বুড়িচাঁদ গেছে বুঝি বেনোজলে ভেসে?
জাজাফী২৭ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
বুড়িচাঁদ গেছে বুঝি বেনোজলে ভেসে?
নক্ষত্রের আলো থাকে। সেই আলোয় সে আলোকিত করে রাখে গোটা ভুবন। কোনো কোনো নক্ষত্রের আলো আমাদের কাছে আসতে লেগে যায় বহু বছর। কোনো কোনোটির আলো এখনো এসে পৌঁছায়নি। কবি-সাহিত্যিকেরাও সাহিত্যের আকাশে এক-একটি নক্ষত্র। তাঁদেরও সাহিত্যবলয় আছে, তাঁদেরও আলোর ধারা আছে। বাংলা সাহিত্যাকাশের অগণিত নক্ষত্রের ভিড়ে অত্যুজ্জল নক্ষত্র কবি জীবনানন্দ দাশ। মহাকাশের দূর থেকে আরও দূরে থাকা যে-সব নক্ষত্রের আলো আমাদের কাছে আসতে লেগেছে অনেক বছর, ঠিক তেমনি বাংলা সাহিত্যের এই ধ্রুবতারার আলোর রেখা উদ্ভাসিত হতে সময় লেগেছে। যতদিনে তাঁর আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ততদিনে তিনি অন্য কোথাও অন্য কোনো ভুবনে চলে গেছেন। কিংবা হতে পারে তিনি আছেন আমাদেরই চারপাশে—‘হয়তো মানুষ নয়, হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে’। জীবদ্দশায় কবি যতটা না প্রকাশ পেয়েছিলেন তাঁর প্রয়াণের পর ক্রমাগতভাবে সেটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি নব নব রূপে আবিষ্কৃত হচ্ছেন। তাঁর রচিত ১৬০০ বা তারও অধিক সংখ্যক কবিতার মধ্যে তিনি প্রকাশ করেছিলেন আড়াইশর মতো। বাকি সব অপ্রকাশিত ছিল।

বাংলার প্রকৃতি আর রূপ তাঁর কবিতাতে যতটা ফুটে উঠেছে আর কারো লেখায় তা সেভাবে দেখা যায় না। স্বল্পভাষী এই কবি গ্রামবাংলার রূপকে খুব নিখুঁত চোখে দেখেছেন এবং সেগুলোকে শৈল্পিকভাবে কবিতায় তুলে ধরেছেন। একাধারে তিনি তাই রূপসী বাংলার কবি, তিমির হননের কবি বলে আখ্যায়িত হয়েছেন। কবির কবিতার প্রধান অংশ জুড়ে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দযের্র বর্ণনা। পাশাপাশি মৃত্যু নিয়েও তিনি খুব করে ভাবতেন। আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি তাতে দেখা যাচ্ছে কবি প্রায়ই ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কথা ভাবতেন। গত একশ বছরে ট্রাম দুর্ঘটনায় কোলকাতায় মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র একটি। সেই একজন আর কেউ নন, তিনি স্বয়ং কবি জীবনানন্দ দাশ!

‘শেষ ট্রাম মুছে গেছে, শেষ শব্দ, কলকাতা এখন

জীবনের, জগতের, প্রকৃতির অন্তিম নিশীথ;

চারিদিকে ঘরবাড়ি পোড়া-সাঁকো সমাধির ভীড়;

সে অনেক ক্লান্তি, ক্ষয়, অবিনশ্বর পথে ফিরে

যেন ঢের মহাসাগরের থেকে এসেছে নারীর

পুরোনো হূদয় নব নিবিড় শরীরে।’

শুরুতেই বলেছি কবি-সাহিত্যিকরা এক-একজন নক্ষত্ররূপে আবির্ভুত হয়ে আলোর রোশনাই ছড়িয়ে যান। তাদের লেখনি, কাব্যপ্রতিভা ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। জীবনানন্দের কবিতার বিষয়, উপমা, উেপ্রক্ষা, অনুপ্রাস, চিত্রকল্প, ছন্দ, সবর্তোভাবে তাঁর নিজস্ব এবং স্বতন্ত্র। জীবনানন্দের কবিতার মূল বৈশিষ্ট্য শব্দ স্পর্শ, রং, রূপ, গন্ধের অনুভূতিমুখর বাণী। একথা ঠিক এগুলো সরাসরি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অনুভূতি নয়, তিনি কল্পনার সঞ্জীবনী মন্ত্রে অনুভূতিমুখর। এমন ধারা বাংলা কবিতায় অভিনব। তাঁর কবিতায় এরকম অনুভূতি জীবন ও রূপ লাভ করে, বিশ্বময়ী প্রকৃতি, জীবন, মৃত্যু, কাল—সমস্ত কিছুই তাঁর কাছে রক্তে-মাংসে জীবন্ত।

জীবনানন্দ দাশ এমন একজন কবি যাঁর কবিতার প্রতি পাঠকের আকর্ষণ শেষ হবার নয়, বরং ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। কিছু কিছু সাহিত্য চিরন্তন হয়, যুগ পরিবর্তনের সাথে সাথে পাঠক পরিবর্তন হয়, সাহিত্যের নতুন নতুন ধারার প্রচলন হয়, নতুন পাঠক সৃষ্টি হয়, কিন্তু সেই সব চিরন্তন সাহিত্য থেকে যায় চিরন্তন রূপে। পঞ্চাশ বছর আগের পাঠকেরা যেটা পড়ে আপ্লুত হয়েছে সেই একই লেখা এখনকার প্রজন্মও পড়ে বিমুগ্ধ হচ্ছে—এমনকি আরো শত শত বছর পর যে নতুন পাঠকের জন্ম হবে তারাও মুগ্ধ হয়ে পড়বে সে-সব লেখা। এমনই লেখার মাধুর্য কবি জীবনানন্দের কবিতার। তিনি চলে গেছেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম তবুও তাঁর কবিতায় বুঁদ হয়ে আছে। তাঁর কবিতার ভাষা দিয়েই তাঁকে আমরা তুলে ধরতে পারি।

জীবনানন্দ দাশ এই দেশ, এই দেশের অপরূপ শোভায় মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেন ‘বাংলার রূপ আমি দেখিয়াছি, তাই পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর’। তিনি তাঁর কবিতায় বারবার এদেশের রূপে মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি এদেশেই মিশে থাকতে চেয়েছেন। শঙ্খচিল শালিকের বেশে নয়, তিনি আছেন তাঁর কবিতার প্রতিটি শব্দে, চরণে অগণিত পাঠকের হূদয়ে। যেমনটি তিনি জনান্তিক কবিতায় লিখেছেন—

‘তোমাকে দেখার মতো চোখ নেই— তবু,

গভীর বিস্ময়ে আমি টের পাই— তুমি

আজো এই পৃথিবীতে র’য়ে গেছ।’

জীবনানন্দ দাশও রয়ে গেছেন এই পৃথিবীতে তাঁর অগণিত কবিতায়, লেখায়।

স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বুদ্ধদেব বসু প্রমুখ কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতায় মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কবি বুদ্ধদেব বসুকে লেখা এক চিঠিতে বলেছিলেন, ‘জীবনানন্দ দাশের (মৃত্যুর পরে) চিত্ররূপময় কবিতাটি আমাকে আনন্দ দিয়েছে’। ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ সম্পর্কে লেখা আরেক চিঠিতে রবীন্দনাথ ঠাকুর, জীবনানন্দকে বলেছিলেন, ‘তোমার কবিতাগুলি পড়ে খুশি হয়েছি। তোমার লেখায় রস আছে, স্বকীয়তা আছে এবং তাকিয়ে দেখার আনন্দ আছে।’

জীবনানন্দের কবিতা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের প্রথম মন্তব্যটি থেকে বোঝা যায়, চিত্ররূপময় দিয়ে রবীন্দ্রনাথ বুঝিয়েছেন—জীবনানন্দ দাশ কবিতায় যে ছবি বা দৃশ্য অঙ্কন করেন তা রূপপ্রাচুর্যে ভরপুর। তাঁর কবিতায় সমাজ-জীবনের নানা নিপীড়ন, শোষণ কিংবা বিপ্লবের কথা তুলে ধরার বদলে তিনি গিয়েছেন প্রকৃতির কাছে। তাই তাঁর কবিতায় প্রকৃতির চিত্রময় রূপটাই রবীন্দ্রনাথের কাছে ধরা দিয়েছে আনন্দ হয়ে, ফলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মুগ্ধতা নিয়েই বলেছেন ‘তোমার কবিতায় তাকিয়ে দেখার আনন্দ আছে।’

জীবনানন্দের ‘নীলিমা’ নামে একটি কবিতা আছে। কবিতাটি যখন বের হয় তখন বুদ্ধদেব বসুর বয়স মাত্র সতের বছর। ঢাকার একটি কলেজে তিনি তখন প্রথম বর্ষের ছাত্র। কিন্তু বুদ্ধদেব বসুই সাহিত্য-সমালোচক হিসেবে তাঁর চেয়ে দশ বছরের বড় সম্পূর্ণ অপরিচিত কবি জীবনানন্দ দাশকে আবিষ্কার করে তাঁকে নিয়ে লিখেন। কবি বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ সম্পর্কে বলেছিলেন—‘জীবনানন্দ দাশ আমাদের নির্জনতম স্বভাবের কবি। তিনি বাংলা কাব্যসাহিত্যে একটি অজ্ঞাতপূর্ব ধারা আবিষ্কার করেছেন বলে আমার মনে হয়।’

তাঁর কবিতা বৈচিত্র্যপূর্ণ। তিনি তাঁর কবিতার উপমা দিয়ে কখনো হেঁটেছেন পরাবাস্তবতার পথ ধরে, কখনো ইতিহাসের হারিয়ে যাওয়া জনপদে, আবার কখনো বা ব্যক্তি-বোধের গভীর অতলে। অতীতের সঙ্গে বর্তমানের, পুরোনোর সঙ্গে নতুনের, অসম্ভবে-সম্ভবে, অবিশ্বাস্য-বিশ্বাস্যে, গ্রামের-নগরের, সমকালের-হাজার বছরের অতীতের অদ্ভুত সংমিশ্রণ এঁকে দিতে তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। যেমন তিনি তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘বনলতা সেন’-এ সিংহল সমুদ্র ছেড়ে নাটোরের বনলতা সেনের মুখোমুখি হলে ভালোবাসায় সিক্তকণ্ঠে পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে তাকিয়ে প্রশ্ন করেছেন ‘এতোদিন কোথায় ছিলেন?’ পাঠক স্বভাবতই এই অংশে এসে থমকে দাঁড়ায়। মুগ্ধ হয়ে ভাবে কী আবেগে কবি হাজার মাইল দূরের সিংহল সমুদ্র থেকে চোখের পলকে চলে এসেছেন নাটোরের বনলতা সেনের কাছে, যেখানে দু’দণ্ড শান্তি খুঁজে পাওয়া যায়।

তিনি তাঁর কবিতায় প্রচুর উপমা ব্যবহার করেছেন ফলে তা পাঠকের হূদয়ে খুব সহজেই রেখাপাত করেছে। তিনি প্রকৃতিকে এতটাই বুকে ধরেছিলেন যে নিছক কোনো প্রেমের কবিতাতেও তিনি প্রকৃতির প্রলেপ দিয়েছেন। শিশিরেরও যে শব্দ থাকে এবং সেটা হলুদ পাতায় পড়লে কেমন শোনা যায় আমরা জেনেছি তাঁর কবিতা থেকে।

জীবনানন্দের কবিতা পড়ে আমরা ধানসিঁড়ি নদীতীরে হাঁটি, আবার জীবন্ত হয়ে ওঠে হারিয়ে ফেলা শৈশব আর কৈশোর। আর হয়তো খুঁজি বেতফলের ম্লান সেই মেয়েটিকে, যে জলের অপার সিঁড়ি বেয়ে কোথায় যে চলে গেছে।

রবীন্দ্রনাথের হাত ধরে বাংলা কাব্য-সাহিত্যে বর্ষাকাল, ভালোবাসার-ভালোলাগার অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। কিন্তু জীবনানন্দ তাঁর কবিতায় বর্ষাকালের চেয়ে হেমন্ত আর কার্তিকের কাছে গিয়েছেন। তিনি প্রতিনিয়ত নতুনের খোঁজ করেছেন, তাই তাঁর একটি কাব্যের সাথে মিল নেই অন্যটির।

সাহিত্যবোদ্ধারা মনে করেন জীবনানন্দের সমস্ত কবিতা মূলত তাঁরই ব্যক্তিচিন্তা হলেও—বিষয়ে, বক্তব্যে, ব্যঞ্জনায়, বিন্যাসে রয়েছে বৈচিত্র্য। তিনি যেমন স্বপ্নের হাতে নিজেকে সমর্পণ করেছেন, তেমনি একপর্যায়ে লিখেছেন ব্যঙ্গ কবিতাও। প্রেম ও মৃত্যুর মতো দুই বিপরীতকে মিলিয়ে দিয়েছেন। তবে সবকিছুর উপরে স্থান দিয়েছেন হূদয়কে। কেননা, তিনি মনে করতেন কবিতার বাস সেই হূদয়ের গভীর অন্ধকারেই।

‘একটি নক্ষত্র আসে; তারপর একা পায়ে চ’লে

ঝাউয়ের কিনার ঘেঁষে হেমন্তের তারাভরা রাতে

সে আসবে মনে হয়;—আমার দুয়ার অন্ধকারে

কখন খুলেছে তার সপ্রতিভ হাতে।’

জীবনানন্দের কবিতা বহুমাত্রিক, কোনো নিদিষ্ট একটি উপমা দিয়ে তাঁর বিপুল রচনাকে চিহ্নিত করা যায় না। অনেক পাঠক তাঁকে ‘রূপসী বাংলা’ কিংবা ‘বনলতা সেন’ কবিতা দিয়ে চেনে। কিন্তু শুধু এরকম দু-চারটি কবিতাই নয় বরং তাঁর অধিকাংশ কবিতাই পাঠক পড়তে গিয়ে বিমুগ্ধ হবে এবং ক্রমাগত তাঁর কবিতায় বুঁদ হয়ে থাকবে।

কবি জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে রচিত হয়েছে অগণিত গ্রন্থ। তার মধ্যে মার্কিন লেখক ও গবেষক ক্লিন্টন বি সিলির লেখা ‘অ্যা পোয়েট অ্যাপার্ট’ একটি—যা লেখক ফারুক মঈনউদ্দীন ‘অনন্য জীবনানন্দ’ শিরোনামে অনুবাদ করেছেন। প্রভাতকুমার দাস ‘জীবনানন্দ দাশ’ নামে একটি চমত্কার জীবনীগ্রন্থ লিখেছেন। বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক শাহাদুজ্জামান জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে বৃহত্ পরিসরে লিখেছেন ‘একজন কমলালেবু’ নামে একটি বই—যা পাঠকমহলে সাড়া ফেলেছে।

জীবনানন্দ দাশ কবি হিসেবে খ্যাতির শীর্ষে অবস্থান করলেও তাঁর আরো পরিচয় আছে। তিনি একাধারে গল্প লিখেছেন এবং উপন্যাসও লিখে গেছেন। এ যাবত্কালে মাল্যবান, সুতীর্থ এবং জলপাইহাটি নামে তিনটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। একপর্যায়ে কবির অর্থ উপার্জনের প্রয়োজন হয়ে পড়ে ফলে তিনি টাকার জন্য গল্প-উপন্যাস লিখতে শুরু করেন। ক্লিন্টন বি সিলির লেখা থেকে জানা যায়, তিনি ‘দেশ’ পত্রিকায় তাঁর উপন্যাস প্রকাশের সম্ভাবনা বিষয়ে জানার জন্য সম্পাদকের কাছে গিয়েছিলেন। ‘দেশ’ হচ্ছে অল্প কয়েকটা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের একটি, যেটি লেখার জন্য ঠিকভাবে টাকাপয়সা দিতে পারত। সম্পাদক সাগরময় ঘোষ জীবনানন্দের লেখা ছাপতে রাজি ছিলেন, কিন্তু তিনি কখনোই কোনো লেখা দেননি।

সম্প্রতি কবিকে নিয়ে ‘পলাতক’ নামে কবির জীবনীভিত্তিক ছবি তৈরি হচ্ছে কলকাতায়। ছবিটি নির্মাণ করছেন সায়ন্তন মুখোপাধ্যায়। এতে জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে অভিনয় করবেন কলকাতার ব্রাত্য বসু। কবির স্ত্রী লাবণ্য দাশের চরিত্রে অভিনয় করবেন বাংলাদেশের জয়া আহসান।

নিস্তব্ধতার কবির আলোর রোশনাই এভাবেই ক্রমাগত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। যিনি যেতে যেতে উচ্চারণ করেছেন—

‘হে প্রগাঢ় পিতামহী, আজো চমত্কার?

আমিও তোমার মতো বুড়ো হবো— বুড়ি চাঁদটারে আমি ক’রে দেবো

কালীদহে বেনোজলে পার;

আমরা দু-জনে মিলে শূন্য ক’রে চ’লে যাবো জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার।’

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ অক্টোবর, ২০২০ ইং
ফজর৪:৪৫
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৬
মাগরিব৫:২৭
এশা৬:৪০
সূর্যোদয় - ৬:০১সূর্যাস্ত - ০৫:২২
পড়ুন