সাবমেরিন কেবল্্-এর মাধ্যমে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস!
আশেক খান আলেখীন০২ জুলাই, ২০১৮ ইং
সাবমেরিন কেবল্্-এর মাধ্যমে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস!

সারা পৃথিবীতে সাগরের তলদেশ দিয়ে চলে গেছে ১০ লাখ কিলোমিটারেরও বেশি ফাইবার অপটিক কেবল্ যা ইন্টারনেটের ডাটা ট্রান্সফারের কাজে ব্যবহূত হয়ে থাকে। সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া এই সমস্ত ইন্টারনেট ফাইবার অপটিক কেবলগুলোকে ভূকম্পনের ডাটা সংগ্রহের কাজে লাগানো যাবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এর ফলে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস অনেক আগেভাগেই দেওয়া সম্ভব হবে। এতে  ভূমিকম্প পুরোমাত্রায় আঘাত হানার আগেই আক্রান্ত এলাকা থেকে জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া যাবে এবং এর ফলে ক্ষয়ক্ষতিও অনেক কম হবে। সম্প্রতি অনলাইন ম্যাগাজিন ‘সাইন্স’-এ প্রকাশিত এক গবেষণা রিপোর্টে এ কথা বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির ভূকম্পবিদ বারবারা রোমানোয়িক বলেন, ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নির্ধারণে এটা খুবই কার্যকর পন্থা হতে পারে। পৃথিবীর অধিকাংশ ভূকম্পন নির্ধারণ কেন্দ্র স্থলভাগে অবস্থিত। যেখানে বিশ্বের চারভাগের তিনভাগই রয়েছে পানির নিচে। ফলে বিশ্বের বেশিরভাগ অংশই থেকে যাচ্ছে ভূকম্পন নির্ধারণ কেন্দ্রগুলোর আওতার বাইরে। এক্ষেত্রে ফাইবার অপটিক কেবল্গুলো হতে পারে সাগরের তলদেশের ভূকম্পন নির্ধারণের উপযুক্ত মাধ্যম। এই কেবলগুলোর মাধ্যমে পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াও অল্পবিস্তর জানা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। সাগরে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুত্পাত কিংবা সুনামি সতর্কতার ক্ষেত্রেও সাবমেরিন কেবল্গুলো কাজে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নির্ধারণ পদ্ধতিটি ঠিক কীভাবে কাজ করবে?-এর উত্তরে গবেষকরা বলছেন, অপটিক্যাল ফাইবারের এক প্রান্ত দিয়ে লেজার লাইট প্রবেশ করানো হবে এবং ফাইবারের অপর প্রান্ত দিয়ে বের হওয়া লেজার লাইটের তারতম্য দেখেই ভূকম্পনের মাত্রা নির্ধারণ করা যাবে। এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, যখন কোনো সিসমিক ওয়েভ সাবমেরিন কেবলকে ঝাঁকি দেবে তখন ফাইবার অপটিক কেবলের মধ্য দিয়ে যাওয়া লেজার লাইটে তারতম্যের সৃষ্টি করবে। আর আলোর এই তারতম্য থেকেই ভূকম্পনের মাত্রা জানা সম্ভব হবে। অনেকগুলো ফাইবার অপটিক কেবলের লেজার লাইটের তারতম্যের ফলাফল একত্র করে ভূমিকম্পের উত্পত্তিস্থল নির্ধারণ করা যাবে। কেবলের মধ্য দিয়ে যাওয়া ভূকম্পন তরঙ্গের (সিসমিক ওয়েভ) শক্তি নির্ধারণ করা গেলে এবং এই সিসমিক তরঙ্গের উত্পত্তিস্থল জানতে পারলে ভূমিকম্পের প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণের কাজটি অনেক সহজ হয়ে যাবে।

গবেষকরা জলে-স্থলে দু’জায়গাতেই ফাইবার অপটিক কেবলে তাদের ভূকম্পন-নির্ধারণ কৌশল পরীক্ষা করেছেন। দেখা গেছে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের সাগরতলে অবস্থিত একটি ৭৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ফাইবার অপটিক কেবলে নিউজিল্যান্ড ও জাপানে সৃষ্ট ভূমিকম্প ধরা পড়েছে যেগুলোর মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭.৯ ও ৬.৯। এছাড়া যুক্তরাজ্য ও ইতালিতে অবস্থিত স্থলভিত্তিক ফাইবার অপটিক কেবলে ৭.৩ মাত্রার ভূকম্পন ধরা পড়েছে যেটি গতবছরের নভেম্বরে ইরাক-ইরান সীমান্তে আঘাত হেনেছিল। আর গত বছরেরই সেপ্টেম্বর মাসে ইতালির সিসিলি থেকে মাল্টা পর্যন্ত বিস্তৃত ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন কেবলে ৩.৪ মাত্রা ভূকম্পন ধরা পড়ে যার উত্পত্তিস্থল ছিল ভূমধ্যসাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চল। তবে ফাইবার অপটিক্যাল কেবলের মাধ্যমে ভূকম্পন নির্ধারণের এই পদ্ধতিটি আরও অনেক বেশি দীর্ঘ সাবমেরিন কেবলে পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ জুলাই, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৭
যোহর১২:০৩
আসর৪:৪৩
মাগরিব৬:৫৩
এশা৮:১৭
সূর্যোদয় - ৫:১৫সূর্যাস্ত - ০৬:৪৮
পড়ুন