চট্টগ্রামে ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসন
ফুটপাতের খোলা বাজার থেকে চকচকে সুপারশপ। একদিকে পণ্যে ভেজাল, অন্যদিকে মূল্য নিয়ে কারসাজি চলছে চট্টগ্রামের বেশিরভাগ ভোগ্য ও খাদ্যপণ্য প্রতিষ্ঠানে। রমজানকে পুঁজি করে ইচ্ছেমতো মুনাফা লুট করছে দোকানিরা। প্রশাসনও রীতিমতো কোমর বেঁধে নেমেছে এসব প্রতিরোধে। তবুও ভয় পাচ্ছে না ভেজাল আর কারসাজির কারিগররা।

প্রথম রমজান থেকেই খাদ্যপণ্যে ভেজাল ও মূল্য কারসাজি রোধে সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। জানতে চাইলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান মুক্ত ইত্তেফাককে বলেন, ‘একযোগে ৪/৫টি টিম অভিযান পরিচালনা করছে। প্রতিদিন জরিমানা করা হচ্ছে। ভেজাল ও নষ্ট পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। কয়েকজনকে ইতিমধ্যে জেলও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও পরদিন নতুন অভিযানে আরেক জায়গায় ঠিকই ভেজাল ও কারসাজি ধরা পড়ছে।’

দেখা যাচ্ছে- যেসব দোকান, প্রতিষ্ঠান কিংবা বাজারে অভিযান করা হচ্ছে সেখানে পুনরায় অনিয়ম করছেন বিক্রেতারা। রোজার শুরুর দিকে নগরীর স্টিল মিল বাজারে অভিযান চালিয়ে চার ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে জরিমানা করা হয়। বাকিদের সতর্ক করা হয়। কিন্তু গত শনিবার পুনরায় ওই বাজারে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা পণ্যমূল্য প্রদর্শন করেননি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয় করছেন। এ সময় চারজনকে জরিমানা করা হয়। একইচিত্র দেখা গেছে কর্ণফুলী বাজারেও।

তবে অব্যাহত অভিযানের ফলে ক্রেতারা কিছুটা হলেও স্বস্তি পাচ্ছেন দাবি করে জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, ‘স্টিল মিল ও কর্ণফুলী বাজারে ওই চিত্র দেখা গেলেও অভিযানের পর থেকে রেয়াজউদ্দিন বাজারের চিত্র পাল্টে গেছে। শনিবার দ্বিতীয় দফায় ওই বাজারে গিয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বেচাকেনা চলতে দেখা গেছে। এমনকি নির্দেশ মোতাবেক প্রত্যেক দোকানে মূল্যতালিকাও প্রদর্শন করা হয়েছে। আমরা ভেজাল ও কারসাজি প্রতিরোধের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, রমজানে ছোলা, চিনি, সয়াবিন, খেজুরসহ নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম না নিতে ব্যবসায়ীদের সাথে কয়েক দফায় বৈঠক করে জেলা প্রশাসন। এসব বৈঠকে ব্যবসায়ী, আড়তদার, আমদানিকারক ও দোকান মালিকরা বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি না করার আশ্বাস দেন। কিন্তু রোজার শুরু থেকেই নগরীর বাজারগুলোতে পাইকার, আড়তদার থেকে শুরু করে খুচরা ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দামে পণ্য বিক্রি করতে শুরু করেন।

গত বুধবার খাতুনগঞ্জে ৪৬ টাকা দামের চিনি প্রতিকেজি ৫৮ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। এ সময় মীর ট্রেডার্সের মালিক আবদুস সালাম ও জানে আলমকে ২০ লাখ ও মাসুদ ব্রাদার্সের কর্মকর্তা রূপন দাসকে মাত্রাতিরিক্ত দামে ছোলা বিক্রির অপরাধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভেজাল, অনিয়ম আর কারসাজিমুক্ত নয় চকচকে সুপারশপগুলোও। গত শুক্রবার নগরীর আগোরা, খুলশী মার্ট, দি গ্রোসার্স, মীনাবাজার ও স্বপ্নকে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মাত্রাতিরিক্ত দাম ও পচা-বাসি পণ্য বিক্রির অপরাধে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

গতকাল রবিবার অক্সিজেন এলাকায় নিম্নমানের সয়াবিন ও পাম তেল মিশিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বোতলে ভরার সময় দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ও তিনজনকে আটক করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে বিএসটিআই এর সনদও নেই। এর আগে কাটগড় বাজারে ৩৬ কেজি নষ্ট খেজুর ও চিপস জব্দ করা হয়। এছাড়া পণ্যমূল্য প্রদর্শন না করা ও মেয়াদোত্তীর্ণ ভোগ্যপণ্য বিক্রয়ের অপরাধে তিন খুচরা বিক্রেতাকে ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও ওইদিন বিভিন্ন অপরাধে বন্দরটিলা বাজার, স্টিলমিল বাজার, পাহাড়তলী বাজার,  কর্ণফুলী বাজারে অভিযান চালিয়ে ১৫ জন খুচরা বিক্রেতাকে জরিমানা করা হয়।

রেস্টুরেন্টগুলোতেও পাওয়া গেছে নোংরা, অস্বাস্থ্যকর ও ভেজালের চিত্র। শনিবার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চকবাজারের জামান হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট, ইসলামিয়া হোটেল, স্নোপি, ডাইন আউট রেস্টুরেন্টকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন