বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তরুণ শিল্পীর আবেগ
নানামাত্রার ছবি নিয়ে প্রদর্শনী শুরু
ইত্তেফাক রিপোর্ট২৭ আগষ্ট, ২০১৫ ইং
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তরুণ শিল্পীর আবেগ
চারুকলার জয়নুল আর্ট গ্যালারিতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শুরু হওয়া ২১ দিনব্যাপী প্রদর্শনীটি যেন বঙ্গবন্ধুর প্রতি শিল্পী রেজাউল করিমের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক অপূর্ব নিদর্শন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থী শিল্পী রেজাউল করিম। ‘ডেডিকেশন ফর ডেডিকেটর’ নামের এই ছবিটিতে তুলির আঁচড় বসাতে রঙের পরিবর্তে নিজের শরীরের রক্তই ব্যবহার করেছেন শিল্পী। এ থেকে তার আবেগের মাত্রা বোঝা যায়। এমনই বঙ্গবন্ধুর নানামাত্রার ছবি নিয়ে শুরু হয়েছে প্রদর্শনী।

গতকাল বুধবার বিকালে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ.আ.ম.স আরেফিন সিদ্দিক। জাতির জনকের ৪০তম শাহাদাত্বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালনের ধারাবাহিক কর্মসূচি হিসেবে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে জাতীয় শোক দিবস উদযাপন পরিষদ ২০১৫। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থীদের ২২৮টি ছবি থেকে বাছাইকৃত ৮৭টি চিত্রকর্ম দিয়ে সাজানো হয়েছে এই দলবদ্ধ প্রদর্শনী।

সাদা বোর্ডের উপর অসংখ্য আলপিন ও কালো সুতার সমন্বয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, বুতাম দিয়ে অঙ্কিত বঙ্গবন্ধুর শৈল্পিক প্রতিকৃতি,   চিন্তামগ্ন জাতির পিতা, বিভিন্ন স্ক্রু দিয়ে তৈরি তর্জনী উঁচিয়ে ভাষণরত বঙ্গবন্ধু, নানা রঙের কাঁচের মার্বেল দিয়ে অঙ্কিত বঙ্গবন্ধু, কাঠের গুঁড়ির উপর গাছের ছাল দিয়ে শিল্পীর তৈরিতে অনন্য এক বঙ্গবন্ধু ইত্যাদি চিত্রকর্মে শিল্পীরা বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরেছেন সৃজনশীলতা ও শৈল্পিকতার নিবিড় বন্ধনে।

৮৭টি চিত্রকর্মের মধ্যে বঙ্গবন্ধু পুরস্কার পেয়েছেন শিল্পী নাজমুল ইসলাম শামীম, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পুরস্কার পেয়েছেন শুভ আহমেদ, শেখ জামাল পুরস্কার পেয়েছেন মিজানুর রহমান, শেখ কামাল পুরস্কার পেয়েছেন আল মামুন ও শেখ রাসেল পুরস্কার পেয়েছেন শ্যামল সরকার।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চারুকলায় আগত সকলের জন্য প্রদর্শনীটি উন্মুক্ত থাকবে।

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর শেষ হবে এই প্রদর্শনী। ঐদিন এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন এই আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় কবি স্মরণে বাংলা একাডেমিতে আলোচনা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘ভবিষ্যতের নজরুল’ শীর্ষক একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গতকাল বিকালে একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে একক বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক জুলফিকার মতিন।

ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে স্বাগত বক্তৃতা করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।

একক বক্তৃতায় অধ্যাপক জুলফিকার মতিন বলেন, নজরুল মানেই এক অনন্য জীবনের গাথা। বাঙালির সমন্বিত সংস্কৃতির বিভা-লাবণ্য ছড়িয়ে আছে তার সৃষ্টিসমগ্রে। তার কবিতা ও গানে ব্যবহূত ধর্মীয় বা পৌরাণিক উপাদানকে তিনি শাস্ত্রের সীমিত গণ্ডি ছাপিয়ে মানবিক উচ্চতায় রূপায়িত করেছেন। বাঙালি মুসলমান সমাজের রক্ষণশীলতার দুর্গ ভাঙতে নজরুলের অবদান তুলনারহিত ও ঐতিহাসিক। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রাক পর্ব নির্মাণে নজরুল তার অসাম্প্রদায়িক-আধুনিক ও মানবিক চেতনাবোধ দিয়ে আমাদের অগ্রসর করেছেন। বাঙালির প্রতিটি মুক্তি পর্বে তিনি উদ্ভাসিত হয়েছেন সংগ্রামী মহিমায়। অধ্যাপক জুলফিকার মতিন বলেন, আবেগায়িত অনুভবের প্রাবল্য দূর করে নজরুল-সাহিত্য ও জীবনের নৈর্ব্যক্তিক মূল্যায়ন এখন অত্যন্ত জরুরি।

সভাপতির বক্তব্যে ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, নজরুল ছিলেন একই সঙ্গে বর্তমানের কবি এবং ভবিষ্যতের দ্রষ্টা। তিনি আজ থেকে বহু আগেই মধ্যপ্রাচ্য-উত্তর আফ্রিকাসহ পৃথিবীর নানা প্রান্তে সাম্রাজ্যবাদী-উপনিবেশবাদী চক্রের মানববিরোধী অপতত্পরতা সম্পর্কে তার পাঠকদের সচেতন করে গেছেন। তিনি বলেন, নজরুলের মানবতাবাদ আত্মস্থ করে পৃথিবীব্যাপ্ত অসাম্য-সাম্প্রদায়িকতা-মৌলবাদ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হতে হবে।

অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করেন মো. বেলায়েত হোসেন। নজরুলের গান পরিবেশন করেন ড. নাশিদ কামাল।

‘মৈত্রী : একটি বন্ধনের গল্প’ শীর্ষক ছাপচিত্র প্রদর্শনী

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় শুরু হলো ‘মৈত্রী : একটি বন্ধনের গল্প’ শীর্ষক ছাপচিত্র প্রদর্শনী। গতকাল বিকালে চিত্রশালার পাঁচ নম্বর গ্যালারিতে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম, ঢাবির চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, অধ্যাপক সৈয়দ আবুল বারক আলভী, অধ্যাপক রোকেয়া সুলতানা এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার অধ্যাপক অজিত শীল। সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

বাংলাদেশের শিল্পীদের আঁকা ৪২টি এবং ভারতের শিল্পীদের আঁকা ৩৫টি ছবিসহ মোট ৭৭টি শিল্পকর্ম দিয়ে সাজানো হয়েছে এই প্রদর্শনী। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে প্রদর্শনীস্থল। ২৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এ প্রদর্শনী।

মনোমোহন দত্তকে নিয়ে লালন রিসার্চ ফাউন্ডেশন

লালন রিসার্চ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘লোক দার্শনিক মনোমোহন দত্তের জীবন ও দর্শন’  শীর্ষক সেমিনার ও সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে। গতকাল সন্ধ্যার এ আয়োজনের সেমিনার পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি আসাদ চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সুমনকুমার দাশ।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘এই মঞ্চেই কেউ মনোমোহন দত্তকে বাউল ভাবের বলেছেন, আবার কেউ বলেছেন না। আসলে তাকে এক জায়গায় ধরে রাখা যাবে না। আমি তার কিছু গান শুনেছিমাত্র। অল্প বয়েসে লোকান্তরিত হলেও তার ভক্তিতত্ত্ব যে হারিয়ে যায়নি সেটা বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারা যায়।

সবশেষে মনোমোহন দত্তের মলয়া সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পীরা। 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪০
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২০
পড়ুন