পোড়ামাটির সামগ্রীর প্রদর্শনীর উদ্বোধন
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
পোড়ামাটির সামগ্রীর প্রদর্শনীর উদ্বোধন
ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার সংলগ্ন দুটি গ্রাম মিঠাপুর ও জামালপুরের মৃিশল্পীদের শিল্পকর্ম নিয়ে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী মৃত্সামগ্রীর প্রদর্শনী গত শুক্রবার বিকালে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী কক্ষে শুরু হয়েছে। ইউনেস্কোর রকফান্ড অ্যান্ড ট্রাস্টের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ আয়োজিত এই প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন আগত অতিথিরা। এর আগে জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই আয়োজন সম্পর্কে বিস্তারিত জানান বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের সভাপতি এবং প্রকল্প সমন্বয়ক শ্রী চন্দ্র শেখর সাহা। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বিয়েট্রিস কালদুন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালন আলতাফ হোসেন, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী ও পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সচিব বেগম আকতারি মুমতাজ। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন কিজ্জি মাহনিন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কারুশিল্প পরিষদের নির্বাহী সদস্য শেখ সাইফুর রহমান।

ইউনেস্কোর রকফান্ড অ্যান্ড ট্রাস্টের সহায়তায় বাংলাদেশের ধ্বংসপ্রায় হেরিটেজ সাইট পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে স্থানীয় কারুশিল্পীদের সম্পৃক্ত করে পণ্য তৈরির এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ।

এরপর ৯ মাসের নির্ধারিত সময়ের এই প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে ২৬ জন মৃিশল্পীকে নিয়ে একাধিক অনুশীলন কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এরপর সেখান থেকে বাছাই করা শিল্পীদের দিয়ে পাহাড়পুরের মৃত্ফলকের রেপ্লিকা, টেপাপুতুল ও অন্যান্য সামগ্রী তৈরি করা হয়। চিরাচারিত পদ্ধতিতে মৃত্পাত্র বানাতে অভ্যস্ত মৃিশল্পীদের সৃষ্টিকর্মে প্রতীয়মান হয়েছে নবলব্ধ জ্ঞান ও সৃজনকৌশলের নান্দনিকতা। তাদের তৈরি মৃত্সামগ্রী এই প্রদর্শনীতে স্থান পাচ্ছে। প্রদর্শনীটি চলবে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

উল্লেখ প্রয়োজন, ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত সাড়ের তিনদশক ধরে বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ কারুশিল্প ও কারুশিল্পের উন্নয়ন, সংরক্ষণ, গবেষণা, প্রকল্প বাস্তবায়ন, কারুশিল্পীদের স্বীকৃতি প্রদান, বিষয়ভিত্তিক মেলা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করে আসছে।

এই আয়োজন সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। আর এই প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য হলো বৃহত্তর বাজারের সঙ্গে তাদের কাজকে পরিচিত করানো। বস্তুত এসব মৃিশল্পীদের কাজ নগরজীবনে অভ্যস্ত মানুষকে নতুনভাবে ভাবতে আগ্রহী ও উত্সাহী করবে। পাশাপাশি তারা এসব সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণে প্রয়াসী হবে। গ্রামীণ মৃিশল্পীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে সম্ভবনাময় ভবিষ্যত্ তৈরির এই পদ্ধতিগত প্রক্রিয়ার পরীক্ষামূলক বাস্তবায়ন যথেষ্ট দায়িত্ব নিয়ে যথাসময়ে সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ। ইউনেস্কোর সহায়তায় গৃহীত এই উদ্যোগ বলার অপেক্ষা রাখে না, নতুন সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি মৃিশল্পীদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যত্ সৃজনকর্মের বাজার তৈরি হলে ইউনেস্কো ও বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের যৌথ প্রয়াস সার্থক হবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৬
যোহর১২:১৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:৫২
পড়ুন