পোশাকে বর্ণমালার মোটিফ
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
পোশাকে বর্ণমালার মোটিফ
একুশ আমাদের অহংকার। মহান একুশকে সামনে রেখে আমাদের দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো প্রতিবারের মতো এবারও সেজেছে নানা বৈচিত্র্যময় পোশাকে। পোশাকে বাংলা বর্ণমালাসহ বিভিন্ন ডিজাইন মোটিফ নিয়ে লিখেছেন নওশীন শর্মিলীধী

বাঙালি জাতির এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস একুশে ফেব্রুয়ারি। তাই তো ফেব্রুয়ারি ভাষার মাস হিসেবে সমগ্র বিশ্বের নিকট পরিচিত। এই মাসে চেতনায় এবং শ্রদ্ধায় অবনত হয় সমগ্র জাতি ও বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্র ও ভাষাপ্রেমীরা। বাংলাদেশে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের যে ধারাবাহিকতার পুনর্বিন্যাস, পুননির্মাণ ও অনুশীলন ইত্যাদি প্রক্রিয়ার চলমানতা রয়েছে, সেই পরিপ্রেক্ষিতে ৫২-এর ভাষা আন্দোলনের পটভূমি প্রতিদিন প্রতিমাসে প্রতিবছর ক্রমশই আলোকিত হয়ে উঠছে। লক্ষণীয় যে, এই ফেব্রুয়ারি মাসে পুরো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিপণন ও ঐতিহ্য বিকাশে দেশীয় ফ্যাশন হাউস ও প্রতিষ্ঠানসমূহ একুশের বিষয়বস্তু নির্ভর আমাদের চেতনা জাগানিয়া পোশাক-আশাক ও ফ্যাশন সামগ্রী তৈরি করে যাচ্ছে; মূলত আমাদের জাতীয় চেতনায় পুনঃ পুনঃ বিকাশের তাগিদে। বিভিন্ন উত্সবের পাশাপাশি নগরবাসীরা একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে পোশাকের প্রতিও তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন প্রদানের মধ্যদিয়ে শহীদ দিবসের মর্মগাঁথাকে প্রতিবছরের ফেব্রুয়ারিতে শরীরে জড়িয়ে নেন গভীর ভালোবাসায়। দেশীয় ফেব্রিকে তৈরি একুশের পোশাক বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসের আউটলেট থেকে সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া শুরু হয় ফেব্রুয়ারির গোড়া থেকে। রাজধানীর শতাধিক ফ্যাশন হাউস নাগরিক জীবনের পরম এই অনুষঙ্গকে অত্যন্ত নান্দনিকরূপে উপস্থাপনের লক্ষ্যে গ্রহণ করে বিপুল আয়োজন। এই আয়োজনে থাকে পাঞ্জাবি, শার্ট, ফতুয়া, শাড়ি, থ্রিপিস, টি-শার্ট, শোপিস, টিপট, মগসহ নানা সামগ্রী। এবারের একুশের পোশাক প্রসঙ্গে অঞ্জন’স-এর শীর্ষ নির্বাহী শাহীন আহম্মেদ বলেন, ‘শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীদের জন্য ভাষার মাসে আমরা এনেছি ‘একুশের চেতনা’ শীর্ষক পোশাক। সাদা, কালো আর লাল রঙকে প্রাধান্য দিয়ে পোশাকের ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাংলা বর্ণমালাসহ বিভিন্ন ডিজাইন মোটিফ। ছোটদের জন্য একুশের পোশাকের আয়োজনে থাকছে শার্ট, ফতুয়া, সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি। আমাদের সকল আউটলেটে আগামী একুশে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া যাবে পোশাকে ক্যালিগ্রাফি-ভিত্তিক এ আয়োজন।’ বর্তমানের বয়ানে একুশের চেতনা ফুটিয়ে তোলার এক শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে নানা গল্পের পটভূমি হয়ে থাকা টি-শার্ট। টি-শার্টের ছোট্ট এক চিলতে জমিনে যে কত আবেগ আর অনুভূতি এক হয়ে মিশে যেতে পারে, তা যেন সময়ের প্রতিটি পরতে পরতে একটু একটু করে উন্মোচিত হচ্ছে আমাদের সামনে। আর তাই একুশের চেতনাকে ধারণ করে থাকা টি-শার্টগুলোতে যেমন দেখা মেলে চিরাচরিত বর্ণমালার সুনিপুণ কোনো বিন্যাস, তেমনি এই সীমিত ক্যানভাসেই অপরিসীম আবেদন নিয়ে উঠে আসে দেশের প্রতি ভালোবাসার নানা গল্প। একটা সময় ছিল যখন, ফাল্গুন আর একুশের আয়োজনে মেয়েদের প্রথম পছন্দ ছিল শাড়ি। শাড়ির প্রতি সেই পক্ষপাত হয়তো এই সময়ের মেয়েদের মাঝেও কমবেশি বিদ্যমান। সাদা-কালো কিংবা নীলের পটভূমিতে একুশের বর্ণমালাকে ধারণ করা মেয়েদের শাড়িতে সুতির প্রাধান্যই বেশি। এছাড়া নারী-পুরুষ নির্বিশেষে একুশের অন্য যে অনুষঙ্গগুলো যোগ হতে পারে পরিধেয়র সঙ্গে, তার মধ্যে প্রথমেই বলতে হয় মেয়েদের মাথা আর গলায় গাঁদা ফুলের সাজের কথা। একদিকে একুশের শহীদ বেদীতে গাঁদা কিংবা গোলাপের শ্রদ্ধার্ঘ আর অন্যদিকে একুশের চেতনায় সামিল হওয়া কোনো তরুণীর মাথায় শোভা পাওয়া গাঁদার মালা যেন একুশের ছন্দটাকেই নিয়ে আসে সকলের মাঝে। আবার মাথায় বাংলাদেশের পতাকার রঙের কোনো ফেট্টি বা হাতে লাল-সবুজের কোনো ব্রেসলেটও আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয় ভিন্ন এক অনুভূতির সঙ্গে। সেই সঙ্গে ছোট-বড় সকলের গালে রংতুলির ছোঁয়ায় জন্ম নেওয়া বর্ণমালা আর একুশের মিনারও যেন সবাইকে মনে করিয়ে দেয়—আজ একুশে ফেব্রুয়ারি। তাই একুশে ফেব্রুয়ারি শোককে শক্তিতে পরিণত করে ভাষার জন্য ভালোবাসা প্রকাশের দিন।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৬
যোহর১২:১৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:৫২
পড়ুন