উপনির্বাচন বিজেপির জন্য সতর্ক বার্তা
০৪ জুন, ২০১৮ ইং
উপনির্বাচন বিজেপির জন্য সতর্ক বার্তা
তালেব রানা

 

ভারতে আগামী বছরের লোকসভা নির্বাচনের আগে ১০ রাজ্যে অনুষ্ঠিত বেশ কয়েকটি উপনির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। লোকসভার চারটি ও বিধানসভার ১০টি আসনের মধ্যে দুটিতে জিতেছে তারা। বাকি ১২টিতেই বিরোধী দলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছে। ভালো করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস।

গত সোমবার বিভিন্ন আসনে এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, মহারাষ্ট্রে লোকসভার একটি আসন ও উত্তরাখন্ডের বিধানসভার একটি আসনে বিজেপি জিতেছে। উত্তর প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ কৈরানা লোকসভা এবং নুরপুর বিধানসভা আসনে হেরেছে তারা। কৈরানায় জিতেছেন জোট সমর্থিত (এসপি, বিএসপি এবং কংগ্রেস) আরএলডি প্রার্থী তবস্সুম হাসান এবং নুরপুরে এসপি প্রার্থী নায়মুল হাসান। এর মাধ্যমে চার বছর পর প্রথম মুসলিম পার্লামেন্ট সদস্য পেয়েছে উত্তর প্রদেশ। চারটি লোকসভা আসনের মধ্যে বিজেপির জয় এসেছে একমাত্র মহারাষ্ট্রের পালঘর কেন্দ্রে। যদিও একে পাত্তা দিচ্ছের না বিরোধীরা। কারণ এই আসনে পুরনো শরিক শিবসেনাকে হারিয়ে জয় পেয়েছে বিজেপি।

ফল ঘোষণার পর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক খবরে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপি বনাম অন্য দলগুলোর জোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শক্ত হবে। কেরালা, ঝাড়খন্ড, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, কর্নাটক এবং পাঞ্জাবের উপনির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর জয় সে আভাসকে জোরালো করে তুলেছে।

আনন্দবাজার পত্রিকার এক খবরে বলা হয়েছে, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী টুইটারে জয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পরবর্তী লোকসভা ভোটে এই ফলই পথ দেখাবে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, বৃহস্পতিবার বিভিন্ন রাজ্যের ভোটের ফলাফল একটা সংকেত। এটা বিজেপির জন্য অশনি সংকেত। তার দাবি, উত্তর প্রদেশই দেশকে পথ দেখাচ্ছে। মায়াবতী, অখিলেশ, কংগ্রেস একজোট হয়ে যা করছেন, তাতে আগামী ভোটে ৭০টি আসনের ফলাফল উল্টো হয়ে যাবে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, ফল বলছে জনগণ মোদী সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

তবে বিরোধীদের এই বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, একটা বড় লাফ দিতে গেলে দু’পা পিছোতে হয়। আমরা বড় লাফই দেব। বিজেপির একাংশ বলছে, কিছু কেন্দ্রের উপনির্বাচনের সঙ্গে গোটা দেশের লোকসভা নির্বাচনকে এক করে দেখাটা বোকামি। কারণ উপনির্বাচন হয় স্থানীয় ‘ছোটখাটো’ বিষয়ের ওপর। ক্ষমতাসীনরা যতই বড় কথা বলুক না কেন আশঙ্কা কিন্তু রয়েই যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথমে গোরক্ষপুর-ফুলপুর, তার পরে কৈরানা-নুরপুর দুই দফার উপনির্বাচনেই স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, উত্তরপ্রদেশে বিরোধী শিবির হাত মেলালে বিজেপির জয় প্রায় অসম্ভব। যার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ২০১৪ সালে উত্তরপ্রদেশের ৭৩টি আসনে জিতেছিল বিজেপি, সেই অমিত শাহও সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ঘরোয়া আলাপচারিতায় স্বীকার করেছেন, বিরোধী দলগুলো হাত মেলালে, অন্য রাজ্যে যাই হোক না কেন উত্তরপ্রদেশে বিপাকে পড়তে হবে বিজেপিকে।

 

আনন্দবাজার পত্রিকার আরেক খবরে বলা হয়েছে, হাতে সময় খুব কম। লোকসভা নির্বাচনের আর এক বছরও বাকি নেই। এই উপনির্বাচনে  জনমত পরখ করা হয়ে গেছে। ভোটের ফল বিজেপির জন্য এক অশনিসঙ্কেতই। ফল বলছে, ২০১৪ সালের মোদী ম্যাজিক ফিরিয়ে আনতে হলে খুব দ্রুত নতুন বন্ধুও খুঁজতে হবে বিজেপিকে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক খবরে বলা হয়েছে, উপনির্বাচনে মোদীর দল   বড় ধাক্কা খেয়েছে। লোকসভায় ‘সিম্পল    মেজোরিটি’ হারিয়েছে তারা। লোকসভায় তাদের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭২-এ। হিন্দুস্তান টাইমসের রাজনৈতিক সম্পাদক বিনোদ শর্মা আল জাজিরা’কে বলেন, এই উপনির্বাচনে বিরোধীরা অনেক ভালো করেছে।

একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, সামাজিক জোটগুলো বিকাশমান রাজনৈতিক জোটকে সমর্থন দিচ্ছে। এটা বিরোধীদের ব্যাপকভাবে উজ্জীবিত করবে। এই উপনির্বাচনের ফল বলছে, ২০১৯ সালের নির্বাচনে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হবে। অর্থাত্ ২০১৪ সালে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসলেও আগামীতে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। এক্ষেত্রে জোটবদ্ধভাবেই তাদের সরকার গঠন করতে হবে। তবে বিশ্লেষকরা যে যাই বলুন না কেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এখনো জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন নরেন্দ্র মোদী। সম্প্রতি ভারতের টাইমস গ্রুপ একটি অনলাইন সমীক্ষা চালিয়েছে। আগামী বছর অনুষ্ঠেয় ভারতের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে চালানো জনমত সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৭১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার বলেছেন, ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে তারা নরেন্দ্র মোদীকেই ভোট দেবেন। টাইমস গ্রুপের ৯টি অনলাইন মিডিয়ায় ২৩ মে থেকে ২৫ মে পর্যন্ত ৯টি ভাষায় ওই সমীক্ষা চালানো হয়।

ওই মেগা অনলাইন ভোটে ৮ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৬ জন ভোট দিয়েছেন। আর মোট ভোটারের ৭৩ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার বলেছেন ২০১৯ সালে মোদী সরকারই ক্ষমতায় আসছে। বর্তমানে ভারতের ২৯টি রাজ্যের মধ্যে ২১টিতেই বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক খবরে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে তারা ২৮২টি আসনে জিতেছিল। চার বছরের মাথায় তা ২৭২ এ দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি বলছে, ২০১৯ সালের জন্য তাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। কিছুদিন আগেই কর্ণাটকের সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েও সরকার গড়তে পারেনি বিজেপি। সেখানে  কংগ্রেসের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠন করেছে আঞ্চলিক দল।

এটা স্পষ্টতই বার্তা দেয় যে, বিজেপি’কে বন্ধু বাড়াতেই হবে। এনডিএ জোটের শরিকদের ধরে রাখতে কাজ করতে হবে। জোটের অসন্তোষ কমাতে বড় ভাই সুলভ আচরণ বন্ধ করতে হবে বিজেপিকে। আইনপ্রণেতা ও সাংবাদিক চন্দন মিত্র এনডিটিভি’কে বলেন, এখনই সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। ঘরের ভেতর ফাটল দেখা দিলে রাজনৈতিক সমর্থন ধসে পড়তে পারে।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৪ জুন, ২০১৯ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৪৬
এশা৮:০৯
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪১
পড়ুন