সুন্দরবনে নদী-খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার
হুমকির মুখে বন্যপ্রাণী
সুন্দরবনে নদী-খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার
সুন্দরবনের অভয়ারণ্যসহ আশপাশের বিভিন্ন নদী ও খালে নির্বিচারে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে খালের বিষাক্ত পানি পান করে মাছ ও নানা বন্যপ্রাণি মারা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে বাগদা ও গলদা চিংড়ি পোনার যথেচ্ছ আহরণে ধ্বংস হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের ভিতরে নদী-খালের আয়তন কমবেশি ৯শ’ ৬০ বর্গ কিলোমিটার। মাত্র কয়েক বছর আগেও এ সব নদী-খালে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে মাছের উত্পাদন ছিলো ৪ মেট্রিক টনের বেশি। এখন তা অনেক কমে গেছে।

জানা গেছে, বর্তমানে বছর জুড়ে বনের ভিতরে অপরিকল্পিত ভাবে নেট  জাল দিয়ে চিংড়ি পোনা সংগ্রহ ও বিষ দিয়ে মাছ আহরণ করা হচ্ছে। ফুরাডান, রোটেনার, রিটকট ইত্যাদি মারাত্মক বিষ প্রয়োগে মারা হচ্ছে মাছ। ভদ্রা নদী  সংলগ্ন খালে ডিম পারতে আসা পাঙ্গাশ মাছ রোটেনার দিয়ে শিকার করা হচ্ছে। মংলার কিছু সংখ্যক মত্স্য আড়ত্দার জেলেদের দাদন দিয়ে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরাতে বাধ্য করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) মংলার সমন্বয়কারী নূর আলম শেখ জানান, খাদ্যের সন্ধানে বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, শুকরসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণি সুন্দরবনের নদী-খাল-ডোবার বিষ মিশ্রিত পানি পান করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণির প্রজনন এ কারণে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে শ্যালা নদীতে বিরল প্রজাতির ডলফিনের (শুশুক) অস্তিত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবেশবাদীরা।

মংলার এক দল অসাধু জেলে সুন্দরবনে এভাবে মাছ ধরছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বন কর্মকর্তা জানান। তিনি আরও জানান, এক বছর আগে স্থানীয় বন অফিসে দায়িত্ব পালন কালে বিভিন্ন সময় সুন্দরবন থেকে ৪০/৪১ জন জেলেকে তিনি গ্রেফতার করে কয়েকটি মামলা দেন। বর্তমানে বাগেরহাট জেলা আদালতে ২৫টির বেশি বিষ প্রয়োগে মাছ ধরার মামলা বন আইনে বিচারাধীন রয়েছে। দুই এক বছর আগে বছরে গড়ে ৪/৫টি এ ধরনের মামলা রুজু হলেও বর্তমানে এ হার কমে গেছে। তবে বিষ প্রয়োগ করে মাছ  শিকার বন্ধে স্থানীয়দের সচেতন করার লক্ষ্যে বন বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সুন্দরবনের চাদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন।

মংলা উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা বিশ্বজিত্ কুমার দেব জানান, সুন্দরবনের একটি অংশ এ উপজেলায় হলেও, মত্স্য বিভাগের সেখানে কোন কর্তৃত্ব নেই। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নির্বিচারে এ ভাবে পোনা আহরণ ও বিষ দিয়ে মাছ শিকার অব্যাহত থাকলে, আগামী এক দশকের মধ্যেই ২শ’ প্রজাতির মাছ সুন্দরবন থেকে বিলুপ্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

এদিকে মংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. তরুণ কান্তি দাস জানান, বিষ প্রয়োগে শিকার করা মাছ বাজারে বিক্রি হওয়ায় ক্রেতারা তা না জেনেই কিনছেন। পরে এ বিষযুক্ত মাছ খেয়ে অনেকেই পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এমন কি দীর্ঘদিন এ মাছ খেলে মানবদেহে ক্যান্সারের ঝুঁকিও রয়েছে বলে তিনি জানান।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪০
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২০
পড়ুন