দুদকে আস্থা নেই মানুষের
টিআইবি’র গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য * দুদককে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের প্রবণতাও রয়েছে : ড. ইফতেখার * অনেককে গ্রেফতার করা হলেও তাদের কিছুই হচ্ছে না : সুলতানা কামাল
ইত্তেফাক রিপোর্ট০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
দুদকে আস্থা নেই মানুষের
আইনগতভাবে স্বাধীন থাকলেও তদন্ত প্রক্রিয়ার দুর্বলতা ও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের প্রবণতার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি বলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ টিআইবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ‘দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ উদ্যোগ: বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের ওপর পর্যালোচনা’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের ওপর ভিত্তি করে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। প্রতিবেদনে দুদকের কার্যকারিতা বাড়াতে ১১ দফা সুপারিশ করেছে টিআইবি।

দুদক নিয়ে আশার সঞ্চার হলেও জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সংস্থাটির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সার্বিক বিবেচনায় দুদক মধ্যম স্কোর পেয়েছে। ১০০ এর মধ্যে দুদকের স্কোর ৬১ দশমিক ২২ শতাংশ। ৫০টি নির্দেশকের ওপর গবেষণা করে এই স্কোরটি নির্ণয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১টি নির্দেশকে উচ্চ স্কোর পেয়েছে দুদক। ১৯টিতে মধ্যম এবং নয়টিতে নিম্ন স্কোর পেয়েছে সংস্থাটি। জনগণের ধারণা সূচকে দুদক সবচেয়ে কম স্কোর পেয়েছে। এই সূচকে দুদকের স্কোর ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আর সর্বোচ্চ পেয়েছে ‘আইনি স্বাধীনতা ও অবস্থান’ সূচকে, ৭৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুদকের তদন্ত প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা রয়েছে। জনগণের আস্থা না পাওয়ার অন্যতম কারণ এটি। অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে অভিগম্যতা সহজ নয়। এছাড়া কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। দুদকের জন্য বরাদ্দ দেয়া বাজেটও অপ্রতুল। এই বাজেট স্বল্পতার কারণে দুদক কার্যকর হতে পারছে না। পর্যবেক্ষণ, জবাবদিহিতা বা তদারকির ক্ষেত্রেও দুর্বলতা রয়েছে সংস্থাটির।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতি করলে আইনের মাধ্যমে তাকে শাস্তি দেওয়া সম্ভব। এই বার্তাটি মানুষের কাছে এখনো পৌঁছায়নি। মানুষের ধারণা অনুযায়ী, দুদক আস্থার জায়গাটা অর্জন করতে পারেনি। অপরদিকে  দুদককে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের প্রবণতাও রয়েছে। পাশাপাশি দুদকের নেতৃত্ব ঘাটতি রয়েছে। এসব কারণে দুদক জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারছে না। তিনি বলেন, দুদকের আইনি কাঠামোটা খুবই ভালো। কিন্তু যথাযথ প্রয়োগের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। এক্ষেত্রে গবেষণা প্রতিবেদনের কিছু সুপারিশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজেট আরো বৃদ্ধি করার দিকে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। দুদককে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মামলা তদন্তের প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারকে আরো স্বচ্ছ হতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিরোধীদলের প্রতিনিধি রাখতে হবে। কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

ড. ইফতেখার আরো বলেন, যেসব ক্ষেত্রে দুদক ভালো স্কোর পেয়েছে, সেগুলো ধরে রাখা দুদকের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ। এমন কোনো আইন প্রণয়ন বা সংশোধন করা যাবেনা, যাতে তাদের স্বাধীনতা খর্ব হয়। তিনি বলেন, কোনো দেশেই কমিশন এককভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তবে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। কিন্তু তার সঙ্গে সম্পূরক অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলোকেও ভূমিকা রাখতে হয়। এক্ষেত্রে বিচারবিভাগ, নির্বাহী বিভাগসহ সব প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল বলেন, প্রতিবেদনটি প্রচন্ড নেতিবাচক অবস্থানে নেই। এতে কিছু কিছু ইতিবাচক দিক ও নির্দেশনা রয়েছে। এ থেকে আমাদের সামনে তাকানোর অনেক সুযোগ রয়েছে। আজকাল আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যালোচনা করতে গিয়ে যে অবস্থা দেখা যায়, সে তুলনায় দুদক অনেক বেশি আশাবাদি করে তুলেছে আমাদের। তারপরও কিছু উদ্বেগের বিষয় কিন্তু রয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের আস্থার জায়গায় দুদক সবচেয়ে কম স্কোর পেয়েছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, আমরা দেখছি অনেককেই গ্রেফতার করা হচ্ছে, জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারপর একটা পর্যায়ে দেখা গেছে, তাদের কিছুই হচ্ছে না। এই কারণেই তো জনগণের মধ্যে বিশ্বাসটা আসছে না। এটা কিন্তু সমাজে এক ধরণের অস্থিরতা তৈরি করে। সমাজে যদি দুর্নীতি প্রতিরোধ না হয়, দুর্নীতি দমন যদি আইনি প্রক্রিয়ায় না হয়, তখন মানুষের জীবনযাত্রায় এর একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে টিআইবির গবেষক অধ্যাপক ড. সালাউদ্দিন এম আমিনুজ্জামান ও ড. সুমাইয়া খায়েরসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন