আরেক ধাপ এগিয়ে চিকিত্সা সেবা
অধিদপ্তর হচ্ছে সেবা পরিদপ্তর
আবুল খায়ের০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ইং
অধিদপ্তর হচ্ছে সেবা পরিদপ্তর। এর মাধ্যমে চিকিত্সা সেবার মান আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল। যা ছিলো নার্সিং পেশার একটি দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। তা শেষ পর্যন্ত পূরণ হতে চলেছে। নার্সিং পেশা ছিলো সবচেয়ে অবহেলিত। নার্সিং কর্মকর্তারা বলতেন স্বামী-স্ত্রী কিংবা পরিবারের মধ্যে একটি নিয়ম-নীতি রয়েছে। নার্সিং পেশা পরিচালনার ক্ষেত্রে সেটুকুও নেই। ডিপ্লোমাধারী নার্সরা প্রথমে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে যোগদান করে। এই পদে থেকে তারা চাকরি থেকে অবসরে যান। চাকরিতে থাকাকালীন সেবা পরিদপ্তরের শীর্ষ পদে, সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসমূহে নার্সিং সুপার, নার্সিং ইন্সটিটিউট কিংবা নার্সিং কলেজে অধ্যক্ষ পদে চলতি এবং ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তারা। অস্থায়ীভাবে শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করলেও তারা আর্থিকভাবে কোনো সুযোগ পান না। মুখে মুখে তারা শুধু কর্মকর্তা কিন্তু কাগজে-কলমে নন। বর্তমানে এ সকল পদে অনেক সিনিয়র স্টাফ নার্স কর্মরত।    

দেশের ৪৩টি নার্সিং ইন্সটিটিউট থেকে প্রতি বছর দুই হাজার ৫৮০ জন ডিপ্লোমাধারী সিনিয়র স্টাফ নার্স বের হন। বেকারও থাকছেন হাজার হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্স। বিগত দিনে সরকারি হাসপাতালে রোগীদের চাহিদার তুলনায় নার্সের সংকট ও পদশূন্য থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ থেকে বঞ্চিত রাখা হয় তাদের। বর্তমানে সরকারি হাসপাতালে চিকিত্সক অনুপাতে নার্সদের সংখ্যা অনেক কম। আন্তর্জাতিক চিকিত্সা সেবার মানদণ্ড অনুযায়ী চিকিত্সকের চেয়ে নার্স থাকার কথা তিনগুণ বেশি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা এর সত্যতা স্বীকার করেছেন। তারা বলেন, নার্সরা রোগীদের মায়ের, বোনের কিংবা সন্তানের মতো মমতায় সুস্থ করে তোলেন। চিকিত্সক ব্যবস্থাপত্র দিয়ে চলে যান। সেই ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী রোগীর ওষুধপত্র হতে তাদের সুস্থ করে তোলার সকল দায়িত্ব নার্সদের উপর।

তাই চিকিত্সা সেবার মানোন্নয়ন নার্সিংয়ের মানোন্ন-য়নের সঙ্গে ঔতপ্রোত-ভাবে জড়িত। জানা যায়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এক শ্রেণির কর্মকর্তাদের অনমনীয় মনোভাব ও প্রতিহিংসামূলক আচরণে নার্সিং সমাজ বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। ওই সকল কর্মকর্তাদের ক্ষোভ নার্সরা কেন কর্মকর্তা হবেন। কর্মকর্তাদের আরেক গ্রুপ সেবা পরিদপ্তরকে সরাসরি দেখভালের নামে নিয়োগ-বদলিতে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্য করে আসছে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসেই সিনিয়র স্টাফ নার্সদের এন্ট্রি পয়েন্টে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার পদমর্যাদা দেন। বেকার নার্সদেরও নিয়োগ দেন। দীর্ঘদিন বেকার থাকায় যাদের সরকারি চাকরির বয়সসীমা শেষ হয়ে গিয়েছিলো তাদেরও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নিয়োগ দেয়া হয়।

বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চিকিত্সা পেশাকে ঢেলে সাজাতে ১২টি বেসিক বিএসসি নার্সিং কলেজ এবং ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্স চালু করা হয়। এই মিডওয়াইফারি কোর্সে প্রশিক্ষিত নার্সরা গ্রামাঞ্চলে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবার জন্য নিয়োগ দেয়া হয়। সর্বশেষ নার্সিং পেশাকে যুগোপযোগী করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এই নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২৬ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সেবা অধিদপ্তর করার জন্য মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও পরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ৯৪টি পদ সৃষ্টির আদেশ জারি করা হয়। অপরদিকে মহাখালীতে সেবা অধিদপ্তরের ভবন নির্মাণের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। দেশ-বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রিধারী সহস্রাধিক নার্স পদ না থাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এই অধিদপ্তর চালু হলে উচ্চতর ডিগ্রিধারী নার্সদের যোগ্যতা অনুযায়ী সঠিক পদে মূল্যায়ন করা হবে এবং তারাও তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ পাবেন। নার্সিং কলেজ থেকে বেসিক বিএসসি কোর্স সমাপ্তকারী নার্সদের নিয়োগেও আর জটিলতা থাকবে না বলে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নার্সিং পেশার মানোন্নয়নে আন্তরিক। চিকিত্সা সেবার মানের উন্নয়ন নার্সিংয়ের মানোন্নয়ন ছাড়া সম্ভব নয়। সরকার নার্সিং পেশার মান উন্নয়নে সব কিছুই করবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন