এরশাদের প্রার্থীসহ ৪২ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত
ইত্তেফাক রিপোর্ট৩০ এপ্রিল, ২০১৫ ইং
এরশাদের প্রার্থীসহ ৪২ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত
সদ্য অনুষ্ঠিত তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ সমর্থিত প্রার্থীদের সবারই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমীর্থত প্রার্থী বাদে অন্য রাজনৈতিক দলের এবং স্বতন্ত্র সব প্রার্থীও জামানত হারিয়েছেন। ৪৮ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৪২ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। কেননা এই ৪২ জন প্রার্থী আইনে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে কম ভোট পেয়েছেন। জামানত ফেরত পাবেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ঢাকা উত্তরের আনিসুল হক, দক্ষিণের সাঈদ খোকন, চট্টগ্রামের আ.জ.ম নাছিরউদ্দীন, বিএনপি সমর্থিত ঢাকা উত্তরের তাবিথ আউয়াল, দক্ষিণের মির্জা আব্বাস এবং চট্টগ্রামের এম মনজুর আলম।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০-এর বিধি ৪৪-এর উপ বিধি (৩) অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ বা ভোটগণনা সমাপ্ত হওয়ার পর যদি দেখা যায় যে, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ অপেক্ষা কম ভোট পেয়েছেন, তা হলে তার জামানতের টাকা সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে। ফলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৪২ প্রার্থী সর্বমোট ২৮ লাখ টাকার জামানত হারালেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৫৮টি। এর এক-অষ্টমাংশ হচ্ছে ১ লাখ ৯ হাজার ২৫৭টি ভোট। ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৯ লাখ ৫ হাজার ৪৮৪। এর এক-অষ্টমাংশ হচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার ১৮৫ ভোট। চট্টগ্রাম সিটি (চসিক) নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৮ লাখ ৬৮ হাজার ৬৬৩টি। এর এক-অষ্টমাংশ হচ্ছে ১ লাখ ৮ হাজার ৫৮৩ ভোট।

ঢাকা উত্তর সিটিতে প্রার্থীদের জামানত ছিল ১ লাখ টাকা। আর ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটির জন্য ৫০ হাজার টাকা।

এইচএম এরশাদ সমর্থিত যারা জামানত হারালেন: ঢাকা উত্তরের বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল (চরকা- ভোট ২৯৫০), দক্ষিণে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন মিলন (সোফা- ভোট ৪৫১৯) এবং চট্টগ্রামে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠ (ডিশ এন্টেনা- ভোট ৬১৩১)। জাসদের  প্রার্থীরাও জামানত হারিয়েছেন। উত্তরের নাদের চৌধুরী (ময়ূর- ভোট ১৪১২), দক্ষিণের মো. শহীদুল ইসলাম (বাস- ভোট ১২৩৯) ও চট্টগ্রামে ইলিশ মাছ মার্কায় জাসদ প্রার্থী শফিউল আলম (৬৮০ ভোট)।

এছাড়া জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— উত্তরের বিকল্পধারার মাহী বি. চৌধুরী (ঈগল- ভোট ১৩ হাজার ৪০৭), গণসংহতির জুনায়েদ সাকি (টেলিস্কোপ- ভোট ৭৩৭০), সিপিবির আব্দুল্লাহ আল ক্কাফী রতন (হাতি- ভোট ২৪৭৫), বিএনপির সাবেক স্থায়ী কমিটির সদস্য চৌধুরী তানভীর আহম্মদ সিদ্দিকীর ছেলে চৌধুরী ইরাদ আহম্মদ সিদ্দিকী (লাউ- ভোট ৯১৫), ইসলামী আন্দোলন (চরমোনাই পীর) সমর্থিত শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ (কমলালেবু- ভোট ১৮০৫০), দক্ষিণের বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এস এম আসাদুজ্জামান রিপন (কমলালেবু- ভোট ৯২৮), আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মওলা রনি (আংটি- ভোট ১৮৮৭), বাসদ- সিপিবি সমর্থিত বজলুর রশীদ ফিরোজ (টেবিল- ভোট ১০২৯), ইসলামী আন্দোলন সমর্থিত প্রার্থী মো. আবদুর রহমান, চট্টগ্রামে ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী এম এ মতিন (চরকা- ভোট ১১৬৫৫), টেবিল ঘড়ি মার্কায় ওয়ায়েজ হোসাইন ভুঁইয়া (৯,৬৬৮),  ময়ূর মার্কায় ইসলামিক ফ্রন্ট নেতা হোসাইন মোহাম্মদ মুজিবুল হক শুক্কুর (৪২১৫), ফ্লাস্ক মার্কায় সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি (২৬৬১), টেলিস্কোপ মার্কায় গাজী মোহাম্মদ আলাউদ্দিন (২১৪৯), বাস মার্কায় বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট নেতা আরিফ মঈনুদ্দিন (১৭৭৪), দিয়াশলাই মার্কায় আবুল কালাম আজাদ (১৩৮৫) ও ক্রিকেট ব্যাট মার্কায় সৈয়দ সাজ্জাদ জোহা (৮৪৫)। 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন