কল্যাণপুর ও গুলশানের জঙ্গিরা একই গ্রুপের
১৩ গ্রেনেড, ৫ কেজি বিস্ফোরক, ১৯ ডেটোনেটর, বিভিন্ন অস্ত্র-গুলি ও ‘আল্লাহু আকবর’ লেখা কালো পতাকা উদ্ধার :ডিএমপি কমিশনার
বিশেষ প্রতিনিধি২৭ জুলাই, ২০১৬ ইং
কল্যাণপুর ও গুলশানের জঙ্গিরা একই গ্রুপের
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ‘রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে নিহতদের পোশাক, কথার ধরন, ব্যবহার্য জিনিসপত্র সবকিছু দেখে মনে হয়েছে তারা সবাই উচ্চশিক্ষিত ও এলিট শ্রেণির। গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার ধরনের সঙ্গে এর মিল রয়েছে। প্রাথমিক তথ্য প্রমাণে জানতে পেরেছি গুলশানের জঙ্গিরা ও কল্যাণপুরের জঙ্গিরা একই গ্রুপের।’

গতকাল মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কল্যাণপুরের তাজ মঞ্জিল নামের ভবনে তল্লাশি চালানো হয়। এসময় ৬ তলা ভবনের ৫ তলা থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে জঙ্গিরা বোমা নিক্ষেপ করে। তাত্ক্ষণিক পুলিশও পাল্টা গুলি ছোঁড়ে এবং দ্রুত ডিসি মিরপুরের নেতৃত্বে আমাদের ডিএমপি ফোর্স পুরো বাড়িটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। সন্ত্রাসীরা ভেতরে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি তুলে গুলি ও বোমা ছুঁড়তে থাকে। এক পর্যায়ে বাড়ির পেছন দিকে চালা বাড়ির ওপরে দু’জন জঙ্গি লাফ দিয়ে পড়ে এবং পুলিশের ওপর বোমা নিক্ষেপ করে। তাত্ক্ষণিক পুলিশ পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। পুলিশের গুলিতে  এক জঙ্গি আহত হয়। আমরা তাকে গ্রেফতার করি। তাকে পুলিশি হেফাজতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। পরবর্তীতে আমরা জেনেছি তার নাম হাসান।

তিনি আরও বলেন, পুরো বিল্ডিং চারদিক দিয়ে ঘিরে ফেলার পর আমরা অভিযানের পরিকল্পনা করি। এরই মধ্যে আমাদের নবগঠিত কাউন্টার টেরোরিজমের সকল অফিসার, ডিএমপির বিশেষায়িত সোয়াত টিম রাত আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তারপর তারা এলাকার অবস্থান, বিল্ডিংয়ের অবস্থান, এন্ট্রি সব দিক বিবেচনা করে একটি অভিযান পরিকল্পনা করে। পরে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে রাতে মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজি) এবং আমার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ভোর ৫টা ৫১ মিনিটে সোয়াত টিমের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়।

কমিশনার বলেন, এই অভিযানে সোয়াত টিমকে সহযোগিতা করেছে আমাদের থানা পুলিশ এবং অন্যান্য ডিএমপি ফোর্স। সোয়াত টিমের নেতৃত্বে অভিযানে ঘণ্টাব্যাপী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গুলি বিনিময় হয়। সন্ত্রাসীরা তাদের পিস্তল, বোমা এবং লোকাল মেইড গ্রেনেড দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। এসময় ঘটনাস্থলে ৯ জন জঙ্গি নিহত হয় এবং আমাদের একজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

জঙ্গিদের আস্তানা থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার জানান, ঘটনাস্থল থেকে আমরা ১৩টি লোকাল হোমমেইড গ্রেনেড উদ্ধার করেছি, যেটি আমাদের বোম ডিসপোজাল টিম নিষ্ক্রিয় করেছে। এছাড়া জঙ্গিদের ওই আস্তানা থেকে আমরা বিপুল পরিমাণ অন্যান্য গোলাবারুদ উদ্ধার করেছি। যার মধ্যে রয়েছে:জেল বিস্ফোরক প্রায় ৫ কেজি, ডেটোনেটর ১৯টি, ৭.৬২ রাইফেল ৪টি, ২২ রাউন্ড গুলি, পিস্তল ৪টি, ম্যাগজিন ৭টি এবং পিস্তলের ২২ রাউন্ড গুলি। এছাড়া একটি তালোয়ার, তিনটি চাকু, ১২টি গেরিলা চাকু, আরবিতে ‘আল্লাহু আকবর’ লেখা দুটি কালো পতাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, জঙ্গিদের সবারই বয়স ছিল ২০-২৫ বছরের মধ্যে। তাদের পরণে ছিল কালো পাঞ্জাবি ও জিন্সের প্যান্ট। একজন ছাড়া বাকি সবার পায়ে কেডস ছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই জঙ্গি দল গত ২০ জুন এই বাসাটি ভাড়া নিয়েছিল। এখানে তারা তাদের বিশেষ অভিযানের জন্য সবাই মিলিত হয়েছিল।

কমিশনার আরো বলেন, এই অভিযানটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম সফল একটি অভিযান। যেখানে শতভাগ জঙ্গি নিশ্চিহ্ন হয়েছে এবং আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। অভিযানে সহায়তার জন্য নাগরিক, গণমাধ্যমকর্মী ও পুলিশকে ধন্যবাদ জানান ডিএমপি কমিশনার। নিহত জঙ্গিদের নাম, পরিচয় ও ঠিকানা জানা যায়নি বলে তিনি জানান। তাদের ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া হবে। সেখান থেকে পরিচয় খোঁজা হবে বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনের আগে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানোর সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে মোট ১১টি গ্রেনেড ছোঁড়ে জঙ্গিরা। গতকাল সকাল ৭টায় ‘স্টর্ম টোয়েন্টি সিক্স’ কোডনেমের এই অভিযান শেষ করেন ডিএমপি অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মারুফ হাসান। তিনি বলেন, ভোর ৫টা ৫১ মিনিটে কল্যাণপুরের জাহাজ বিল্ডিং নামের ওই বাড়িটিতে অভিযান শুরু করে সোয়াত, র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ জুলাই, ২০২১ ইং
ফজর৪:০২
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:০৮
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
পড়ুন