বিদেশ থেকে আসছে অবৈধ ক্রেডিট কার্ড
বিমানবন্দরে এক হাজার এটিএম কার্ড উদ্ধার
সাইদুল ইসলাম০৩ মার্চ, ২০১৬ ইং
বিদেশ থেকে আসছে অবৈধ ক্রেডিট কার্ড
বিদেশ থেকে খালি কার্ড আমদানি করে তাতে গ্রাহকদের তথ্য সন্নিবেশ করে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে তাদের টাকা। ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতিতে দেশি এবং আন্তর্জাতিক শক্তিশালী চক্র বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা তুলে নেয়ার ঘটনা উদ্ঘাটিত হওয়ার পরও থেমে নেই ওই চক্রের কাজ। গতকাল বুধবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এক হাজার ব্ল্যাংক (গ্রাহক তথ্যবিহীন) এটিএম কার্ড উদ্ধারের পর গ্রাহকদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি আবার সামনে এসেছে।

ব্যাংকিং সূত্রগুলো জানিয়েছে, জালিয়াত চক্র মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বিদেশ থেকে ব্ল্যাংক এটিএম কার্ড আমদানি করে। নামি দামি আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এগুলো আমদানি করা হয়। পরে ওই সব কার্ডে গ্রাহকের তথ্য সন্নিবেশ করে এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়। সাধারণত স্কিমিং ডিভাইস দিয়ে জালিয়াতরা গ্রাহকের তথ্য চুরি করে থাকে।

দেশে সবচেয়ে বেশি এটিএম বুথ স্থাপনকারী বেসরকারি ব্যাংক ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মোঃ শিরিন এ বিষয়ে বলেন, সাম্প্রতিককালে এটিএম বুথ থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের ঘটনা উদঘাটিত হওয়ার পর ব্যাংকগুলো সতর্ক আছে। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো সাধারণত বিদেশ থেকে ব্ল্যাংক এটিএম কার্ড আমদানি করে থাকে। পরে তাতে বিভিন্ন তথ্য সন্নিবেশিত করে তা গ্রাহকদের দেয়া হয়ে থাকে। এটিএম কার্ড জালিয়াতির বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু অসাধু চক্রও ব্ল্যাংক এটিএম কার্ড আমদানি করছে। তারা বিভিন্ন ডিভাইস দিয়ে গ্রাহকদের তথ্য চুরি করছে। পরে সেই খালি কার্ডে গ্রাহকের ওই তথ্য সন্নিবেশিত করে। এ ধরনের ঘটনা শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘটে থাকে বলে তিনি জানান। তবে ভুয়া এটিএম কার্ড দিয়ে প্রতারিত হলে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। কারণ আইন অনুযায়ী গ্রাহকদের অর্থ ফেরত পাওয়ার বিধান রয়েছে।

এদিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুল্ক গোয়েন্দারা যে এক হাজার পিস ব্ল্যাংক এটিএম কার্ড উদ্ধার করেছে তার মালিক খুঁজে পাওয়া যায়নি। জানা যায়, এসব কার্ড হংকং থেকে আমদানি করা হয়েছে। থাই এয়ারওয়েজের নিয়মিত ফ্লাইটে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ডিএইচএলের মাধ্যমে তা ঢাকায় আসে। শুল্ক গোয়েন্দারা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচটি কার্টন তল্লাশি করে কার্ডগুলো উদ্ধার করে। এর বিপরীতে কোনো কাগজপত্রও পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান জানান, এসব কার্ড কারা আমদানি করেছে তা এখনো বের করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তিনি জানান, জালিয়াতির কাজে ব্যবহার করার জন্য এসব কার্ড বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।

উল্লেখ্য, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এটিএম কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা অহরহ শোনা গেলেও বাংলাদেশে এ ধারনের তত্পরতা নতুন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে এ কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে একজন বিদেশিসহ জালিয়াত চক্রের কয়েকজন দেশীয় এজেন্টকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রসঙ্গত বর্তমানে দেশে প্রায় ৯০ লাখ লোক এটিএম কার্ড ব্যবহার করে থেকে। এর মধ্যে সাত লাখ ক্রেডিট কার্ড , বাকিগুলো ডেবিট কার্ড।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩ মার্চ, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১২:১১
আসর৪:২৪
মাগরিব৬:০৫
এশা৭:১৮
সূর্যোদয় - ৬:১৯সূর্যাস্ত - ০৬:০০
পড়ুন