নাম তার ঢাকাইয়া ব্যাঙ
নতুন প্রাণী আবিষ্কার
বারেক কায়সার০৫ মার্চ, ২০১৬ ইং
নাম তার ঢাকাইয়া ব্যাঙ
দেড়শ’ বছর পরে ঢাকায় নতুন প্রজাতির কোনো বন্যপ্রাণি আবিষ্কার করলেন তরুণ প্রাণি বিজ্ঞানী সাজিদ আলী হাওলাদার। সম্প্রতি নতুন প্রজাতির এক ব্যাঙ আবিষ্কার করেছেন তিনি। ঢাকার নামে ব্যাঙটির নামকরণ হয়েছে ‘Zakerana Dhaka’। আর বাংলায় নাম ‘ঢাকাইয়া ব্যাঙ’ রাখার প্রস্তাব করেছেন সাজিদ। গত বুধবার জনপ্রিয় জার্নাল পোলসে এই সংক্রান্ত একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি জানান, ‘Zakerana’ ব্যাঙের একটি গণ, যা ‘Dicroglossidae’ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা কাজী জাকের হোসেনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এই গণের নাম জাকেরানা রাখা হয়েছে।

সাজিদ জানান, নতুন প্রজাতি পাওয়ার ক্ষেত্রে এটা তার পঞ্চম সাফল্য। ২০১১ সালে তার প্রথম স্বীকৃতি মেলে বাংলাদেশের এনডেমিক প্রজাতির ব্যাঙ ‘Fejervarya asmati’ দিয়ে। পরে অবশ্য গণ বদলে এর নাম করা হয় ‘Zakerava asmati’।

এদিকে নতুন প্রজাতির ব্যাঙের আবিষ্কার বিষয়ে সাজিদ জানান, মেগা সিটিতে প্রতিকূল পরিবেশে নতুন প্রজাতির একটি প্রাণি লুকিয়ে ছিল। গত দেড়শ’ বছর এই শহরে নতুন কোনো প্রাণি না পাওয়া গেলেও এই আবিষ্কার ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে। প্রতিকূল পরিবেশে প্রাণ ধারণের ক্ষমতা (অভিযোজিত হওয়ার ক্ষমতা) নির্দেশ করে।

সাজিদ জানান, ব্রিটিশ আমলে ঢাকাতে অনেক গাছপালা, জলাধার এবং নাম না জানা অনেক বন্যপ্রাণিই বসবাস ছিল। আমার জানা মতে, ব্রিটিশ শাসন আমলে ঢাকায় পাওয়া গিয়েছিল সর্বশেষ আবিষ্কৃত বন্যপ্রাণিটি, যা ব্রিটিশ প্রকৃতিবিদ ডব্লিউ থিউল্যান্ড দেড়শ’ বছর আগে আবিষ্কার করেছিলেন।

তিনি তার ফেসবুকে লিখেছেন, আগের সব ধারণ আরেকবার ভুল প্রমাণ করে দিল প্রাথমিক ফলাফল। পৃথিবীর অন্যতম এই ঘনবসতিপূর্ণ শহরেই পাওয়া গেল একটা নতুন প্রজাতির ব্যাঙ, যার পরিচয় ছিল পুরো পৃথিবীর মানুষের কাছেই অজানা! ঢাকার সরু রাস্তার পাশের এই ব্যাঙগুলো আজ পৃথিবীর মানুষের কাছে পরিচিত হলো নিজ পরিচয়ে।

সবচেয়ে মজার বাপার হলো ব্যাঙটির প্রথম সন্ধান মিলে গণভবন এবং সংসদ ভবন এলাকাতেই। রাজধানীর শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেও বর্ষাকালে এই প্রজাতির ব্যাঙের দেখা মেলে। ঢাকা শহরের নামেই দেয়া হলো ব্যাঙটির নাম ‘Zakerana Dhaka’। বাংলাতে বলা যেতে পারে ‘ঢাকাইয়া ব্যাঙ’।

এদিকে সাজিদের এই সাফল্যের উচ্চসিত প্রশংসা করেছেন তার এক সময়ের গবেষণা সহকারী নাসিমুল আহসান। তিনি বলেন, গাছপালা, জলাধার হত্যা করে আমরা ইট-কাঠের জঙ্গল তৈরি করছি। ‘ঢাকাইয়া ব্যাঙের মত আরো কত ব্যাঙ, বন্যপ্রাণি প্রতিদিন হারিয়ে যাচ্ছে– সেই খোঁজ কে রাখে! সাজিদ ভিনদেশে বসে একা একা লড়াই করে যাচ্ছেন। তার লড়াইয়ে শরিক হতে পারাটা ভীষণ সুখকর!

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই ছাত্র বর্তমানে ফেলোশিপ নিয়ে হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ফিনল্যান্ড) জীববিজ্ঞান বিভাগে ব্যাঙের শ্রেণিবিন্যাস বিদ্যার (ট্যাক্সেনমি) ওপর পিএইচডি করছেন। কাজের পরিকল্পনায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম ক্যান্সারের বায়োডাইভার্সিটি ইনস্টিটিউট, পর্তুগালের লিসনো বিশ্ববিদ্যালয়, ইতালির ন্যাচারাল মিউজিয়াম এবং পৃথিবীর অনেক দেশের বিজ্ঞানীদের সহায়তা পেয়েছেন।

২০০৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হন সাজিদ। এরপর থেকে ব্যাঙ, পাখি নিয়ে তার পথচলা। ব্যক্তিগতভাবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাঙের জীবন প্রণালী ও বংশবৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা চালান তিনি। ২০১৩ সালে ফিনল্যান্ডের ‘হেলসিঙ্কি কালচারাল ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড-২০১৩’ লাভ করেন। আগামী বছরই পিএইচডি শেষ করে দেশে ফিরতে চান সাজিদ।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ মার্চ, ২০১৯ ইং
ফজর৫:০২
যোহর১২:১১
আসর৪:২৫
মাগরিব৬:০৬
এশা৭:১৯
সূর্যোদয় - ৬:১৭সূর্যাস্ত - ০৬:০১
পড়ুন