ভোম্বলের লোভ
০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ইং
ভোম্বলের লোভ
  ছোটগল্প g শাম্মী তুলতুল

নাহ! ভোম্বলটাকে নিয়ে আর পারা গেল না। সারাক্ষণ খাই খাই। বাবা-মা মহাবিরক্ত। এত্ত এত্ত খাবার খেয়েও তার পেট ভরে না। পেটটা যেন মস্তবড় সাগর। খাবার কি সে এক হাতে খায়, দু’হাত ভরে গাপুস গুপুস চেটে পুটে খায়। তাতেও তার সস্তি নেই। পেটটা যে ভরতেই চায় না। ভোম্বলের বাবা-মা খুবই গরীব। বাবা পরের জমিতে চাষ করে। মা এ-বাড়ি ও-বাড়ি কাজ করে কোনোরকমে সংসার চালায়। খাওয়ার জন্য বাড়িতে যা রান্না হয় তার অর্ধেক চলে যায় ভোম্বলের পেটে। লুকিয়ে কিচ্ছু রাখার উপায়ও নেই। আর কিছুতে বুদ্ধি না থাক খাবার কোথায় রাখে মা সে বুদ্ধি ঠিকই মাথায় রাখে সে। যখন যা পায় তাই সাবার করে ফেলে সে। গরীব, অভাবী বাবা-মায়ের কোনো সহযোগিতা করে না সে। দিনরাত খাওয়া আর ঘুরে বেড়ানো এই তার কাজ। বেড়ে যাওয়া শরীরটা দিন দিন ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে। পাড়ার সবাই ভোম্বলকে দেখলেই ভয় পায়। দৌড়ে পালিয়ে যায়। দূর থেকে তার তামাশা দেখে। তাতে কি? ভোম্বলের কোনোকিছুতে আসে যায় না। ভোম্বল পায়ের ওপর পা তুলে নিশ্চিন্তে খায় আর নাক ডেকে ঘুমায়। তার ইয়্যা মোটা মোটা হাত, ইয়্যা মোটা মোটা পা। হাঁটলে যেন পুরো গ্রাম থরথর করে কাঁপে। পায়ের থাবায় যত পোকামাকড় আছে সব পিষে মাটিতে মিশে যায়। তাকে দেখলে ছোট্ট শিশুরা তার গায়ে চড়ে বসে। পেটে গুতো দেয়। আর তাতে খিল খিল করে হেসে ওঠে ভোম্বল। মশাবাহিনী মজা করে ভোম্বলের রক্ত খায়। মাছি সব তার নাকের ডগায় ভন ভন করে নাচতে থাকে। শুধু ঘরের খাবার খেয়েই যে মশায় ক্ষ্যান্ত তা নয়, গ্রামের যত ফলের গাছ আছে একটাতেও ফল থাকে না। সবই  তার পেটে। এতে পাড়ার লোকজন তার ওপর ক্ষ্যাপা। লোকজনকে রাগতে দেখলে সে তার মস্তবড় পেটটায় হাত বুলায়, আর মুখ দিয়ে বিশ্রী ঢেকুর তোলে। বাবা-মা সহ্য করলেও তার এই যন্ত্রণা পাড়ার সবাই দিনের পর দিন সহ্য করে না। তাইতো সব ছেলে-বুড়ো মিলে মিটিং ডাকলো। মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিলো তাকে শিক্ষা দিতে প্রতিটি ফলের ভেতর পেট ব্যথার ঔষধ দিয়ে দেওয়া হবে। এতে পেটের যন্ত্রণায় ভোম্বল কাতরাবে, তখন ভয়ে আর কারও গাছের ফল খেতে সাহস পাবে না সে। মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজও হলো।

তাই প্রতিদিনের মতো একদিন ভোম্বল রাস্তা দিয়ে গুনগুন করে গান গেয়ে যাচ্ছিল। পথে গাছের ফল চোখে পড়লো। লোভী কি আর লোভ  সামলায়? এদিক ওদিক তাকালো। দেখলো চারপাশে কেউ নেই। অমনিতেই হাত দিয়ে পেড়ে ফলটা গোগ্রাসে গিলে ফেললো। খেয়ে ভালো মানুষের মতো হাঁটা  দিলো। লুকিয়ে লুকিয়ে গ্রামের ছেলেপুলেরা তা দেখে অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো। গ্রামের ছেলেরা কবিতার সুরে বললো, ‘বোকা খাদক বেটা, তোর হবে এবার সাজা।’

দিন তো শেষ। রাতের বেলা হঠাত্ ভোম্বলের চিত্কার। ওরে মা পেট ব্যথা। পেট বেথা। মরে গেলাম রে। পেট জ্বলে গেল রে।

ভোম্বলের বাবা-মা ভোম্বলের চিত্কার শুনে ঘুম থেকে  উঠে যায়। দেখে ছেলের অবস্থা খারাপ। তড়িঘড়ি করে ভোম্বলকে নিয়ে যাওয়া হলো পার্শ্ববর্তী ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার বিস্তারিত জানতে পেরে বললো, ওই ফলটায় বিষাক্ত ঔষধ ছিল। তাই এই অবস্থা হয়েছে।

মা তখন ভোম্বলকে ধমক দিয়ে বললো, লোভের ফল এমনই হয়।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন