কারা হেফাজতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার মৃত্যু
পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা
ইত্তেফাক রিপোর্ট২৭ আগষ্ট, ২০১৫ ইং
কারা হেফাজতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার মৃত্যু
ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন ওরফে ফরহাদের (৪৫) কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় গতকাল সকাল ছয়টার দিকে ফরহাদকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর সকাল ৭টায় চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফরহাদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ফরহাদ ষ্ট্রোকে মারা যায়নি। পরিকল্পিতভাবে তাকে কিছু খাইয়ে মেরে ফেলা হয়েছে।

জানা গেছে, বাড্ডায় চাঞ্চল্যকর চার খুনের মামলার আসামিদের গ্রেফতার অভিযানে গত ১৮ আগষ্ট মাদকসহ ফরহাদকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো। ফরহাদ তার স্ত্রী সুবর্ণাকে নিয়ে মধ্য বাড্ডার প্রগতী সরণীর বাসায় থাকতেন। তিনি তেজগাঁও কলেজ ও গুলশান থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

ফরহাদের বন্ধু নাসির, গুলজারসহ অন্যরা জানান, গত ১৮ আগস্ট রাত ১০টার দিকে বাড্ডা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রগতী সরণীতে অবস্থিত ফরহাদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স চলন্তিকা এন্টারপ্রাইজ থেকে ফরহাদসহ ১৭ জনকে আটক করে। আটক করেই পুলিশ তাদেরকে বাড্ডা থানায় না রেখে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের হেফাজতে রাখে। পরদিন ১২ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়। আর ফরহাদসহ ৫ জনকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

গুলজার বলেন, গত মঙ্গলবারও এলাকার লোকজন ফরহাদকে কারাগারে সুস্থ দেখে যায়। কিন্তু গতকাল সকালে এক ব্যক্তি নিজেকে এসবি’র লোক পরিচয় দিয়ে তাকে ফোন করে বলেন, আপনার বন্ধু ফরহাদ  বেঁচে নেই।

এদিকে, সমপ্রতি বাড্ডার ফোর মার্ডারের সঙ্গে ফরহাদের কোনো যোগসূত্রতা ছিল কি না- জানতে চাইলে বাড্ডার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল বলেন, তাকে মাদকসহ আটক করা হয়েছিল। মাদক মামলাতেই তাকে চালান দেয়া হয়েছিল।

কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী বলেন, বুধবার ভোরে বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল।

ফরহাদের মৃত্যুতে দুপুরে ঢামেক মর্গে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক কর্মীরা। এ সময় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ফরহাদের ষ্ট্রোক করেনি। সে অন্য কোনোভাবে মারা গেছে।

ঢামেক মর্গে নিহতের স্ত্রী সুবর্ণা বলেন, ফরহাদকে পুলিশ আটক করার পর তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য, কাউন্সিলরসহ রাজনৈতিক শীর্ষ নেতাদের একাধিকবার ফোন করেন। কিন্তু কারও ফোন খোলা পাওয়া যায়নি। সুবর্ণার দাবি তার স্বামী কখনও মাদক গ্রহণ করতেন না।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪০
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২০
পড়ুন