খুলনায় ৭২ পয়েন্টে বসছে শক্তিশালী আইপি ক্যামেরা
অপরাধ দমনে পুলিশ পাচ্ছে নানা ডিভাইস
অপরাধ দমন ও আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে খুলনা মহানগরীকে ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় আনা হচ্ছে। বসানো হচ্ছে ৭২টি শক্তিশালী ইন্টারনেট প্রটোকল (আইপি) ক্যামেরা। পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য দেয়া হবে নানা ধরনের ডিভাইস। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দফতরে (কেএমপি) খোলা হচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তি মনিটরিংয়ের জন্য একটি কন্ট্রোল রুম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নাশকতাকারী, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৭২টি আইপি ক্যামেরা বসানো হবে। ওয়াইফাই সংযুক্ত এসব ক্যামেরার ছবি ইন্টারেনেটের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তারা মোবাইল ফোনে যে কোন স্থান থেকে সবসময় দেখতে পারবেন। 

সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ের চার রাস্তার সংযোগস্থলে চারটি আইপি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এছাড়া সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালেও স্থাপন করা হয়েছে ৪টি আইপি ক্যামেরা। বাস টার্মিনালে যাত্রী হয়রানি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনের লক্ষ্যে আইপি ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নগরীর শিববাড়ী মোড়, ময়লাপোতা মোড়, গল্লামারী মোড়, রেল স্টেশন ও লঞ্চঘাট এলাকা, রয়্যাল মোড়, দৌলতপুর ও খালিশপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এ ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পরবর্তীতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন সকল থানা এলাকায় এ কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে।

সূত্রমতে, শুধু আইপি ক্যামেরাই নয়, নগরীর অপরাধ দমনে থাকছে আরও বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস। এর মধ্যে গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও নগর বিশেষ শাখার (সিটিএসবি) কর্মকর্তাদের জন্য দেয়া হচ্ছে স্পাই সানগ্লাস। এ সানগ্লাসের মাধ্যমে জনসাধারণের অজান্তে পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের দৃষ্টি সীমা যতদূর যায়, ততদূর পর্যন্ত অটোমেটিক ভিডিও করতে পারবেন। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ডাউনলোড করে পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন। এ সানগ্লাস প্রতিদিন রিচার্জ করা যাবে। সানগ্লাস ছাড়াও পুলিশ কর্মকর্তারা ব্যবহার করবেন পেন ক্যামেরা। এ ক্যামেরার মাধ্যমে ছবি  তোলা এবং কথা রেকর্ড করা যাবে। এছাড়াও পুলিশের ব্যবহারের জন্য থাকছে যানবাহন তল্লাশি আয়না (ভেহিকেল সার্চ মিরর)। এই আয়নার মাধ্যমে বিভিন্ন যানবাহনে সহজেই তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা সহজ হবে। পুলিশ কর্মকর্তারা ব্যবহার করবেন স্টান্ট গান। এছাড়াও থাকছে অ্যালকোহল অ্যান্ড ড্রাগ ডিটেক্টটর মেশিন। কোন মাদকাসক্ত মাদক গ্রহণ করার পর অস্বীকার করলে সঙ্গে সঙ্গে ওই মেশিন ব্যবহার করলে প্রমাণ হয়ে যাবে সে মাদক গ্রহণ করেছে কীনা। আরও থাকছে জাল টাকা শনাক্তকারী মেশিন (ফেইক কারেন্সি ডিটেক্টটর)। বিভিন্ন ব্যাংকে জাল টাকা শনাক্তকরণের জন্য যে মেশিন ব্যবহার করা হয় এ মেশিন তার থেকে অনেক উন্নতমানের। এ মেশিন দিয়ে জাল টাকা শনাক্তকরণের পাশাপাশি জাল পাসপোর্টও পরীক্ষা করা যাবে।

সূত্র জানায়, পুলিশ কমিশনার হিসাবে নিবাস চন্দ্র মাঝি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে (কেএমপি) যোগদান করার পরই নগরবাসী যাতে যথেষ্ট নিরাপত্তা এবং স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল ও বসবাস করতে পারে তার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। সেই পরিকল্পনা প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সেটি অনুমোদন দেয়। অনুমোদন পাওয়ার পর নগরীতে বসানো হয় ৮টি আইপি ক্যামেরা। অবশিষ্ট ৬৪টি ক্যামেরা খুব শিগগির বসানো শুরু হবে।

এদিকে নগরীর বিভিন্ন শপিং মল ও মার্কেটের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য মার্কেট কর্তৃপক্ষের বসানো সিসি ক্যামেরাকে যুক্ত করা হবে আইপি ক্যামেরা নেটওয়ার্কের সঙ্গে। ফলে কোন অঘটন ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে পারবে পুলিশ। আইপি ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে নগরীর যানজটসহ সড়কে বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা অবলোকন করে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে। সবকিছু মিলিয়ে একটি সন্ত্রাসমুক্ত ও সুন্দর নগরী গড়ে তুলতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এ প্রয়াস।

এ ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি বলেন, আইপি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে খুলনা মহানগরীকে ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় আনা হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশের কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা যাবে। দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার জায়গাটিও স্পষ্ট হবে। যেকোন ধরনের নাশকতা বা অরাজকতার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন