ঠাকুরগাঁও সীমান্তে অচেনা মুখের আনাগোনা বাড়ছে
জঙ্গি সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ এলাকাবাসীর
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীনের বাংলাদেশ (জেএমবি) সদস্যরা ১১ বছর পর আবারো সীমান্তবর্তী জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে।  অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বাড়ছে বলে জানান জেলার সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা। এতে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে।

সম্প্রতি হরিপুর উপজেলার বরিয়াল এলাকা থেকে সাহেব জান নামে এক জেএমবি সদস্যকে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশ। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তলের পাশাপাশি তিনটি  গুলি ও দুটি দেশীয় ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়াও ঠাকুরগাঁও সরকার পাড়া এলাকার এনতাজুল রহমানের ছেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র আবু হাসনাত ও দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র আবু হান্নানকে জঙ্গি সংগঠনের সাথে সংযুক্ত থাকায় পুলিশ  গ্রেফতার করেছে। আবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার গড়নড়পুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে জিহাদি বই ও লিফলেটসহ সাতজনকে আটক করে পুলিশ। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জ উপজেলার শাহানুর রহমান নামের একজন রয়েছে। এতে সীমান্ত এলাকার মানুষের মাঝে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ বলেন, জেএমবির সাংগঠনিক কাঠামো অনেক আগেই ভেঙে গেছে। তবুও সক্রিয় হতে পারে জেএমবি। তাই সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজরে আছে।

সূত্র জানায়, জেএমবির সাবেক প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক সময় সীমান্তবর্তী হরিপুর উপজেলার বেশ কয়েকজনের যোগাযোগ এবং জেএমবির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরি সম্পৃক্ত ছিল। তাদের অনেক নিকট আত্মীয় ওই সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বোমা বানাতে গিয়ে এবং বন্দুকযুদ্ধে হতাহত হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখি হলে তত্পর হয়ে ওঠে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

তাদের তত্পরতা এবং সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের ধরাশায়ী হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো এ এলাকায়ও জেএমবির কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সম্প্রতি দেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ড মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে নড়েচড়ে বসে এ এলাকায় ঘাপটি মেরে থাকা ওই সংগঠনের সদস্যরা। তারা গোপনে রানীশংকৈল ও হরিপুর সীমান্ত এলাকায় সংগঠিত হতে থাকে বলে সূত্র জানায়।

এদিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জোর তত্পরতায় এবং সারা দেশে জঙ্গিবিরোধী কর্মকাণ্ড জোরদার হওয়ায় জেএমবির অনেক সদস্য দুর্গম সীমান্তবর্তী হরিপুর উপজেলাকে নিরাপদ মনে করছে এবং এখানে অবস্থান করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এ উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থাও তেমন উন্নত নয়।

মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্নভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি প্রায় সময় ঘটে থাকে। রানীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে রাজশাহী, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের লোকজনের বসতি বেশি। তাই এখানকার লোকজনকে এ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দারা তেমন চেনে না। তাদের বাড়িতে কারা কখন আসা-যাওয়া করছে বা তারা এখানকার নাকি বাইরের এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারছেন না স্থানীয়রা।

এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এলাকায় বাইরে থেকে অপরিচিত লোকজন এখানে আসা-যাওয়া করছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়। সূত্র জানায়, একেক দিন একেক রকম লোক এলাকায় আসছে। তাদের চেনা যাচ্ছে না। জানতে চাইলে বাইরে থেকে এখানে এসে বসবাসকারী অনেকে বলছেন, তাদের আত্মীয়। আসলে আত্মীয় নাকি অন্য কিছু। এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাদের ধারণা, জেএমবি সদস্যরা অনেকটা নিরাপদ এলাকা হিসেবে হরিপুর উপজেলার দুর্গম গ্রামগুলোতে আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

 এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম বলেন, বাইরের লোকজনের আনাগোনার বিষয়ে আমরা সজাগ আছি।

রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক মুঠোফোনে বলেন, ঠাকুরগাঁওসহ রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় জেএমবিসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সংগঠিত হওয়ার বিষয় নিশ্চিত হয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সদস্যদের বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা বিভিন্ন সময়ে এ অঞ্চলে জঙ্গি তত্পরতার সঙ্গে যুক্ত ছিল ও বিভিন্ন নাশকতার মামলায় জামিনে বেরিয়ে আত্মগোপনে থেকে আবারও জঙ্গি হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তাদের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন