পশ্চিম রেলে জোড়াতালি দিয়ে চলে ট্রেন
৯২ স্টেশন বন্ধ, বন্ধের অপেক্ষায় আরো ৫৮
পশ্চিম রেলে জোড়াতালি দিয়ে চলে ট্রেন
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অত্যাবশ্যকীয় অপারেটিং কর্মচারীসহ বিভিন্ন বিভাগে লোকবলের অভাবে ৯২টি স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। আরও ৫৮টি স্টেশন বন্ধের অপেক্ষায় রয়েছে বলে পাকশী বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। ঝুঁকির মধ্য দিয়ে চলাচল করছে পাকশী ও লালমণিরহাট রেলওয়ে বিভাগের যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেনগুলো।

পশ্চিমাঞ্চল রেলে মোট ২৩১টি স্টেশনের মধ্যে পাকশী রেলওয়ে বিভাগে ৫৩ টি ও লালমণিরহাট রেলওয়ে বিভাগে ৩৯টিসহ ৯২টি স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ট্রেন অপারেটিং-এ নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে স্টেশন মাস্টার, পয়েন্টসম্যান ও গেটকিপারসহ বিভিন্ন বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোক নিয়োগ অতীব প্রয়োজন। ২০১৫ সালের মধ্যে পাকশী ও লালমণিরহাট   বিভাগে নতুন লোক নিয়োগ করতে না পারলে ট্রেন চলাচলে মারাত্মক অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলের পাকশী বিভাগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্টেশন মাস্টার, পয়েন্টসম্যান ও গেটকিপারসহ বিভিন্ন বিভাগের ৪০ হাজার জনবলের ভিত্তিতে পশ্চিমাঞ্চল রেলের অত্যাবশ্যকীয় কর্মচারী নিয়ে অপারেটিং কার্যক্রম চালু করা হয়। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে নানামুখী সিদ্ধান্তের কারণে এবং কর্মচারীদের অবসরজনিত কারণে ক্রমান্বয়ে জনবল কমতে থাকে। দিন যত অতিক্রম করছে অপারেটিংসহ বিভিন্ন বিভাগে ততই জটিল সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে ট্রেন অপারেটিং-এ মারাত্মক বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। শুধু অত্যাবশ্যকীয় অপারেটিং কর্মচারীর স্বল্পতার কারণে স্টেশন বন্ধসহ ট্রেনের সময়ানুবর্তিতার উপর বিরূপ প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। ৯২টি স্টেশন বন্ধ থাকার ফলে ব্লক সেকশনের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি, অত্যাবশ্যকীয় ব্লক ওয়ার্কিং ব্যবস্থা অকার্যকর, রানিং টাইম বৃদ্ধি এবং সেকশনাল ক্যাপাসিটি কমে যাওয়ায় সুষুম ও নিরাপদ ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে অন্তরায় ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

মোট ২৩১ টি স্টেশনের মধ্যে স্টেশন মাস্টার ও পয়েন্টসম্যানের অভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ আছে ৫৭টি স্টেশন এবং ১২ ঘন্টা বন্ধ আছে ৩৫টি স্টেশন। চলতি বছরই পাকশী ও লালমণিরহাট বিভাগে স্থায়ীভাবে কর্মরত ১৯ জন স্টেশন মাস্টার অবসর গ্রহণ করবেন। চুক্তিভিত্তিক কর্মরত ৪৫ জন স্টেশন মাস্টারের মেয়াদ চলতি বছরের মার্চে এবং ২৪ জনের মেয়াদ আরো আগে শেষ হয়েছে। আরও ২৮ জন স্টেশন মাস্টারের মেয়াদ অক্টোবরে মাসে শেষ হবে। ফলে বন্ধ স্টেশনের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে কমপক্ষে আরও ৫৮টি স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে ট্রেন অপারেশন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।

অবসরে যাওয়া কর্মচারীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়ায় রেলের বেতন খাতে বিপুল পরিমাণ টাকা গচ্চা যাচ্ছে। অথচ পরিকল্পনা করে নিয়মিত নতুন কর্মচারী নিয়োগ করলে এই ব্যয়ের পরিমাণ অনেক কম হবে।

পাকশী ও লালমণিরহাট বিভাগে পয়েন্টসম্যানের সংখ্যা ৬৯৫। কর্মরত ৫০৯ জন, ঘাটতি রয়েছে ১৬৯ জন। চলতি বছরেই আরও ১৭ জন পয়েন্টসম্যানের ঘাটতি হবে। ফলে স্টেশন বন্ধসহ অত্যাবশ্যকীয় ট্রেনের সান্টিং, ক্রসিং এবং প্রিসিডেন্স কার্যক্রমও সমস্যায় পড়বে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী ও লালমণিরহাট বিভাগে ট্রাফিক লেভেল ক্রসিং গেটের জন্য মঞ্জুরিকৃত গেটকিপারের সংখ্যা ১৭৩। এর মধ্যে কর্মরত আছে ১৭ জন। ঘাটতি রয়েছে ১৫৬ জন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন