অবরোধে নাশকতা মামলার তদন্তে ধীরগতি
অবরোধে নাশকতা মামলার তদন্তে ধীরগতি
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের টানা তিন মাসের হরতাল-অবরোধের সময় সারাদেশে নাশকতার অভিযোগে পৌনে দুই হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত মাত্র ১২০টি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করা হয়েছে। অভিযোগপত্র দেয়া মামলাগুলোর মধ্যে ডিএমপির ৪০টি এবং অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকার ৮০টি মামলা রয়েছে। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, নাশকতা ও পেট্রোল বোমার মামলাগুলোর তদন্ত করে চার্জশিট দাখিল করার প্রক্রিয়া চলছে ধীর গতিতে। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাশকতার মামলাগুলোর দ্রুত চার্জশিট দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নড়েচড়ে বসেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে নাশকতার অভিযোগে ১ হাজার ৭৭৫টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ১২০টি মামলার চার্জশিট দেয়া হয়েছে। একটি মামলার তদন্ত শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দাখিল করা হয়েছে। ১ হাজার ৬৫৪টি মামলা এখন তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন দেড় শতাধিক মানুষ। আসামির তালিকায় রয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতাসহ মাঠ পর্যায়ের কয়েক হাজার কর্মী। এর মধ্যে যানবাহনে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মানুষ হত্যার অন্তত চারটি ঘটনায় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে মামলা হয়েছে।

দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে সর্বাধিক মামলার তালিকায় রয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপিতে ৪৩৬টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে পুলিশ তদন্ত শেষে ৪০টি মামলার চার্জশিট দাখিল করেছে। তদন্তাধীন ৩৯৬টি। সর্বনিম্ন মামলা দায়ের করা হয় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে (আরএমপি)। এখানে মামলার সংখ্যা ৩৭টি। দ্বিতীয় অবস্থানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, মামলা ১০৭টি। তৃতীয় অবস্থানে খুলনা। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে মামলা ৫৪টি। চতুর্থ অবস্থানে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) ৩৪টি। পঞ্চম অবস্থানে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি), মামলা ২৩টি।

অপর দিকে রেঞ্জের তালিকায় শীর্ষে চট্টগ্রাম। এখানে মামলার সংখ্যা ৩৫৬টি। দ্বিতীয় রাজশাহী ঢাকা রেঞ্জ, মামলার সংখ্যা ২১০টি। তৃতীয় অবস্থানে ঢাকা রেঞ্জ, মামলার সংখ্যা ২০৩টি। এছাড়া বরিশাল রেঞ্জে ৭৪টি, সিলেট রেঞ্জে ৬৩টি, রংপুর রেঞ্জে ৬৯টি, খুলনা রেঞ্জে ৭৬টি। তবে খুলনা রেঞ্জের একটি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। এছাড়া রেলওয়েতে নাশকতার  অভিযোগে মামলার সংখ্যা ৩৩টি। সারাদেশে রেললাইনে নাশকতা ও ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় কয়েকশ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়। রেলওয়ে রেঞ্জের ডিআইজি রুহুল আমিন বলেন, মামলাগুলোর তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। পর্যায়ক্রমে এসব মামলার চার্জশিট দেয়া হবে। 

গত ৩ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর এলাকায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা আইকন পরিবহনের একটি বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করলে আট যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় দুটি মামলা হয় চৌদ্দগ্রাম থানায়। একটি মামলায় উস্কানিদাতা হিসাবে আসামি করা হয় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে। এখনো মামলাটির তদন্ত চলছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত ১৪টি মামলার চার্জশিট দেয়া হয়েছে। বাকিগুলোর তদন্ত চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দেয়া হবে।

৬ ফেব্রুয়ারি রাতে গাইবান্ধার তুলসীঘাট এলাকায় নাপু পরিবহন নামে একটি বাসে পেট্রোল বোমা হামলায় আট যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করা হয়। এ মামলা হয় স্থানীয় থানায়। মামলার প্রধান আসামি মোস্তফা মঞ্জিল গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এ মামলাটির তদন্ত চলছে। রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হুমায়ন কবীর বলেন, ১২টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। বাকি মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী এক মাসের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ হবে।

গত ২৪ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গ্লোরি পরিবহনে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। এ সময় বাসের ভিতর ২৯ জন যাত্রী দগ্ধ হন, মারা যান একজন। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় এসআই কেএম নুরুজ্জামান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি যাত্রাবাড়ী থানা থেকে ডিবিতে স্থানান্তর হয়। এ মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, মামলাটির তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। ডিএমপির এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য না করে বলেন, মামলা হলেও তদন্তের জন্য পুলিশ সময় দিতে পারেনি। কারণ মামলাগুলোর তদন্ত শুরুর পর থেকেই ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে পুলিশকে ব্যস্ত থাকতে হয়। তবে তিনি বলেন, মামলাগুলোর দ্রুত তদন্ত শেষ করার জন্য পুলিশ সদর দফতর থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অধিকাংশ মামলায় বেশ কিছু আসামি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছে। পলাতকদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে গ্রেফতার করা না গেলেও মামলার অভিযোগপত্র জমা দিতে কোনো সমস্যা হবে না।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন