ছাতকের ঐতিহাসিক ইংলিশ টিলার নিচে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস
ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা
আব্দুল আলিম, ছাতক১৫ জুন, ২০১৫ ইং
বর্ষা মৌসুম এলেই এক অনাকাঙ্ক্ষিত আতঙ্কের মধ্যে সময় পার করে ছাতকের ঐতিহাসিক ইংলিশ টিলার নিচে বসবাসকারী লোকজন। যেকোনো সময় টিলায় অবস্থিত সু-উচ্চ সাহেব মিনার ধসে পড়ে ঘটতে পারে হতাহতের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এলাকার ছোট-বড়, সকলেই এমন ঘটনার আশঙ্কা করলেও আতঙ্কের মধ্যে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে বছরের পর বছর বসবাস করে আসছে টিলার পাশে। চলতি বর্ষায় কয়েক দফা অনুভূত ভূমিকম্পেও মিনার ধসে পড়ার আতঙ্ক বিরাজ করছিল টিলার নিচে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে। ছাতকের প্রাচীন নিদর্শন ইংলিশ টিলার সু-উচ্চ সাহেব মিনার এক যুগেরও বেশি   সময় ধরে রয়েছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। ভয়াবহ অবস্থা থেকে প্রাচীন নিদর্শন সাহেব মিনার ও টিলার নিচে বসবাসরত পরিবারগুলোকে রক্ষায় নেয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপ। এভাবেই আতঙ্ক ও ঝুঁকি নিয়ে টিলার নিচে বসবাস করছে বেশ ক’টি পরিবারের শতাধিক লোক।

পৌরশহরের প্রাণকেন্দ্র পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাগবাড়ি গ্রামের প্রায় মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত জর্জ রাইট ইংলিশের সমাধিস্থল ইংলিশ টিলা ও সাহেব মিনার। টিলার চারপাশের দখলীয় ভূমিতে গড়ে উঠা আবাসিক এলাকার মধ্যে প্রায় দেড় শতাধিক বছরের পুরনো ইতিহাস সমৃদ্ধ ইংলিশ টিলাটি অযত্নে ও অবহেলায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন থেকে। ফলে বৃহত্তর সিলেট তথা ছাতকের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রাচীনতম ঐতিহাসিক এ নিদর্শনটির অস্তিত্ব। ঝুঁকিপূর্ণ এ টিলা ও সাহেব মিনার নিয়ে পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে পৌর কর্তৃপক্ষ আশ-পাশ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদে চলে যেতে নোটিসের মাধ্যমে জানিয়ে দিলেও এ পর্যন্ত টিলার পাশের ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দারা কেউ ঘর ছাড়েনি। বর্তমানে টিলা কেটে মাটি ব্যবহার ও বিক্রি করে যাচ্ছে একটি মহল।

১৭৯৪ সালে সুদূর ইংল্যান্ড থেকে জর্জ রাইট ইংলিশ নামের এক ব্যবসায়ী সস্ত্রীক ছাতকে আসেন ব্যবসার জন্য। তিনি এখানে কোম্পানি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চুনাপাথর ব্যবসা শুরু করেন। কথিত আছে, তিনিই ছাতকে সর্বপ্রথম চুনাপাথর ব্যবসা শুরু করেন এবং তার প্রচেষ্টায়ই ছাতকে সম্ভাবনাময় চুনাশিল্পের দ্বার উন্মোচিত হয়। জর্জ রাইট ইংলিশ ছাতকে থেকে প্রায় ৫০ বছর ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা ও ব্যবসা  প্রসারণের কারণে অনেক বাঙালি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে তার গভীর সখ্যতা গড়ে ওঠে। ১৮৫০ সালে ৭৬ বছর বয়সে জর্জ রাইট ইংলিশ ছাতকে মৃত্যুবরণ করলে তার স্ত্রী হেনরী ইংলিশ স্বামীর ব্যবসা-বাণিজ্য দেখাশুনা করতেন। ঐ বছরই হেনরী ইংলিশ স্বামীর স্মৃতি রক্ষার্থে টিলার উপর সমাধিস্থলে নির্মাণ করেন একটি দর্শনীয় বিশাল স্মৃতিসৌধ। পরবর্তীতে টিলাটি ইংলিশ টিলা ও স্মৃতিসৌধটি সাহেব মিনার নামে পরিচিতি লাভ করে। জর্জ ইংলিশ মারা যাবার ক’বছর পর তার স্ত্রী হেনরী ইংলিশ ব্যবসা-বাণিজ্য গুটিয়ে নিজ দেশ ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান। এ সময় থেকে ইংলিশ টিলা ও সাহেব মিনার সরকারি সম্পত্তিতে পরিণত হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কোনো সরকারের আমলেই টিলাটি সংরক্ষণের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

ছাতক পৌরসভার প্রকৌশলী প্রদীপ চন্দ্র রায় জানান, মিনারটি অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে মেয়র যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। তিনি ফিরে এলে বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হবে। পৌরসভার কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন সুমেন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ মিনারের নিচ থেকে বসবাসরত মানুষকে অন্যত্র সরে যেতে ক’বছর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে নোটিস ও মাইকে প্রচার করা হয়েছিল। কিন্তু কেউ সরে যায়নি।

টিলার ভয়াবহতার কথা স্বীকার করে উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল জানান, ঐতিহাসিক এ নিদর্শনটি রক্ষা করা খুবই দুরূহ ব্যাপার।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন