গুপ্ত হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলুন
দেশবাসীর প্রতি নাসিম
বিশেষ প্রতিনিধি১৩ জুন, ২০১৬ ইং
গুপ্ত হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলুন
আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম চলমান গুপ্তহত্যাকারীদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গুপ্তহত্যায় আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যারা এই হত্যার সঙ্গে জড়িত তারা রেহাই পাবে না। খুনি চক্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা বিজয়ী হবই। ১৪ দলের নেতারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে গুপ্তহত্যার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলবে। 

গতকাল রবিবার বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের যৌথসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গুপ্তহত্যা বন্ধে সরকারকে সহযোগিতা করার আগ্রহ জানিয়ে বিএনপি   মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, তাদের যদি এ ব্যাপারে সত্যিকারে আন্তরিকতা থাকে তাহলে সর্বাগ্রে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গ ত্যাগ এবং গুপ্তহত্যাকারীদের উসকে দেওয়ার নীতি পরিহার করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার চক্রান্ত এখনো বন্ধ হয়নি। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক যখন থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে, তখন থেকেই উনি দেশবিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত। বর্তমানে বিএনপি মুসলিম জাহানের শত্রু মোসাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র করছে।

জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি এসব হুমকিতে হাসানুল হক ইনু শুধু নয় আমরা কেউ ভয় পাইনি। ভয় পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। যারা কাফনের কাপড় পাঠায় তারা কাপুরুষ। তাদের হুমকিতে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর গুপ্তহত্যা চালিয়ে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে, একটু তো রক্তক্ষরণ হবেই। ২০০৯ সাল থেকেই চক্রান্ত শুরু হয়েছে। আর এ চক্রান্তে মদদ দিচ্ছেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, এখন আতঙ্কিত হয়ে গেলে হবে না, তাদের মোকাবিলা করতে হবে, পরাজিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমরা আগুনে হাত দিয়েছি। একাত্তরের ঘাতকদের বিচার করছি, এখানে সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ব্যর্থ করার জন্য দেশের নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছিল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল। আজকেও দেশ যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে, অর্থনৈতিক সর্বক্ষেত্রে উন্নতি হচ্ছে, তখনই একটি মহল বাংলাদেশকে টার্গেট করে গুপ্তহত্যা করছে। দেশ যেন শান্তিতে না চলতে পারে তখনই সুপরিকল্পিতভাবে সেই মুখচেনা মহল দেশে সহিংসতা চালাচ্ছে। কিন্তু তাদের কোনো চক্রান্ত সফল হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডো শহরের ‘পালস ক্লাব’ নামে একটি ক্লাবে গতকাল অজ্ঞাত এক বন্দুকধারীর হামলায় ২০ জন নিহত এবং এর আগে তুরস্কে ও ফ্রান্সে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের চিত্র তুলে ধরে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সন্ত্রাস এখন সারাবিশ্বের সমস্যা। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাসগুপ্ত বলেন, গুপ্তহত্যা বন্ধে শুধু মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করলে হবে না। ভবিষ্যতে যাতে গুপ্তহত্যার নামে সংখ্যালঘুরা আর নির্যাতিত না হয় সেজন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

দেশে চলমান গুপ্তহত্যার প্রতিবাদে আগামী ১৯ জুন দেশব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি সফল করতে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের এ যৌথসভায় অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দী, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্ত, জাসদের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া, গণতন্ত্রী পার্টির নূরুর রহমান সেলিম, জাসদের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক শিরীন আক্তার ছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, দলের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ১৪ জুন ঝিনাইদহ এবং ১৭ জুন পাবনায় ১৪ দলের শান্তি সমাবেশ করার কর্মসূচি গৃহীত হয়।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন