কিছু সুবিধাভোগী মহলের কাছে গণতন্ত্র সীমাবদ্ধ -----প্রধান বিচারপতি
সিলেট অফিস০৩ মার্চ, ২০১৬ ইং
কিছু সুবিধাভোগী মহলের কাছে গণতন্ত্র সীমাবদ্ধ -----প্রধান বিচারপতি
প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, যার কাছে ডলার আছে, তার কাছে গণতন্ত্র আছে। আমাদের দেশেও গণতন্ত্র কিছু সুবিধাভোগী মহলের কাছে সীমাবদ্ধ রয়েছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হলে আইনের শাসন বিকশিত হবে না।

হাতে লেখা সাক্ষ্যগ্রহণের পদ্ধতি বদলে সিলেটের ২০টি আদালতে ‘ডিজিটাল এভিডেন্স রেকর্ডিং’ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে গতকাল বুধবার এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। সিলেট জেলা বার হল রুমে জেলা ও দায়রা জজ মনির আহমদ পাটোয়ারির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এমপি, সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. ইমান আলী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলক এবং ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি রবার্ট ওয়াটকিনস।

প্রধান বিচারপতি বলেন, অবসরে যাওয়া কিছু বিচারপতি রায় না দিয়ে ৬/৭ বছর ধরে বিচারপ্রার্থীদের অপেক্ষায় রেখেছেন। আমি যখন বিচারপ্রার্থীদের স্বার্থে দ্রুত রায় লেখার বিষয়টি তুলে ধরি তখন টকশোতে কিছু আলোচক প্রধান বিচারপতিকে হেয় করার চিন্তায় মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশের গণমাধ্যম যথেষ্ট স্বাধীনতা লাভ করেছে। টকশোতে ও গণমাধ্যমে বিচার বিভাগ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আমি সবাইকে স্মরণ করে দিতে চাই, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আছে-কিন্তু এই স্বাধীনতা সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে। ওই অনুচ্ছেদে কিছু বাধা-নিষেধের কথাও বলা আছে। এই স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা থাকা উচিত। অধিক স্বাধীনতা জনগণের মঙ্গলে আসে না।

এস কে সিনহা বলেন, আজকে ৩০ লাখ মামলা জটের কথা বলা হয়। এটা ওভারকাম করতে পারতাম, যদি পুরনো আইনগুলোকে বাদ দিয়ে যুগোপযোগী করা যেতো। তিনি বলেন, ঔপনিবেশিক আমলের আইন দিয়ে আমাদের দেশে বিচার কার্যক্রম চলছে। বিচার বিভাগ ডিজিটালাইজেশনের পাশাপাশি যুগোপযোগী আইন প্রয়োগেরও তাগিদ দেন তিনি। তিনি বলেন, আজ সিলেট থেকে ডিজিটাল প্রক্রিয়া শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহরে এ পদ্ধতি চালু করা হবে।

বিচারপতি সিনহা বলেন, বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে গত এক বছরে নিন্ম আদালতে শতকরা ১০৭ শতাংশ, হাইকোর্টে ১২০ শতাংশ এবং আপিল বিভাগে মামলা নিষপত্তির হার ১৮২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে বছরে ৮৪ দিন ছুটির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ছুটি কমানো প্রয়োজন। কিন্তু কেউ সমর্থন করছে না। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের সাথে সাথে বিচার বিভাগেরও উন্নয়ন করতে হবে। অন্যথায় বিদেশিরা এদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে না।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, সকলে যেন বিচার পায়-এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে মানুষের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে। আমরা অচিরেই সারা দেশকে ই-জাস্টিস সিস্টেমে নিয়ে যেতে চাই। আইনমন্ত্রী বলেন, এটা দেশে বিচার বিভাগে ডিজিটালাইজেশনের নতুন প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে সময়, শ্রম ও খরচ সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি বিচার কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ: গতকাল থেকে সিলেটের ২০টি আদালতে চালু হলো ডিজিটালাইজড পদ্ধতিতে সাক্ষীর সাক্ষ্য লিপিবদ্ধকরণ। ওইসব আদালতে হাতে আর কোন সাক্ষীর জবানবন্দি লিখবেন না বিচারকরা। আদালতের কম্পিউটার কম্পোজকারী সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই সকল পক্ষই তাদের সামনে থাকা কম্পিউটারের মনিটরে ওই জবানবন্দি দেখতে পাবেন। সুপ্রিম কোর্টের সহযোগিতায় ইউএনডিপির অর্থায়নে জুডিসিয়াল স্ট্রেনদেনিং প্রজেক্টের (জাস্ট) আওতায় বিচার বিভাগে এই ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম চালু হলো।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩ মার্চ, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১২:১১
আসর৪:২৪
মাগরিব৬:০৫
এশা৭:১৮
সূর্যোদয় - ৬:১৯সূর্যাস্ত - ০৬:০০
পড়ুন