মধুপল্লীর সাগরদাঁড়িতে এক দুপুর
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ইং
নির্মলেন্দু গুণ

মধুসূদন বন্দনা

 

এই শরতে এখন তোমার বোধনবেলা। প্রতিটি শরতে, পদ্মবনে নীলপদ্ম ফুটিয়ে এই বঙ্গজনপদে তিনি আসেন।

খ্রিস্টধর্ম গ্রহণকারী মাইকেল মধুসূদন দত্তের মধুপল্লীতেও তিনি আসেন, তাঁর পুজো হয়, জানতাম না। মহাকবির প্রসবস্থানের পাশের পূজামণ্ডপে দেবীর মুরতি দেখে আমার একটু খটকাই লাগল। ভেবেছিলাম এটি পূজামণ্ডপে রক্ষিত দুর্গার স্থায়ী প্রতিমা হবে। এই মধুহীন আপনজনশূন্য পোড়ো বাড়িতে দুর্গা পূজা আর কে করবে। কারা করতে পারে।

আমাকে জানানো হলো প্রতি বত্সরই এই পূজামণ্ডপে নতুন করে দুর্গা প্রতিমা বানানো হয়, এবং স্থানীয় হিন্দুরা দেবীর পূজা করেন।

আলোহীন প্রায় অন্ধকার মণ্ডপে মাটির দুর্গাটিকে দেখে আমার ভারি কষ্ট হলো। মনে হলো পুত্রের জন্য অপেক্ষমাণ মাতা জাহ্নবীকে দেখছি।

চোখের জল লুকিয়ে ফিরে এলাম পূজামণ্ডপের সামনে থেকে। কিন্তু পিতা রাজনারায়ণের রুদ্রচোখ থেকে মুক্তি পেলেও মাতা জাহ্নবীর কান্নাভেজা চোখ আমাকে অনুক্ষণ অনুসরণ করল, যতক্ষণ আমি ছিলাম ওই বাড়িটিতে।

মনে পড়ল তাঁরই চরণ—হা পুত্র মায়াবী মানব।

বাড়িটিকে সুন্দরভাবে সংরক্ষণ করার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।

রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের আড়ালে ঢাকা পড়া মহাকবি মধুসূদনের মুখটি আমার বুকের ভিতরে তোলপাড় করে। মহাকবির উদ্দেশে প্রণাম জানিয়ে স্বগৃহে প্রত্যাবর্তনের অধিকার বঞ্চিত মাইকেলের জন্মবাড়িটিকে পেছনে ফেলে আমরা একসময় মধুপল্লী ত্যাগ করি।

 

কাশবনে তাঁর একটি আবক্ষ ভাস্কর্য যথাসময়ে স্থাপন করা সম্ভব হয়েছিল, তিনি সমমর্যাদায় আমাদের প্রিয় কাশবনে আছেন, রবীন্দ্র-নজরুলের পাশে—। এই ভেবে মাইকেলের জন্য বুকের ভার কিছুটা লাঘব হয়েছে বলে মনে হতে থাকে।

কামরাঙ্গীর চর, ৩০ আগস্ট ২০১৫

 

 

 

 

 

 

বিমানে বসে লেখা

 

সন্দেহ করো না তো বোকা মেয়ে,

আমি তো তোমাকেই ভালোবাসি।

মনে মনে বেশি ভালোবাসি।

লুকিয়ে লুকিয়ে বেশি ভালোবাসি।

 

দেখে মনে হতে পারে সমান সমান,

কিন্তু মোটেও সমান সমান নয়।

আমি তোমাকেই বেশি ভালোবাসি,

এক গুণ আমি তোমাকে ওদের চেয়ে

কমপক্ষে তিন গুণ ভালোবাসি।

 

 

যশোর থেকে ঢাকার পথে

২৯ আগস্ট ২০১৫

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৪:২৪
যোহর১১:৫৮
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:১৭
এশা৭:৩১
সূর্যোদয় - ৫:৪১সূর্যাস্ত - ০৬:১২
পড়ুন