কখন নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেবে?
০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ইং
কখন নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেবে?
 ছেলেবেলার ডায়েরি থেকে g শায়লা সিমি

সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা বড়দের ওপর অনেক নির্ভর করি। আমি খুব চাইতাম নানা বিষয়ে সিদ্ধান্তগুলো মা করে দিক! কোনো বিষয় আমার কাছে জটিল মনে হলে আমি সোজা-সাপ্টা চোখ বন্ধ করে ‘মা’ কি করতে বলেছিল তাই ভাবতাম। তাতে আমার অনেক উপকার হয়েছে।

আমি পড়তে খুবই ভালোবাসি। এই ঘটনা বলার কারণ কিন্তু দেখে লেখা নয়, কারণ  সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আমরা যেভাবে আচরণ করি তাই!

আর আমার মা যে সকল সিদ্ধান্ত আমাকে করে দিয়েছেন তার বেশিরভাগ আমার জন্য কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে ঠিক, কিন্তু যার সিদ্ধান্ত তাকেও সে বিষয়ে ভাবতে হবে। এই ভাবনায় একটা মুক্তির জায়গা আছে। নিজেকে মুক্ত করে সিদ্ধান্ত নিতে পারার ব্যাপারটা খুব আনন্দের বিষয়। 

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা ভবিষ্যত্ নিয়ে ভীত থাকি। এই ভীতি পরবর্তীতে আমাদেরকে সিদ্ধান্তহীন করে দিতে পারে। সুতরাং বর্তমান কি, বর্তমানে এই আচরণের বা বিশেষ সিদ্ধান্তের ফলাফল কি হচ্ছে সেটা ভাবাটা জরুরি! 

যেমন—তুমি ক্রিকেট খেলায় ভালো, অথচ  তোমার অন্য বন্ধুরা তোমার ক্রিকেট খেলার সময়টুকু পড়ার  কাজে লাগাচ্ছে। তোমার ভয় হতে পারে তুমি ওদের তুলনায় পরীক্ষায় ভালো করবে না! সেক্ষেত্রে তুমি কি করবে? নিজের সিদ্ধান্তকে সম্মান করে চলতে হয়। যদি খেলতেই চাও তবে পড়ার  জন্য একটা আলাদা সময় বের করে নাও। কেননা, ক্রিকেট তোমার জন্য অন্য একটা সুযোগের দ্বার খুলে দিতে পারে। কিন্তু  কোনো সিদ্ধান্তের ফলাফল যদি পরবর্তীতে খুব সঠিক না মনে হয় তখন কি করবে?

আমাদের জীবনটা অনেক বড়। অনেকবার জীবনে অনেক কিছু করার সুযোগ আসে। ‘এই কাজটি আমরা ভুল করেছি’ এ ধরনের চিন্তা ও ধারণা খুব খারাপ। যাকে আমি বলবো পজিটিভ চিন্তা নয়।  কোনো কাজের অভিজ্ঞতা কখনও ভুল বা ঠিক নয়। এটা একটা অভিজ্ঞতা মাত্র এবং পৃথিবীটা প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে থাকে।  প্রতিযোগিতা কিন্তু সবসময় খুব সরল না-ও হতে পারে।  মনে রাখবে,  প্রতিযোগিতায় হারা বা জিতে যাওয়া কোনো বিষয় নয়। বিষয় অভিজ্ঞতা অর্জন, নিজের দক্ষতাকে বিশ্বাস করা। প্রতিযোগিতার সঠিক মানে—নিজের টুকু ঠিকভাবে করা, অন্যরা তোমার তুলনায় কি করছে তা নয়। পরিষ্কার থাকা ও গুছিয়ে রাখা ব্যাপারটা একটা মুক্তি এনে দেয়। যেমন—তোমার প্রয়োজনীয়  জিনিসগুলো নিজের পছন্দমতো জায়গায় গুছিয়ে রাখতে পরো, তোমার ইচ্ছে হলে খুঁজে পাওয়া সহজ হবে। সকল বিষয়ে নিজের ওপর নির্ভরশীলতা মানুষকে দক্ষ করে, মুক্ত করে নানা অনিশ্চয়তার ভয় থেকে।

কোনো প্রকার ভয়ই আসলে ভালো ফলাফল দেয় না। তা ভুতের বা ভবিষ্যতের। ভুত-ভবিষ্যত্ না ভেবে, ভেবে দেখো তোমার নিজের ওপর, তোমার কাজের ওপর তোমার বিশ্বাস কতখানি! এবং মুক্ত হয়ে চিন্তা করো। তোমাকে অনেক ধন্যবাদ।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন