চট্টগ্রামবাসীর দুঃখ বাড়বে এমন কিছু হতে দেব না
নির্বাচনে বিজয়ের পর আ জ ম নাছির
চট্টগ্রামবাসীর দুঃখ বাড়বে এমন কিছু হতে দেব না
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আ জ ম নাছির উদ্দীন বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।  বুধবার নাছির তার নির্বাচনী প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নগরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘চট্টগ্রামবাসীর দুঃখ বাড়বে এমন কিছু হতে দেবো না’।

সকালে সদ্যবিজয়ী মেয়রের প্রতিক্রিয়া জানতে সাংবাদিকরা তার আন্দরকিল্লাস্থ বাসভবন ও মোমিন রোডস্থ প্রধান নির্বাচনী প্রচারণা কেন্দ্র প্রিয়া কমিউনিটি সেন্টারে ভিড় করেন। তিনি বাসায়, প্রিয়া কমিউনিটি সেন্টার এবং দুপুরে জিইসি মোড়স্থ একটি রেস্তোরাঁয় সাংবাদিকদের সাথে পৃথক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং কথা বলেন।

আ জ ম নাছির বলেন, ‘আমার জন্য চট্টগ্রামবাসীর দু:খ বাড়বে এমন কিছু হতে দেবো না। আমার নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি কিছুতেই সহ্য করবো না।’ তিনি বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে সাধারণ মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে এসেছি, এজন্য অনেক বাধাবিঘ্ন ও বঞ্চনার মুখোমুখি হতে হয়েছে আমাকে। আজ জনগণের অকৃত্রিম ও প্রাণঢালা ভালবাসায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। জনগণ আমাকে তাদের সেবক হিসাবেই দেখতে পাবেন।’

এসময় তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীর সর্বস্তরের মানুষের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনে তিনি ন্যায়নিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার থেকে একচুলও বিচ্যুত হবেন না উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে এই নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়ে যে গুরুদায়িত্ব তার হাতে অর্পণ করেছেন, তিনি সেই দায়িত্বের সম্মান রাখতে অবিচল আস্থার সাথে কাজ করে যাবেন। নগরবাসী আজ তাকে যে অপরিসীম ভালবাসা দিয়েছেন তা সমুন্নত রাখার শক্তি অর্জনে তিনি সবার দোয়া কামনা করেন।

সদ্যনির্বাচিত মেয়র নাছির আরও বলেন, তিনি তার কর্মপরিকল্পনায় নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেবেন। এছাড়া অপরাপর যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে প্রতিটি এলাকার জনসাধারণকে সাথে নিয়ে তা সমাধান করবেন।

বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা:আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদের নেতৃত্বে দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সদ্যনির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে তার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় চত্বরে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এসময় একটি হাতি শুঁড় দিয়ে মেয়রের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেয়। এতে সমর্থক, নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সংবর্ধনাস্থলে উপস্থিত জনতা হর্ষধ্বনি করে উঠে। এর আগে সঙ্গীত, বাদ্য, করতালি, নৃত্য ইত্যাদির মাধ্যমে পুরোভাগে হাতি নিয়ে ট্রাক ও মোটরসাইকেল সহযোগে জনতার একটি বর্ণাঢ্য      শোভাযাত্রা রাজপথে বের হয়। অনেকে শোভাযাত্রার উপর ফুল ও ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে তাদের সৌহার্দ্য প্রকাশ করেন।

সংবর্ধনার জবাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সদ্যবিজয়ী মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরবাসী তাকে যে ভালবাসায় অভিষিক্ত করেছেন, এই ভালবাসার মর্যাদা রক্ষা করবেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে। চট্টগ্রামের আদি-অধিবাসী হিসাবে এই নগরীর জন্য তার নাড়ির টানের কথা উল্লেখ করে নাছির বলেন, এতোদিন ধরে অবহেলা ও বঞ্চনায় প্রাচ্যের রাণী চট্টগ্রামকে যে জীর্ণ দশায় রাখা হয়েছে তার অবসান ঘটানো হবে। তিনি নগরবাসীর ভালবাসা এবং তাদেরকে সাথে নিয়ে চট্টগ্রামের উন্নয়নে নিজের সকল শক্তি নিয়োজিত করার অঙ্গীকার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, অনেক সম্ভাবনার উত্সভূমি চট্টগ্রামকে তার সকল সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে একটি স্বাস্থ্যকর, সমৃদ্ধ, সকল মানুষের বসবাস উপযোগী ও দৃষ্টিনন্দন নগরী হিসাবে গড়ে তোলা হবে।

ড. হাসান মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রামবাসীর স্বপ্ন আজ পূরণ হয়েছে।  হাতি উন্নয়ন ও নেতৃত্বের প্রতীক। তিনি আরো বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য খালেদা জিয়ার ষড়যন্ত্র জনগণ প্রতিহত করেছে। খালেদা জিয়াকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে উত্সবে পরিণত করেছে।

ভোট পড়েছে ৪৭ শতাংশ: চট্টগ্রামে এবার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট ভোটার প্রায় ১৮ লাখ। রিটার্নিং অফিসারের ঘোষণায় জানানো হয়, ২৮ এপ্রিলের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৮ লাখ ৬৮ হাজার ৬৬৩ জন ভোটার। ভোট পড়েছে ৪৭ দশমিক ৯ শতাংশ। বিধিবদ্ধ কারণে ঠিক মতো ভোট প্রদান করতে না পারায় বাতিল হয়েছে ৪৭ হাজার ২৯২টি ভোট। বৈধ ভোট হিসেবে গৃহীত হয়েছে ৮ লাখ ৩১ হাজার ৩৭১টি ভোট।

নির্বাচনে আ জ ম নাছির উদ্দীন তার হাতি প্রতীকে পেয়েছেন ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩৬১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এম মনজুর আলম কমলালেবু প্রতীকে পেয়েছেন ৩ লাখ ৪ হাজার ৮৩৭ ভোট। নাগরিক কমিটি মনোনীত ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পঞ্চম নির্বাচিত মেয়র হলেন। এর আগে ১৯৯৪ সালে এই করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র হন নগর আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তিনি পরপর তিনবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। চতুর্থতম নির্বাচিত মেয়র হন বিএনপি সমর্থিত ও দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম. মনজুর আলম।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন