শেরে বাংলা কৃষি ভার্সিটির ভিসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থার সুপারিশ
অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে উচ্চতর তদন্ত কমিটি
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৫ জুন, ২০১৫ ইং
শেরে বাংলা কৃষি ভার্সিটির ভিসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থার সুপারিশ
রাজধানীর শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি প্রফেসর মো. শাদাত উল্লার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উচ্চতর তদন্ত কমিটি। ভিসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। কমিটি এই প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে।

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যোগ্যতা-অভিজ্ঞতা   এবং বয়স না থাকলেও ভিসির নিজ আত্মীয়-স্বজনকে (শ্যালক, শ্যালকের স্ত্রী, ভাতিজি, ও অন্যান্য ঘনিষ্ঠজন) নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অনুমোদন নেই এমন ৪৫টি পদে শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ফল প্রকাশের আগেই আবেদন গ্রহণ করে ইন্টারভিউ কার্ড দেয়া হয়েছে। ঈদুল ফিতর, পহেলা বৈশাখ, ঈদুল আজহার সময় লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। এসব অনিয়ম পাওয়ার পর ভিসিকে সতর্ক করা বা অন্য যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা, প্রাপ্যতার বাইরে যে অর্থ উত্তোলন করেছে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে জমা দানের জন্য মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয় প্রতিবেদনে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোহাব্বত খানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট জমা দিয়েছে।

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টি শিক্ষক পদ অনুমোদিত, অথচ নিয়োগ দেয়া হয়েছে ২৯ জন, ৪ কর্মকর্তার পদ থাকলেও ২৪ জন সেকশন অফিসার এবং ১৬ জন কর্মচারীর পদ থাকলেও নিয়োগ দেয়া হয়েছে ২২ জন। এভাবে ৪৫টি পদের অনুমোদন না থাকলেও এসব পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা না থাকলেও ভিসির শ্যালক চৌধুরী এম সাইফুল ইসলাম পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকশন অফিসার হিসাবে চাকরির সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ হলেও এ নিয়ম মানা হয়নি। নিয়ম না মেনে ৪০ বছরের বেশি বয়স হলেও শ্যালকের স্ত্রীকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ দেয়া হয়। ৩০ বছরের বেশি বয়স হলেও ভিসির ভাতিজি শরাবান তহুরাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

কমিটির রিপোর্টে বলা হয়, এগ্রিবিজনেস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বেশ কয়েকজন স্নাতক ও মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়া সত্ত্বেও এদের কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। ভিসির ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত ফজলুল হককে এ পদে নিয়োগ দেয়া হয়। এগ্রিবিজনেস মার্কেটিং বিভাগে যখন প্রভাষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় তখন ফজলুল হক মাত্র স্নাতক (সম্মান) শেষ করেছেন। পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়নি। এ ক্ষেত্রে ফজলুল হকের ইন্টারভিউ কার্ড পাওয়ার মতো যোগ্যতা ছিল না। ভিসি পহেলা বৈশাখ, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন। পর্যবেক্ষণে বলা হয়, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির এভাবে আপ্যায়নের নামে সরকারি অর্থ উত্তোলনের সুযোগ নেই। ভিসির একটি গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও অতিরিক্ত দুটি গাড়ি আত্মীয়-স্বজন ব্যবহার করেন। কমিটি তাদের সুপারিশে জানায়, বর্তমান ভিসির বিভিন্ন খামখেয়ালি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রো-ভিসির নেতৃত্বে শিক্ষকরা দুই ভাগে বিভক্ত। ফলে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি শাদাত উল্লা বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে কী উল্লেখ করা হয়েছে তা আমি জানি না। তবে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ছিল তা ভিত্তিহীন। আমি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তদন্ত কমিটিকে দেখিয়েছি। তারা এ বিষয়ে সন্তুষ্ট। অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অতিরিক্ত জনবল হলে আমি তাদের বেতন দিচ্ছি কীভাবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন