‘লিখতে ভালো লাগে তাই লিখি’
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ইং
রাজু আলাউদ্দিন

কী পড়ছেন

পড়ার ক্ষেত্রে আমার এলোমেলো স্বভাবের কারণে আমি একসঙ্গে একাধিক বই পড়ে অভ্যস্ত। এই মুহূর্তে হোর্হে লুইস বোর্হেসের বন্ধু এবং অনুবাদক নরম্যান টমাস ডি জিওভান্নির লেখা Georgie & Elsa বইটি পড়ে শেষ করলাম। এছাড়া পড়ছি গৌরী আইয়ুবের লেখা আমাদের ‘দুজনের কথা’ বইটি। গৌরীর কোনো লেখাই আমার আগে পড়া ছিল না। পড়ছি রবীন্দ্র-বিষয়ক গবেষণার প্রয়োজনে মেহিকোর লেখক এনরিকে গনসালেস রোহোর Obra complete: verso y prosa, 1918-1939 বইটি। এছাড়া পড়ছি সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের অসামান্য এক প্রবন্ধের বই কথামালা। পড়ছি শিল্পী মুর্তজা বশীরের ‘আত্মজীবনী ও অন্যান্য রচনা’। আরও আছে। তালিকা অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে।

 

সাম্প্রতিক লেখালেখির খবর

এই মুহূর্তে Georgie & Elsa বইটি নিয়ে একটা দীর্ঘ আলোচনা লিখছি। আন্তোনিও মাচাদোকে নিয়ে একটি লেখা অর্ধেকটা এগিয়ে আছে। এটা শেষ করেই অক্তাবিও পাসকে নিয়ে একটা লেখার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে আছে, সেটা ধরব। এ ছাড়া রবীন্দ্র-বিষয়ক পরবর্তী গবেষণার মালমসলা কিছু জোগাড় হয়ে আছে, সেগুলো নিয়ে লেখার চেষ্টা চলছে। ও হ্যাঁ (মোহাম্মদ) খসরু ভাইয়ের চলচ্চিত্র পত্রিকার জন্য হুয়ান রুলফোর সিনেমা বিষয়ক একটি লেখাও লিখছি।

 

কেন লিখেন

এই প্রশ্নের সবচেয়ে সঠিক উত্তরটি বোধহয় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ই দিয়ে রেখেছেন : না লিখে পারি না তাই লিখি—এরকম কিছু বলেছিলেন মনে পড়ে। লিখতে ভালো লাগে তাই লিখি। অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে এই কাজটাই কিছুটা শিখেছি, তাই লিখি। ভাষা, ভাবনা, আর সাহিত্যের প্রেমে পড়েছি বলে এখন লিখে আনন্দ পাই। আবার কিছু কিছু লেখা লিখি অনুরোধে বা চাপে পড়ে। তবে এরকম লেখা খুব বেশি নেই। আবার গবেষণাধর্মী যে লেখাগুলো লিখছি সেগুলো লিখছি একধরনের দায়বোধ থেকে। যেমন—স্প্যানিশ ভাষায় রবীন্দ্রচর্চার ইতিহাস, তবে সেই দায়ের সঙ্গেও আমার ভালো লাগা আছে বলে লিখে আনন্দ পাই। মূল কথা আনন্দ—এটা আছে বলেই লিখি। সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা বঞ্চিত শ্রেণি উদ্ধারের তাগিদ থেকে নয়, লিখি স্রেফ নিজের আনন্দে। লিখি কারণ স্বপ্ন ও কল্পনা আমাকে তাতিয়ে রাখে। লিখি এসব থেকে নির্ভার হতে চাই বলে। লিখি আমার স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে দিতে চাই।

 

নবীন লেখকদের প্রতি পরামর্শ

আমি কি প্রবীণ হয়ে গেছি? আমি নিজেই কি এখনও নবীন নই—বয়সে এবং লেখালেখিতে? তাছাড়া আমি পরামর্শ দেয়ারই-বা কে! তাছাড়া কোনো লেখকই পরামর্শের তোয়াক্কা করেন না। প্রকৃত  লেখক নিজেই নিজের পরামর্শদাতা। তবে নিজেকে আমি যে পরামর্শ দিয়ে থাকি সেটাই এখানে প্রতিধ্বনি করে বলতে পারি কেবল : লিখতে গিয়ে তাড়াহুড়া করবেন না, যা লেখার ইচ্ছে নেই তা সম্পাদকের চাপে লিখবেন না। যদি লেখেনও আপনি তৃপ্ত না হলে সেটা সম্পাদককে দেবেন না। লেখা প্রকাশের লোভ সামলে লেখাটিকে পরিণত ও পরিপক্ক হওয়ার সুযোগ দিন। পুরস্কার, প্রতিষ্ঠা ও প্রচারের ফাঁদে পা দেবেন না। একটি সার্থক লেখা নিজেই আপনার জন্য এসব নিয়ে আসবে। আপনি এদের কাছে যাবেন না। ভাবুন, আপনার লেখার উচ্চতার কাছে এসব কিছু খুবই মামুলি, ওরাই ওদের প্রয়োজনে আপনার পায়ের কাছে ঘুরঘুর করবে একসময়।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৪:২৪
যোহর১১:৫৮
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:১৭
এশা৭:৩১
সূর্যোদয় - ৫:৪১সূর্যাস্ত - ০৬:১২
পড়ুন