌকো পাওয়া যেত। তেমন একটা নৌকোয় উঠে আমরা শীতলক্ষ্যা উজিয়ে প্রায় ছয় মাইল দূরে এক জায়গায় নামলাম। সেই জায়গাটা মনপুরা। খুব পুরনো, পরিত্যক্ত, নির্জন, খাঁখাঁ করা রাজপুরী। আপনি বললেন, আমরা বেরিয়েছি অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে’। সেই যে দুই খণ্ডে তার উপন্যাস। পরবর্তীকালে আপনি বলেছিলেন, কেবলই প্রকৃতির বর্ণনা, এখন ক্লান্তি লাগে গো। তখন নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে আমরা দুজনেই বেরিয়ে পড়েছিলাম। মনপুরায় নামলাম। সেই নির্জন কক্ষগুলোতে ঘুরে বেড়ালাম। দরদালানে গেলাম। অতীতের একটা আলাদা মাদকতাময় আকর্ষণ আছে। কী জানি, এর জন্য রোমান্টিক হওয়া লাগে কি না। আমার তো মনে হয় কিছুই না। কালকে আমরা নিরবধি বলি, সেটাই ঠিক। অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত্—আমরাই বসে বসে ভাগ করি, হিসেব করি। কিন্তু এটা তো আমাদের করা, সময় তো অফুরান। সে তো বয়ে চলেছে, বয়ে যাওয়াটাই তো সময়। আর তো কিছু নেই। আমরা আছি তাই সময়ও আছে। আমরা মনে রাখি, তাই ভুলে যাই। আমরা অতীত ভাগ করি, তাই অতীত আছে। টানা তো চলছে। আজকে আপনার সম্বন্ধে লিখতে গিয়ে আমার এই টানা কথাই মনে পড়ছে। মনে হচ্ছে, আমি তো ফিরেই গেছি সেখানে। আমি তো রয়েছিই আপনার পাশে। কাছাকাছিই তো বয়স। আপনার নব্বইয়ের কাছে বয়স হচ্ছে, হিসেবে অবিশ্বাস্য। কিন্তু বাস্তবে আমি অবিশ্বাস করতে পারি না।

সেই মনপুরা, সেইসব পুরনো অতীতের গন্ধমাখা, ভেঙে পড়া রাজবাড়ি—তা থেকে আমার অনেক গল্পের পরিবেশ আমি পেয়ে গিয়েছিলাম। আমি এরকমই এক বাড়ির ভেতরে স্থাপন করেছিলাম এ দেশের আটকেপড়া এক হিন্দু পরিবার। যার নাম দিয়েছিলাম ‘খাঁচা’। ওই ‘খাঁচা’ নাকি এখন একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হচ্ছে। জানি না, তারা ওই বেদনা ধরতে পারবে কি না। একদা কবি মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায় নাকি ওই বাড়ির জামাই ছিলেন। আর মনে নেই এখন।

আপনার সঙ্গে যখন গিয়েছিলাম মনে করলে দেখি—প্রথমে একটা দিঘি, অজস্র বড় বড় গাছ। তারপরে ভাঙা ঘরগুলো, সাপখোপে ভরা। প্রাণভরে আমরা ঘুরে বেড়ালাম নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে। মনে হলো না যে, ওখানে কোনো জনবসতি আছে। পেটে কিছু পড়লও না, সঙ্গে বিস্কুটমতো কিছু ছিল। তারপরে ডেমরায় ফিরে এলাম। আপনি বললেন, হাসান, এখনও তো অনেকটা সময় আছে। বাড়ি যাবে? আমি বললাম, আমার তো ইচ্ছেটিচ্ছে তেমন নেই। যদি মনে করেন তো যাব। আর যদি বলেন অন্য কোথাও যাওয়া যাক। আপনি বললেন, তো চলো কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। এ যে এক অদ্ভুত সময় নষ্ট করা বা সময়কে সত্যিকারে ব্যবহার করা। তারপর আমরা চলে গেলাম পুবাইলে, নাগরীতে। আপনি যে কলেজে পড়াতেন, নটরডেম কলেজ সেখানের নিম্ন শ্রেণির সবার সঙ্গে আপনার ছিল গলায় গলায় ভাব। সেখানে অনেকে খ্রিস্টান হয়েছিলেন। তারা বসবাস করতেন নাগরীতে।

আমরা পুবাইল স্টেশনে নামলাম। একটু এগিয়ে এসে একটি ঘাট থেকে নৌকায় চড়লাম। এক-দুই ঘণ্টা পরে আমরা একটি ঘাটে পৌঁছালাম। সেখান থেকে হেঁটে আমরা নাগরী পৌঁছালাম। সেখানে দেখা গেল যে, তারা শূয়রও পোষে। শূয়রগুলো সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবু আপনার কোনো বিকার ছিল না, আমারও ছিল না। সেখানে অন্ন গ্রহণ করতে আপনার বাঁধেনি, আমারও বাঁধেনি। তারা আমাদের কী খেতে দিয়েছে আপনিও জিজ্ঞাসা করেননি, আমিও জিজ্ঞাসা করিনি।

আপনারা নাকি একাত্তর সালে ওখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাই কিছু পুরনো পরিচিত মানুষ আপনার ছিল। ওখানে দুটা-চারটা বাড়িতে গেলেন। তাদের সঙ্গে গল্প করলেন, কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। সেখান থেকে আমরা গেলাম অতি বিশাল একটি গির্জায়। সারাদিন কাটালাম। মনে হয়, সন্ধ্যার দিকে চলে এলাম। এ অবিস্মরণীয়, ভুলতে পারব না কখনও। আর এরকম করতে করতে মানুষ হিসেবে আমি কী করে একদিক থেকে বদলাচ্ছি আর গ্রহণেচ্ছু মানুষে পরিণত হচ্ছি সে প্রবণতা বোধহয় আমার মধ্যে আগে থেকেই ছিল। আমার অতীত, আমার বাল্যকাল সেও তো এরকমই বিশাল গ্রামবাংলার সঙ্গে মিশে রয়েছে। অখণ্ড বাংলা আমরা আর অর্জন করতে পারিনি। অথচ অখণ্ড বাংলাই তো পূর্ণবৃত্ত। আমরা তাকে আধেকটা কেটে নিয়েছি।

যা-ই হোক, এসব দুঃখের কথা। নাগরীতে গিয়ে অনুভব করেছি, মানুষ মানুষের কতটা কাছে আসতে পারে। আপনি শিখিয়েছেন, কী করে অতিক্রম করতে হয় এ সমস্ত প্রাচীর এবং দেয়ালগুলো। শিখেছি, দ্বিজেনদা, আপনার কাছ থেকে শিখেছি। কিছুটা তো শিখেছি, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

ফিরে এলাম, তারপর বৌদির বকুনি। আপনি হাসলেন। তখন আপনার মেয়ে মুন্নি একেবারেই বাচ্চা, ছোট্ট। আর ছেলে বড়, আলী তার সঙ্গে কথা বলছে আর ঘুষোঘুষি করছে। আপনি বলতেন, আলী আনোয়ার এ বিষয়ে অনেক জানে। আপনি তার জ্ঞান, তার পাণ্ডিত্য আর তার বন্ধুত্বকে সমীহ করতেন। আলী আনোয়ার আমার, আমাদেরও তো গর্বের, অহঙ্কারের ধন হয়ে উঠেছিল। তাকে কত ভালোবেসেছিলাম। তিনি চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে। সে আলী আনোয়ার রাজশাহী ছিলেন, আমার সঙ্গে আলাপ হয়নি তখনও। আপনিই আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন। যখন আলী ঢাকায় আসতেন, তখন আপনার বাসায় আসতেন। তাকে অপ্রস্তুত অবস্থায়, যেমন-তেমন জামাকাপড় পরা কখনও দেখিনি। পরিপাটি করে জামা, প্যান্ট, মোজার সঙ্গে জুতো পরতেন, চুল আঁচড়ানো। কিন্তু খুব সাধারণ ছিলেন তিনি। যখন বসতেন, কখন উঠতেন ঠিক ছিল না। পরে আলী আনোয়ারকে আমি রাজশাহীতে অন্তত ৩৩ বছর পেয়েছি। প্রতি শুক্রবারে আমার বাসায় সব বন্ধুরা আসতেন। কেউ না এলেও আলী আনোয়ার আসতেন। এই বন্ধুত্বের সূচনা আপনার বাসাতেই হয়েছিল।

মনে হয় যে, এমন মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় তো ঘটেছিল। এখন আর কাছে থাকতে পারি না, কাছে আসতে পারি না। প্রকৃতির নিয়ম কাজ করছে নির্মমভাবে। আপনার ওপরে কাজ করছে, আমার ওপরেও কাজ করছে। জীবন যথেষ্ট দীর্ঘ নয়, মর্মে মর্মে উপলব্ধি করি। তারাশঙ্করের সেই উক্তি মনে পড়ে, জীবন এত ছোট কেনে? নব্বই-তিরানব্বই বছর বয়সে আমার বাবা মারা যান। শেষের দিকে একটা ইজি চেয়ার চওড়া বারান্দায় পেতে দেওয়া হয়েছিল, সেখানে উনি চুপ করে বসে থাকতেন। আমরা দৈনন্দিন জীবনযাপন করছি, ছুটছি, বাবা খুব কম কথা বলতেন। মেজাজি মানুষ ছিলেন। একদিন কানে এলো, তিনি আপন মনেই বলছেন, কত ছোট এই জীবন! তখন আমরা তো যৌবনের উত্তাপে মাতোয়ারা। কথার কোনো অর্থই আমরা বুঝি নাই। কথা আমরা সঙ্গে সঙ্গে বুঝি বলি বটে, কিন্তু সত্যি সত্যি বুঝি না। একে বোঝা বলে না। তারাশঙ্করও এভাবে বলেছিল—সেও তখন বোঝেনি। বাবার এ কথা, আরে ক-দিনের জীবন।

আজকে আমাদের যখন দিন কমে আসছে, আলো ক্রমে কমিতেছে। কমলকুমার মজুমদার লিখেছেন না—আলো ক্রমে কমিয়া আসছে। আমাদেরও তাই। এখন বুঝি, মনে হচ্ছে এই তো সেদিনের কথা। বিচরণ করছি আপনার সঙ্গে। অথচ কত কাল পার হয়ে গেল। প্রায় ৪০ বছরই হয়ে গেল। আমাদেরও এখন অপরাহ, গড়িয়ে পড়েছে সূর্য। আপনার বয়সও আমার চেয়ে বেশি। তবু এখনও আপনি আছেন। তখনও এখনও মনে হয় তুমি আছ, আমি আছি। স্বর্গ খেলনা তো এ ধরণীতে গড়া উচিত নয়, সুখে-দুঃখে, প্রহারে জর্জরিত হতে হতে জীবন কাটাতে হয়। তবু মনে হয়, এর চাইতে আর বেশি চাইবার কী আছে? এর পেছনটা অন্ধকার, সামনেও অন্ধকার। এইটুকুই হাতে আছে, এই আলো-অন্ধকারে ভরা জীবন। কথার শেষ হবে না দ্বিজেনদা।

সেই সময়ে আপনি আমার কাছে চিঠি লিখেছিলেন। কেন জানি না, সেই চিঠিটা আমার পুরনো একটা ডায়েরির ভেতরে খামখোলা অবস্থায় রয়েছে। তারিখও দেওয়া আছে, দেখলেই মনে পড়বে। এই চিঠিতে আপনি ‘আত্মজা ও একটি করবী গাছ’ পড়ে ভালোলাগার কথা জানিয়েছেন। তবে সমালোচনা করতেও ছাড়েননি। বাংলা সাহিত্যের সমালোচনা করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের কথা বলেছিলেন, কারও কারও লেখা পড়া যায় না। কোথাও বলেছিলেন, হাসান, সাহিত্যের নামে এরা জোচ্চুরি করে। সেই চিঠির শেষে লেখা আছে—চিরদিনের দ্বিজেনদা।

আমি স্মৃতি নিয়ে বসলে তার অন্ত থাকবে না। একটা জায়গায় থামতেই হবে। এবং সেটা যেকোনো জায়গায়। এখন আপনি প্রায় ৮৬তে পা দিয়েছেন। শরীর দুর্বল, বেরোন না, টেলিফোন রিসিভ করে কথা বললে হাঁপিয়ে উঠেন। মেনে নেয়া ছাড়া কোনো গতি নেই। এই যে ঢাকায় এলে আপনার বাসায় যেতাম না, এটা তো কল্পনা করতে পারতাম না। তখন কেবল মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। তিনিও কিসের আকর্ষণে যেতেন। আর আমি রাত ১১টা কি ১২টার সময় গুণের সঙ্গে বের হয়ে সমস্ত রাস্তা কেবল হেঁটে বেড়াতাম। হাঁটা ছাড়া আমাদের আর কাজ ছিল না। তখন ফিরে গেলে বৌদি বলতেন, খাওয়া তো হয়নি। তখন নির্মলেন্দু বলতেন, না, এখানে আমার আর আসা হবে না। আসলে আপনার সঙ্গে আমার হাঁটা হবেই হবে। আর না খেয়ে ওখানে গেলে বৌদি ভাববে—এখান থেকে খেতে এসেছে। শুনে বৌদি তো হেসেই কুটি কুটি। এত হাসি। তিনি আবার দর্শন পড়ান। এত হাসেন কীভাবে? দর্শনের গাম্ভীর্যভরা কান্ট-হেগেল নিশ্চয় পড়াতেন। এমনি আরও কত স্মৃতি। কখনও কখনও জ্যোতিপ্রকাশ থাকত। আমাদের তো আড্ডাই হয়ে যেত। আমি ঢাকায় গেলে আর কোথাও যেতাম না। কিন্তু আপনার ওখানে যেতে লজ্জা করতাম না, সঙ্কোচ করতাম না।

এরা আপনাকে নিয়ে একটা বই করবে, করুক। আপনাকে নিয়ে নানা প্রসঙ্গে মানুষ আলোচনা করবে। আপনার মতোন এরকম বৃক্ষপ্রেমিক, পাখিপ্রেমিক বাংলাদেশে তো আর নেই। আপনি যারা এসব বিষয়ে আগ্রহী তাদের গুরুস্থানীয়। হতভাগা এই দেশ। আপনি আমাকে বলেছিলেন, আমাকে যদি নিয়ে যায় তাহলে রাজশাহী ভার্সিটির প্রাকৃতিক প্ল্যানটা আমি তৈরি করে দিতে পারি। আমি ওদের বলেছিলাম, কোনো আগ্রহ দেখিনি। আপনাকে কত ব্যবহার করল দেশ, আমি জানি না। একটা সময় চলে গেলেন রাশিয়া। খারাপ কী ভালোই হয়েছিল ব্যক্তিগত জীবনে। সেখানে গিয়ে প্রচুর কাজ করলেন, অনুবাদ করলেন। হার্টের ওপর লেখা একটা বইয়ের অনুবাদ করেছিলেন, এখনও মনে আছে। বই আমাকে দিয়েছিলেন, মৌমাছি পালনের ওপরে। দিয়েছিলেন লেপার্ড, ইতালিয়ান এক লেখকের উপন্যাস। এলোমেলো কত কথা মনে পড়ছে দ্বিজেনদা।

আমি এবার শেষ করি। আপনি ভালো থাকুন, দীর্ঘকাল থাকুন আমাদের মধ্যে। ‘চিরদিনের দ্বিজেনদা’ শুধু চিঠিতে লিখলে হবে না, সত্যিকারে চিরদিন থাকা লাগবে।

দ্বিজেন শর্মা, জন্ম :২৯ মে ১৯২৯

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৯ মে, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৫
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪৩
এশা৮:০৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৮
পড়ুন