বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত
ইত্তেফাক ডেস্ক২৭ আগষ্ট, ২০১৫ ইং
বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত
আরিচা পয়েন্টে পদ্মা-যুমনার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়ী জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তীব্র স্রোতে ফেরি, লঞ্চ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে যানজট অনেকটা স্থায়ী রূপ নিয়েছে।

গাইবান্ধায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হলেও উত্তরাঞ্চলের অনেক জেলা থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। গাইবান্ধায় দুইটি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট তীব্র। কৃষক তার ডুবে যাওয়া ফসলের জন্য হাহাকার করছে।

শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, মানিকগঞ্জে পদ্মা-যমুনার পানি আরিচা পয়েন্টে গতকাল বুধবার দুপুরে ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। নদীতে পানি বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, আরিচা-কাজিরহাট নৌ-রুটে ফেরি, লঞ্চ, কার্গো, ইঞ্জিন চালিত নৌকা চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় পণ্যবাহী অসংখ্য যানবাহন আটকে পড়েছে। ঘাটে অনেকটা স্থায়ী যানজটের সৃস্টি হয়েছে।

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জগন্নাথগঞ্জ ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে উপজেলার চরাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। পানিতে তলিয়ে গেছে এক হাজার হেক্টর রোপা আমন। যমুনায় অব্যাহত পানি বৃদ্ধিতে বিভিন্ন স্থানে ছোট-খাটো বাঁধ ও সড়ক ভেঙে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

মেলান্দহ (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, মলান্দহে বন্যার কারণে ১৮টি প্রাইমারি এবং ৪টি হাই স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর ও চৌহালীর ৯টি ইউনিয়ন বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে ভাঙন। এনায়েতপুর থেকে দক্ষিণে জালালপুর ইউনিয়নের ভেকা পর্যন্ত এবং চৌহালীর বোয়ালকান্দি থেকে দক্ষিণে পাথরাইল পর্যন্ত শুরু হওয়া ভাঙনে গত দুই দিনে বিলীন হয়েছে কয়েকশ ঘর-বাড়ি। নদী ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে খাজা ইউনুছ আলী মেডিক্যাল কলেজ ও খাজা ইউনুছ আলী বিশ্ববিদ্যালয়।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলাসহ সবকটি নদ-নদীর পানি হ্রাস পেলেও দুর্ভোগ কমেনি বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের। জেলার নয় উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ ঘরে ফিরতে পারেনি। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার পাকা সড়ক ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়ে গবাদি পশুসহ মানবেতর জীবনযাপন করছে।

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, নাগেশ্বরীতে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও এখনো পানির নিচে রয়েছে ৭ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ক্ষেত। প্রখর রোদ ও ধীরে পানি কমায় সেগুলো পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ও সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বুধবার সকালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সুন্দরগঞ্জ এবং সাদুল্লাপুর উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেছে। ফলে এই তিন উপজেলার নতুন নতুন এলাকা  প্লাবিত হয়ে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

রানীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা জানান, নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় হঠাত্ আসা বন্যার পানিতে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।

আত্রাই (নওগাঁ) সংবাদদাতা জানান, গতকাল বুধবার ভোরে আত্রাই উপজেলার তাড়াটিয়া বেড়ী বাঁধ ভেঙে গিয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে প্রায় ২ হাজার বিঘা জমির আমন ফসল তলিয়ে গেছে।

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা জানান, বাগমারার নরদাশ, বাসুপাড়া, কাচারী কোয়ালীপাড়া, দ্বীপপুর ও ঝিকরা ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপদ বিভাগ ও এলজিইডির একাধিক বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪০
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২০
পড়ুন